দলের পক্ষ থেকে এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বাংলায় ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর চালুর বিরোধিতা করা হলেও যদি নির্বাচন কমিশন জোর খাটিয়ে সংশোধনী প্রক্রিয়ার শুরু করে তাহলে সতর্ক থাকুন। এলাকায় কোন ভোটারের নাম যেন ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়ে তার জন্য প্রতিনিয়ত ভোটার তালিকার উপরে নজরদারি রাখুন। এলাকার ভোটার তালিকায় বাইরের রাজ্যের কোন ব্যক্তির নাম যেন হঠাৎ করে না ঢুকে যায় সেই বিষয়টি নিয়মিত নজরে রাখুন। এভাবেই উত্তর চব্বিশ পরগনার কৃষ্ণনগর এবং দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সুন্দরবন সংগঠনিক জেলার তৃণমূল নেতৃত্বকে সতর্ক করলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
পুজোর পর থেকেই রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা। সেই সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই সুন্দরবন সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্বকে সতর্ক নজরদারির নির্দেশ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে নিজের দপ্তরে সুন্দরবন জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে দলকে এখন থেকেই প্রস্তুত থাকতে হবে। অভিষেকের কথায়, একজন বৈধ ভোটারও যেন বাদ না পড়ে। এই বিষয়টি সুনিশ্চিত করতে হবে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ, হারা বুথ পুনরুদ্ধার এবং জেলা পর্যায়ে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিও। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়া যদি পুজোর পর শুরু হয়, তাহলে প্রশাসনিক এবং সংগঠনিক স্তরে প্রস্তুত থাকা জরুরি। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া বা বিভ্রান্তি তৈরি হলে তা সরাসরি জনসমর্থনে প্রভাব ফেলতে পারে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে জানান, হারা বুথ বা দুর্বল বুথগুলিকে এখন থেকেই নজরে রাখতে হবে। কোথায় কী কারণে দল পিছিয়ে পড়েছে তার বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করতে হবে। অভিষেক আরও জানান, প্রতিটি হারা বুথের তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন। শুধু সংখ্যায় জেতাই নয়, ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং মাইক্রো ম্যানেজমেন্ট বাড়াতে হবে।
সুন্দরবন সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্বকে তিনি জানিয়েছেন, এলাকায় সংগঠনের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে এবং কর্মীদের সক্রিয় করতে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে গোসাবা এলাকাকে। ওই এলাকায় ভোটার তালিকা ঘিরে আগেও একাধিকবার দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। তাই এবার গোসাবায় আলাদা করে একটি কোর কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন অভিষেক। সেই কমিটি গোটা প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে এবং যে কোনও অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জয়দেব হালদার, মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার এবং বিধায়ক মন্টুরাম পাখিরা সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা। সুন্দরবনে সংগঠন শক্তিশালী হলেও, নেতাদের জনসংযোগ ঠিকঠাক বজায় রাখার উপর জোর দিতে নির্দেশ দেন অভিষেক। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনওরকম আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে জেলাওয়াড়ি বৈঠক করছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনকে পাখির চোখ করে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে বিভিন্ন জেলার সঙ্গে বৈঠক করছেন তিনি। শুক্রবার পশ্চিম বর্ধমান ও কৃষ্ণনগরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি।

একের পর এক জেলা সংগঠনের সঙ্গে তিনি কথা বলছেন। দলের অন্তর্কলহ এবং অন্তর্দ্বন্দ্ব মেটানোই মূল লক্ষ্য। ২৬শের নির্বাচনের আগে যাতে কোন অন্তর্দ্বন্দ্ব দলের মধ্যে খারাপ প্রভাব না ফেলতে পারে সেই দিকেই কড়া নজর রাখা হয়েছে। জেলা তৃণমূলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শুক্রবার দলের পশ্চিম বর্ধমান ও কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্বকে নিয়ে বৈঠকে বসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে কৃষ্ণনগরকে নিয়ে বৈঠকে বসার কথা ছিল, কিন্তু দিল্লিতে যাওয়ার কারণে সেই বৈঠক হয়নি। কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি মহুয়া মৈত্রের সঙ্গে কয়েকজনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে।