সম্প্রতি দিল্লিতে এক বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের স্ত্রী ও তাঁর শিশুসন্তানকে মারধরের অভিযোগে উত্তাল রাজনীতি। অভিযোগ, দিল্লি পুলিশ নিজেই এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। ঘটনাটিকে ঘিরে ফের ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও ভাষাগত বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে।
মালদহের চাঁচলের বাসিন্দা মোক্তার খানের স্ত্রী সাজনুর জানান, দিল্লির পুলিশ আধার কার্ড দেখতে চেয়ে তাঁদের বাংলাদেশি বলে অপমান করে এবং জোর করে ‘জয় শ্রীরাম’ বলার জন্য চাপ দেয়। মুসলিম ধর্মবিশ্বাসের কারণে তিনি তা বলতে অস্বীকার করলে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা করা হয়। এমনকি তাঁর ছোট ছেলেকেও মারধর করা হয় এবং মুক্তির জন্য ২৫ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ।
দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে সরব তৃণমূল কংগ্রেস
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। তাঁর দাবি, বাঙালি হওয়ার জন্যই বারবার বঞ্চনার শিকার হতে হচ্ছে। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “সাজনুরকে থানায় নিয়ে গিয়ে সাদা কাগজে সই করিয়ে ব্ল্যাকমেল করা হয়েছে। বাংলা মানেই বাংলাদেশি বলে হেনস্থা করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, নির্যাতিত পরিবার কলকাতা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাবে এবং আইনি পথেই উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে এফআইআরও করা হবে বলে জানান তৃণমূল নেতৃত্ব।
রাজনৈতিক পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ
এই ঘটনার বিপরীতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, “এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তৃণমূল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় উত্তেজনা ছড়াচ্ছে।” দিল্লির মন্দির মার্গ থানায় মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
কিন্তু তৃণমূলের দাবি, নির্যাতিতার বক্তব্য সত্য এবং ভিডিও প্রমাণ সহ তাঁরা আইনি লড়াইয়ে এগোবেন। তৃণমূল নেতৃত্ব সরাসরি বিজেপি ও দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে ‘বাঙালি বিদ্বেষ’-এর অভিযোগ তুলেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা: রাজ্যে ফিরে আসুন, রাজ্য সরকার পাশে থাকবে
মঙ্গলবার ইলামবাজারের এক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যদি বাইরে অসম্মান পেতে হয়, তবে বাংলাতেই ফিরে আসুন। রাজ্য সরকার আপনাদের জন্য রেশন, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড, কর্মশ্রী প্রকল্পে কাজ ও থাকার ব্যবস্থা করবে।”
তিনি আরও জানান, মালদহের নির্যাতিত পরিবারকে রাজ্যে ফিরিয়ে এনে নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের সবরকম ব্যবস্থা করা হবে। ইতিমধ্যেই দল তাঁদের থাকার ও খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে।
এই ঘটনাটি শুধু একটি নির্যাতনের ঘটনা নয়, বরং এটি ভারতের মধ্যে ভাষা ও ধর্মের ভিত্তিতে হওয়া বৈষম্যের নগ্ন দৃষ্টান্ত। ‘জয় শ্রীরাম’ না বলায় শারীরিক নিপীড়ন ও পুলিশের জোরজবরদস্তি দেশের ধর্মনিরপেক্ষতার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে বলে দাবি করছে তৃণমূল কংগ্রেস। ঘটনাটির সঠিক তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তি দাবি করছেন সকলে।