সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘ইভিএম কেন্দ্রীয় সরকার তৈরি করে, খারাপ হলে ভোট করতে দেবেন না।’ শনিবার মালদহের মানিকচকের নির্বাচনী জনসভা থেকে এভাবেই বাংলার মানুষকে সতর্ক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন মানিকচকে জনসভা তিনি বলেন, ‘সরকারের নাম করে অ্যাকাউন্ট নম্বর চাইতে পারে, দেবেন না। নাম কাটবে। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে গ্রামে গ্রামে ভোট আটকানোর চেষ্টা করবে। ইভিএম কেন্দ্রীয় সরকার তৈরি করে। খারাপ হলে ভোট করতে দেবেন না। বলবেন নতুন আনুন। গণনার চার দিন যদি লোডশেডিং করে, মা-বোনেরা রাত জেগে পাহারা দিন। নেতারা নয়, তৃণমূলের কর্মীরাই সম্পদ। রাত জেগে কাজ করতে হবে। ট্রেন, বাসে করে যাতে গুন্ডা না ঢোকে, দেখবেন। বাইরে থেকে কারা আসছে, কোন হোটেলে থাকছে, দেখবেন।’
সেই সঙ্গে বাইরে থেকে টাকা আমদানির অভিযোগ তুলে বলেন, ‘টাকা আমদানি হচ্ছে বাইরে থেকে। কেন্দ্রীয় সরকার এর সঙ্গে যুক্ত। এজেন্সিকে দিয়ে এ সব করছে। আমি ভয় পাই না। আপনারাও পাবেন না। বাংলায় জিতে বাংলাকে টার্গেট করেছে। আগামী দিন তৈরি থাকুন মোটাভাই। আমরা দিল্লিকে টার্গেট করছি। বিনাশকালে বুদ্ধিনাশ। হঠাৎ করে দেখবেন, নিজেরাই নিজেদের পতন ঘটাবেন। অপেক্ষা করব সেই দিনের জন্য। ইডি আর সিবিআই, মোটাভাই। তাঁর কাজ কী? সব মানুষের নাম কাটো। বাংলাকে বিক্রি করো। অফিসারদের মধ্যে ঝগড়া লাগাও। দাঙ্গা করে যারা ক্ষমতায় আসে , তারা কি মানুষের দুঃখ বোঝে? গণতন্ত্রে বদলা নিতে হবে? শুধু দেয় ভাঁওতা। শয়তান সরকার।
মা-বোনেদের স্বার্থে, মাছ খাওয়ার স্বার্থে মানুষ বিজেপিকে ভোট দেবেন না। আপনাদের দিয়ে লাইন দেওয়ায়। খেলা হবে। ২০২৪-এর তালিকায় কেন এখানে ভোট হবে না? তিন মাস আগে নোংরা খেলা খেলতে নেমেছে। জীবন রক্ষা করার জন্য সকাল সকাল ভোট দিন। তৃণমূলকে ভোট দিন। অশান্তির মধ্যে যাবেন না। এলাকা থেকে ৪০ জন ছেলেকে তুলে নেবে। যেটা মালদহে করেছে।’
মালদহে শনিবার তিনটি জনসভা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমটি ছিল মানিকচকে। তার পরেই মালতীপুরের সামসি কলেজ মাঠে পৌঁছে যান তিনি। মালতীপুর কেন্দ্রের প্রার্থী আব্দুর রহিম বক্সী এবং রতুয়া কেন্দ্রের প্রার্থী সমর মুখোপাধ্যায়ের সমর্থনে সেখানে জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল। মমতার তৃতীয় কর্মসূচি গাজলে।
তৃণমূলের মালদহের জনসভা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন নাম না করে আক্রমণ করেন কে ওমরের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ মৌসুম নূরকে। মমতা বলেন, ‘মালদহের কোনও প্রতিনিধি লোকসভায় ছিল না বলে আমরা এই জেলার প্রতিনিধিকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলাম। অনেক দিন ছিলেন। ভোটের আগে তিনি অন্য দলে গিয়েছেন। তাতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু পলাতকদের মানুষ ক্ষমা করবে না। উনি তো ভোটে লড়ে সাংসদ হতে পারেননি। বিধায়কদের ভোটে জিতেছিলেন। আমার ভোটও পেয়েছিলেন। নিজে জীবনে রাজ্যসভায় যেতে পারিনি। এত সুযোগ পাওয়ার পরেও দলের বিরোধিতা ভোটের সময়! ভোট যেন না পায়। লোকসভার পর বিধানসভাতেও কি এখানকার মানুষ কংগ্রেস আর বিজেপিকে ভোট দেবে? আমরা কি খাবি খাব? আপনাদের জন্য লড়াইটা তাহলে কে করবে? বাইরের রাজ্যে বাঙালিদের উপর এত অত্যাচার হচ্ছে। পরিযায়ী শ্রমিকেরা বিপন্ন। আমরাই তো লড়াই করছি। ভোটটা এ বার তাই আমাদের দেবেন। আপনারা তৃণমূলকে ভোট দিলে ঠকবেন না। আগেও বলেছি। লক্ষ্মীর ভান্ডার ৫০০ টাকা দিয়ে শুরু করেছিলাম, এখনও বাড়়িয়ে ১৫০০ করে দেওয়া হয়েছে। স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড থেকে স্বাস্থ্যসাথী, যা বলেছিল করেছি। সারা জীবন লক্ষ্মীর ভান্ডার পাবেন। কারও কাছে হাত পাততে হবে না। যুবসাথী সকলে পাবেন। তাঁদের জীবিকার সন্ধানও আমরাই দেব। এখন তরমুজ-খোরমুজ আবার এক হয়ে গিয়েছে। কংগ্রেস! লজ্জা করে না? যখন এসআইআরের বিরুদ্ধে লড়েছিলাম, দিল্লি যেতে বলেছিলাম। যায়নি।’
সভায় একাধিক বার নাম করে এবং নাম-না করে অমিত শাহকে নিশানা করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘ওয়াকফ নিয়ে কেউ কেউ ভুল বোঝাচ্ছে। আমরাই ফাইট করেছিলাম। এখন ওটা ইমামদের হাতে। আমরা বিজেপির হাতে ছাড়িনি। কিন্তু এই মোটাভাই পারে না এমন কাজ নেই। ও ধ্বংস করতে জানে। ভীষণ হিংসুটে লোক, ও পারে না এমন কাজ নেই। তবে যতই চেষ্টা করো, জিতবে না ভাই। আমি শুনেছি, বাইরের রাজ্য থেকে বাসে-ট্রেনে করে লোক ঢোকানো হচ্ছে। নাকা চেকিং কী হচ্ছে জানি না। বিজেপি করলে ছেড়েও দিচ্ছে। লাস্ট ভোট না পড়া পর্যন্ত বুথে পাহারা দেবেন। জিতব আমরাই। তৃণমূল না থাকলে বাংলায় শান্তি থাকবে না। মাছ থাকবে না। মাংস থাকবে না। বাংলা থেকে ওদের বিদায় দিয়ে দিল্লি যাব।
মুসলমানরা যদি সত্যিই খারাপ হয়, তাহলে ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী যখন সৌদি আরবে যান, সেখানে গলা তো জড়ান! তখন মনে থাকে না ওটা হিন্দু না মুসলিম? আমরা সকলে দুবাই গিয়েছি। ওরা আমাদের সকলকে ভালবাসে। কিন্তু মোদীবাবু যখন ওখানে একপাতে খান, তখন আপনার জাত যায় না? একদিকে মুখ আর একদিকে মুখোশ! এসআইআরের সময় ঘোড়ার ডিমগুলো কোথায় ছিল? যখন মানুষের নাম কাটছিল এসআইআরে, তখন কোথায় ছিল হায়দরাবাদের এই নেতারা?’
মমতার কপ্টারের সামনে রহস্যময় ড্রোন
মমতার সফরে ফের অজানা আতঙ্ক। মালদহের মালতীপুরে শনিবার দুপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টারের সামনে রহস্যময় একটি ড্রোনকে উড়তে দেখা গেল। কপ্টারে ওঠার মুখে তা দেখে দাঁড়িয়ে পড়েন মমতা। মাইক হাতে নিয়ে তিনি বলেন, ‘পুলিশের এটা নজরে রাখা দরকার। যারা করেছে, তাদের চিহ্নিত করা দরকার।’ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরে তদন্তে নেমে পুলিশ তিন জনকে আটক করেছে
।
