সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
“ভবানীপুর ছোট কেন্দ্র। মাত্র ২.৬ লক্ষ ভোটার রয়েছে। সেখান থেকে প্রথমে ৪৪ হাজার ও পরে আরও ভোটারদের নাম বাদ দিয়েছে। তাহলে ভোটার থাকল কোথায়! ভবানীপুরে আমিই জিতব। এক ভোটে হলেও জিতব। সেই বিশ্বাস ও ভরসা আছে।” BJP র সঙ্গে গোপন আঁতাতে জাতীয় নির্বাচন কমিশন বৈধ ভোটারদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে উড়িয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে হুংকার দিলেন মমতা।
মমতার নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বৈধ ভোটারদের নাম কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “এখানে ২.৬ লক্ষ ভোটার আছে। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সিতে ১৪ হাজার আরও ২০০০ কেটেছে নাম। আমি চেষ্টা করেছি। ভোটার কোথায়! কেন মিসিং? কোথায় তাঁরা? আমি তো চেষ্টা করেছি। ওরা জেনেশুনে নাম কেটেছে। আমার ভবানীপুর বিধানসভা ছোট একটি কেন্দ্র। আমার কেন্দ্র থেকে ৬০ হাজার ভোটারের নাম কাটা হচ্ছে। কিন্তু তার পরেও আমি বলছি, আমি ভবানীপুর থেকে জিতব, এক ভোটে হলেও জিতব।”
সোমবার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত দোল ও হোলি মিলন উৎসবে ছোট ছোট শিশুদের অনুরোধে ডান্ডিয়া নাচে মেলানোর পাশাপাশি অংশ নেন পাঞ্জাবিদের ভাঙ্গড়া নাচেও। সেই সঙ্গে বাংলার মানুষকে জানান দোল, হোলি এবং রমজানের শুভেচ্ছা। একইসঙ্গে দোল ও হোলির মিলন উৎসবের অনুষ্ঠানে কলকাতার সঙ্গে কল্যাণীর সংযোগকারী বিশ্বমানের ৪৫ কিমি দীর্ঘ সুপার হাইওয়ে-কল্যানী এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। এটি তৈরি করতে রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫০০ কোটি টাকা। এই প্রকল্প প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে কেবল একটি সড়ক নয়, এটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের প্রতীক। আমরা চাই, রাজ্যবাসী প্রত্যেকে উন্নয়নের সুফল ভোগ করুক।পাশাপাশি পূর্ব ঘোষণা মতো এসআইআর আতঙ্কে যে ৬১ জন রাজ্যবাসীর মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের পরিবারের একজন করে সদস্যের হাতে তুলে দিলেন হোমগার্ডের চাকরির নিয়োগপত্র।
বাংলার ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে এক কোটির বেশি ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,
“আমি আজকের সব নাচ উপভোগ করলাম। দোল যাতে শান্তি এবং সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে কাটে তার জন্য বলব।
SIR-এ ১.২০ কোটি নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা! ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মমতা
জৈন কমিটি একটা অনুরোধ করেছিল নিউ টাউনে জমি চাই। জৈন মন্দির তৈরির জন্য। আমি বিশ্ব বাংলা গেটের পাশে একটা জমি দেখেছি। বিশ্ববাংলা গেট থেকে ৬০০ মিটারের মধ্যে ৫ একর জমিয়ে রয়েছে। আপনারা মন্দির তৈরি করুন।
আমাদের বাংলার প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে চলেছেন। তাঁরা সব হারিয়ে বসে রয়েছেন। আমার মন ভাল নেই।
বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে গিয়েছে, তাঁর নাম কেটে গিয়েছে।
জেনুইন ভোটারের নাম কাটা হয়েছে। সব তথ্য দেওয়ার পরও নাম কেটেছে। নির্বাচন কমিশন পক্ষপাত দুষ্ট হয়ে কাজ করছে। ভ্যানিশ কুমার ভ্যানিশ করছে।
মানুষের গণতন্ত্র বিপন্ন। ৫৮ লক্ষের নাম বাদ গিয়েছে ভেরিফিকেশন ছাড়াই।
এখানকার একজন বদমাইশ লোক আছে, সব দোষ বিএলও-দের উপর দিচ্ছে। বিএলও, ইআরও, এইআরও-রা ভাল কাজ করছে। সব দোষ বিজেপির।
আমি আজ জানতে পেরেছি কালকে বিজেপির বিএলওর মৃত্যু হয়েছে। গতকালও একজন ব্যক্তি বিচারাধীন তালিকায় ছিলেন, ব্রেনস্ট্রোকে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
পাসপোর্ট, সার্টিফিকেট সহ সমস্ত নথি দেওয়ার পরও তাঁরা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে ভোটের আগে ভোট করাতে চাইছে। বাংলার মানুষ জবাব দেবে। ওরা গণতান্ত্রিক ভাবে লড়াই করতে পারছে না। তাই পক্ষপাতদুষ্ট সংস্থা দিয়ে কাজ করাতে চাইছে।
মাইক্রোঅবজার্ভাররা বিজেপি অফিস থেকে নাম কেটেছে। দিল্লির বিজেপির পার্টি অফিস থেকে নাম কাটছে আর এখানে ফাইভ স্টার রথযাত্রা পালন করছে।
এই রথযাত্রা আপনাদের শেষ রথযাত্রা। বিনাশ যাত্রা হবে।
সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছি। আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে সহযোগিতা করেছি। ধৈর্য্য ধরেছি। কিন্তু ইচ্ছাকৃত নাম বাদ দিয়েছে। মানুষ কিন্তু তৈরি আছে।
এটা ঠিক যার নাম উঠেছে সে এই দুঃখ বুঝবেন না। প্রতিবেশীর নাম কাটলে সে বুঝবে। তবে আজ ওর কেটেছে কাল আপনার কেটেছে।
আমি শক্ড। এরা অমানবিক, ভিনডিকটিভ কাজ করছে। ভীরু মানুষ পিছন থেকে লড়াই করে। ওরা জেনেশুনে নাম কেটেছে।

আমার জীবন স্ট্রাগল করে শুরু হয়েছে। মৃত্যুও হবে স্ট্রাগল করে। সবাইকে ভয় দেখাতে পারলেও আমাদের পারবে না।
আমার বিশ্বাস আছে ভগবানে, বিশ্বাস আছে মায়ের উপর, বিশ্বাস আছে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধদের প্রতি। আমি ধরনায় বসব, আমায় মোরাল সাপোর্ট দেবেন।”