সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
জোকা আইআইএম-এর বয়েজ হোস্টেলে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কলকাতা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এই ঘটনার তদন্তে শনিবার একটি নয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে। এই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন একজন অ্যাসিসট্যান্ট কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিক। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মহিলা কমিশনও স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে ঘটনাটির উপর নজর রাখছে।
পুলিশ ইতিমধ্যেই আইআইএম ক্যাম্পাসের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে এবং প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইআইএম জোকা ও সেখানকার হস্টেলের রেজিস্ট্রারে নজর পুলিশের। এবার কর্তৃপক্ষের থেকে রেজিস্ট্রার চাইল পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত ছাত্রের ব্য়বহার সম্পর্কে জানতে চাইবেন পুলিশ আধিকারিকরা। কর্তৃপক্ষের থেকে রেজিস্ট্রার চাইলো পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত ছাত্রের ব্যবহার সম্পর্কেও জানতে চাইবে পুলিশ। পুরনো কোনও অভব্য আচরণের অভিযোগ রয়েছে কি না জানতে চাইবে পুলিশ। গতকালই কোর্টে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের ফোনের কল ডিটেল খতিয়ে দেখতে হবে। সেই মত অভিযোগকারীনি ও অভিযুক্ত দু’জনের মোবাইলের কল ডিটেইলস জোগাড় করছে পুলিশ। তাদের মধ্যে আগে কোনও কথোপকথন হয়েছিল কি না, ঘটনার দিন অভিযুক্ত নির্যাতিতাকে ফোন করেছিল কি না তা জানতে কল ডিটেলসে নজর। চাওয়া হয়েছে আইআইএম জোকার সব সিসিটিভি ফুটেজ।
শুক্রবার এক তরুণী অভিযোগ করেন যে কাউন্সেলিংয়ের জন্য ক্যাম্পাসে গিয়ে তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তিনি জানান, অভিযুক্ত ছাত্র তাকে হোস্টেলের ভিতরে নিয়ে গিয়ে কিছু খাবার ও জল দেন, যা খাওয়ার পর তিনি অসুস্থ বোধ করেন এবং তাকে ধর্ষণ করা হয়। জ্ঞান ফেরার পর তিনি হরিদেবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ অভিযুক্ত ছাত্রকে গ্রেফতার করেছে এবং আদালত তাকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। তবে, নির্যাতিতার বাবার “মেয়ের সঙ্গে কোনও দুর্ব্যবহার হয়নি” এই দাবিতে ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে।
নির্যাতিতার বাবার দাবি, এমন কোনও ঘটনাই ঘটেনি। তিনি সাংবাদিকদের জানান, শারীরিক পরীক্ষার সময় নাকি ধর্ষণের কথা পুলিশই বলতে বলেছিল। নির্যাতিতার বাবা বলেন, “মেয়ে আমাকে জানিয়েছে ধর্ষণের মতো কোনও ঘটনা ঘটেনি। বাড়িতে ফেরার পরে আমায় বলে, এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি। এমনকী, যে গ্রেফতার হয়েছে তার সঙ্গে আমার মেয়ের কোনও সম্পর্ক নেই।”