সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
‘আপনারা যদি নিজের কাজ না করেন, দল আপনাদের পাশে থাকবে না।’ শনিবার এভাবেই তৃণমূলের এক লক্ষের বেশি নেতা কর্মী এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
বাংলার ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই বুথে বুথে সহায়তা ক্যাম্প করেছে তৃণমূল। কেন্দ্রভিত্তিক ‘ওয়ার রুম’ করা হয়েছে। তবে এই সব ‘ওয়ার রুম’-এ কিছু বিধায়ক ও সাংসদ ঠিকমতো সময় দিচ্ছেন না বলেও এ দিনের বৈঠকে অভিযোগ তোলেন অভিষেক। তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘আপনারা যদি নিজের কাজ না করেন, দল আপনাদের পাশে থাকবে না।’ পাশাপাশি এ দিনের বৈঠকে আগামী কাল অর্থাৎ রবিবার ‘জাতীয় ভোটার দিবস’ উপলক্ষ্যে ব্লকে ব্লকে প্রতিবাদ মিছিল করার নির্দেশ দিয়েছেন অভিষেক।
শনিবারের ভার্চুয়াল বৈঠকে অভিষেক বলেন, ‘কমিশন শুনানিতে আমাদের বিএলএ ২-কে অংশ নিতে দেয়নি। অন্য সব দল হোয়াটসঅ্যাপের নির্দেশ মেনে নিলেও আমরা সেটা মানিনি। নির্বাচন হোয়াটসঅ্যাপে হয় না। আমরা প্রতিরোধ করেছিলাম এবং বলেছিলাম যে বিএলএ ২ উপস্থিত থাকবেই। এই নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আমাদের অনেক বাদানুবাদ হয়েছিল।’ শুনানিতে গিয়ে মানুষের হয়রানি আটকাতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন তৃণমূলের সেনাপতি।
শনিবারের এ ভার্চুয়াল বৈঠকে অভিষেক বলেন, ‘আমাদের এই যুদ্ধ ছয় মাসের। তিন মাস শেষ তার মধ্যে। আমাদের হাতে আর ১০০ দিন আছে। এসআইআর এর কাজ বড়জোর এক মাস চলবে। হাতে আর ২২ দিন আছে, ১৬ তারিখ ফাইনাল লিস্ট বেরোবে ধরে নিলে। আমাদের লড়াই করতে হবে জোরদার এই ২২ দিন। সংগঠনের একজন করে থাকুন। যাঁদের নাম বেরবে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকায়। তাঁদের কাছে যান। একটা কেস যেন মিস না যায়। এই এক কোটি ৩৬ লক্ষ লোকের কাছে ও আনম্যাপ ৩২ লক্ষ লোকের কাছে সবাইকে পৌঁছতে হবে। তাদের বাড়ি বাড়ি যান। এই সব তথ্য দিদির দূত অ্যাপে তুলতে হবে..জেলা সভাপতি, জেলা চেয়ারম্যান ও সাংসদরা প্রতি ৫ দিন অন্তর এই লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে খোঁজ নেবেন। দল চেয়েছে তাই এমপি, এমএলএ হয়েছেন। প্রয়োজনে সাংসদরা নিজের পকেটের টাকা খরচ করে ওয়ার রুম চালাতে হবে। আমরা অন্য দলের মত সাংসদদের বেতনের ৫০% টাকা নিইনা দলে। এক কোটি ৬৮ লক্ষ লোকের কাছে আমাদের পৌঁছতে হবেই। হিয়ারিং করিয়ে তাদের নাম যেন ফাইনাল ভোটার লিস্টে বেরোয় এটা নিশ্চিত করতেই হবে।’

গত ৩১ ডিসেম্বর অভিষেকের নেতৃত্বেই ১০ জন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল যায় দিল্লির নির্বাচন কমিশনের অফিসে। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠকে তৃণমূলের তোলা অভিযোগ সম্পর্কে সদুত্তর মেলেনি বলেই দাবি করে রাজ্যের শাসকদল। ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’র তালিকা প্রকাশ, শুনানি কেন্দ্রে বিএলএ-দের প্রবেশাধিকার বিষয়গুলি নিয়ে সুপ্রিম নির্দেশের পরেই ‘নৈতিক জয়’ দেখছে তৃণমূল। সেই বিষয়গুলি এ দিনের বৈঠকে তুলে ধরেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক। অভিষেক বলেন, ‘সাধারণ মানুষের কথা সুপ্রিম কোর্ট মান্যতা দিয়েছে। ওদের চক্রান্ত আমরা আটকেছি। বিশেষ করে ফর্ম ৭ নিয়ে। এই একই জিনিষ দিল্লি, বিহার, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানায় করেছে। ওরা ধরতে পারেনি। আমরা পরিশ্রম করে ধরেছি।’
অন্যদিকে, সম্প্রতি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রকাশ করেছে তৃণমূল। ‘লক্ষ্মী এল ঘরে’ নামে সেই তথ্যচিত্র প্রচারের ব্যাপারে তৃণমূলের মহিলা মোর্চাকে এ দিন নির্দেশ দেন তিনি।