শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘মুখ্যমন্ত্রী নিজে এদিন সওয়াল করেন নি। তিনি পিটিশনার হিসাবে কোর্টে হাজির ছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা ঘুরিয়ে তাকে থামানোর চেষ্টা করেছেন। তারপরেও স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে উনি ওনার কাজ করেছেন।’ এভাবেই বুধবার সুপ্রিম কোর্টে মমতার আইনজীবী হিসেবে যাওয়া নিয়ে তীব্র সমালোচনা করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ওনার অনুবাদক নিয়ে যাওয়া উচিত ছিলেন। সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জী ওটাকে সংশোধন করছিলেন। যেভাবে ভুল ইংরাজি বলছিলেন, তা রাজ্যের পক্ষে লজ্জার। মূলত উনি বা ওনারা প্রথম দিন থেকে দুটো কাজ করার মরিয়া চেষ্টা এক এসআইআরকে ভন্ডুল করা। দ্বিতীয়ত ২০২৪ সালে বাংলাদেশি ও মৃত ভোটার তালিকায় নির্বাচন করতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। যা ইতিমধ্যে ওনার বিএলও-রাই বাদ দিয়েছেন। তাদের সুপারিশেই পরিচ্ছন্নতার সঙ্গেই ৫৮ লক্ষ নাম বাদ হয়েছে।’
বুধবার প্রেস কনফারেন্স করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘গত ২-৩ দিন ধরে এসআইআর নিয়ে নাটক ও মিথ্যা প্রচার চালানোর চেষ্টা চলছে। প্রথম দিন কমিশনকে নিশানা, দিল্লি পুলিশকেও আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। উলটে দিল্লি পুলিশ ওনার মিথ্যাচার ফাঁস করেছেন। উনি ইসিআইকে নিশানা করেছিলেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অহংকারী, মিথ্যাবাদী বলে তোপ দাগেন তিনি। গতকাল সাংবাদিক সম্মেলনে থেকেও উনি এসআইআরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।’
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘সব পক্ষকে হলফনামা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূল টার্গেট যেটা ছিল মাইক্রো অবজারভার আটকানো। মাইক্রো অবজারভার নিয়োগে অসুবিধাটা কোথায়? ভারতের ১২ রাজ্যে এসআইআর হচ্ছে কেন বাংলায় মাইক্রো অবজারভার? কারণ এসডিও র্যাঙ্কের ইআরও, কমিশনের নির্দেশ মেনে নিয়োগ করেনি রাজ্য। ২২৫ জন যারা ইআরও যারা হতে পারেন না তাদের নিযুক্ত করেছেন মমতা প্রশাসন। কানাগলিতে ঢুকেছেন মমতা ও তার প্রশাসন।’ কমিশনের গাইডলাইন না মেনে ইআরও নিয়োগ নিয়েও এদিন তোপ দেগে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আপনি নিয়ম ভেঙেছেন। কমিশনকে সহযোগিতা করেন নি।’
সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সওয়ালকে তীব্র কটাক্ষ করেছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রাজ্য বিজেপির অন্যতম শীর্ষ নেতা সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘দিল্লিতে ড্রামা করলেন মমতা ব্যানার্জি। প্রথমে বঙ্গভবনের সামনে ড্রামা করলেন তারপর তার নাটক চলল নির্বাচন কমিশনে ও একেবারে শেষে সুপ্রিম কোর্টে। মমতা ব্যানার্জি সুপ্রিম কোর্টের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নির্বাচন কমিশনকে হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন বলে দিলেন। বিচারপতির অনুমতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রাজনৈতিক ভাষণ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে বলেছিল আপনার আইনজীবী অত্যন্ত দক্ষ আমরা তাঁদের কথাই শুনবো। এর থেকে খারাপ শব্দে সুপ্রিম কোর্ট একজন মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে পারেন না যে আপনি চুপ থাকুন, আপনার কথা আমরা শুনতে চাইছি না।’