কলকাতা সারাদিন | স্বাস্থ্য ডেস্ক
ডায়াবেটিস বা ব্লাড সুগার এখন ঘরে ঘরে চেনা রোগ। বেশিরভাগ মানুষই ভাবেন, শুধু মিষ্টি খাওয়া বন্ধ করলেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, রোজকার জীবনধারার কিছু সাধারণ ভুল অভ্যাস গোপনে বাড়িয়ে দিতে পারে আপনার রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা।
আসুন দেখে নেওয়া যাক সেই ৬টি অভ্যাস, যা খাবারের বাইরেও ডায়াবেটিস বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে।
১. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ
প্রতিদিনের টেনশন, মানসিক চাপ, উদ্বেগ—সবাই এই সমস্যা ভোগেন। কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটা বিশেষভাবে ক্ষতিকর।
চাপের সময় শরীর থেকে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা যকৃত থেকে গ্লুকোজ নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে রক্তে সুগার বেড়ে যায়। দীর্ঘমেয়াদে মানসিক চাপ ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারে।
২. ঘুমের অভাব
প্রতিদিন ৬ ঘণ্টার কম ঘুম? তাহলে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা কমে যায়। অর্থাৎ শরীর ইনসুলিন ঠিক মতো কাজে লাগাতে পারে না। এই অবস্থাকে বলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, যা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মূল কারণ।
৩. সংক্রমণ বা ইনফেকশন
সর্দি, জ্বর, ইউরিন ইনফেকশন বা যে কোনও ভাইরাল সংক্রমণ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভয়ঙ্কর হতে পারে। কারণ সংক্রমণের সময় শরীরে স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়।
৪. বিনা পরামর্শে ওষুধ সেবন
স্টেরয়েড, কিছু সাইকিয়াট্রিক ড্রাগ, ও জন্মনিয়ন্ত্রণের পিল ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ওষুধ খেলে সুগার লেভেল হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে।
৫. শরীরচর্চার অভাব
দিনের বেশিরভাগ সময় বসে থাকা, যেমন—অফিসে কম্পিউটার বা ফোনে কাজ—রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ায়।
নিয়মিত হালকা হাঁটা বা এক্সারসাইজ করলে গ্লুকোজ শরীরের পেশিতে শোষিত হয় এবং সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৬. ধূমপান ও মদ্যপান
ধূমপান ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়ায়, যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
অন্যদিকে অতিরিক্ত অ্যালকোহল শরীরে গ্লুকোজের ওঠানামা ঘটায়—প্রথমে কমিয়ে, পরে হঠাৎ বাড়িয়ে।
Habits that increase diabetes risk শুধু খাওয়া নয়, বরং ঘুম, স্ট্রেস, ওষুধ, শরীরচর্চা ও বদভ্যাসের উপরেও নির্ভর করে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চাই পূর্ণাঙ্গ জীবনশৈলী পরিবর্তন। নিয়মিত শরীরচর্চা, মানসিক শান্তি, পর্যাপ্ত ঘুম ও সচেতনতা—এই চারটি জিনিসই হতে পারে আপনার সবচেয়ে বড় ওষুধ।
🗣️ আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য কোন অভ্যাস বদলেছেন? জানাতে পারেন মন্তব্যে।