শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘আমায় গতকাল ডাকা হয়েছিল। নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক ছিল। উনি বললে কাজে নামতে হবে। দলের সংগঠন নিয়ে আলোচনা হলো।’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পরের দিনেই পুরনো মেজাজি ফিরে এলেন বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘ওঁর কী ইচ্ছা আছে আমায় নিয়ে, সেটাও জানতে চাইলাম। নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। আমি জানি না কী দায়িত্ব দেওয়া হবে…আমি বলেছি আমি পুরো সময় আছি। দল যে ভাবে বলবে সে ভাবে কাজ করব… পার্টির যখন প্রয়োজন আছে, তখন আমি আছি।’
গত প্রায় ৮-৯ মাস ধরে সে ভাবে দলীয় কর্মসূচিতে তাঁকে দেখাও যায়নি। অবশেষে নতুন বছরের প্রথম দিন স্বমহিমায় তিনি। ৩১ ডিসেম্বর সল্টলেকে অমিত শাহের সঙ্গে তাঁর কিছুক্ষণের রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। সূত্রের খবর, আসন্ন নির্বাচনে তাঁর কাঁধে বড় দায়িত্ব দিচ্ছে দল। তারপরেই ১ জানুয়ারি দলীয় দপ্তর থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন দিলীপ ঘোষ। বিজেপিতে আদি-নব্য দ্বন্দ্ব প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, ‘পার্টি চলতে থাকবে লোক আসতে থাকবে, চলেও যাবে কিছু। নতুন লোক এলে তাঁকে এই পার্টির কালচার শিখতে হয়…।আদি-অনন্ত বলে কিছু নেই। আমি ১০ বছর আগে এসেছিল, কেউ ১২ বছর আগে এসেছে। কেউ আরও আগে এসেছেন। যাঁরা নতুন আসছেন, তাঁদের দায়িত্ব পার্টির সঙ্গে মিশে গিয়ে নিজেকে বিজেপির লোক হিসেবে প্রমাণিত করা, অনেকে সেটা করছেনও।’
প্রায় আট মাস পর বৃহস্পতিবার দুপুরে সল্টলেকে বিজেপির কার্যালয়ে যান দিলীপ। দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে। দিলীপ বলেন, ‘আমি সব সময় আছি। মাঠ জুড়ে খেলব। আমি ৬ বছর রাজ্য সভাপতি ছিলাম। পরে অন্য দায়িত্ব সামলেছি। আজ শমীকদার সঙ্গে কথা হয়েছে। দলের যেভাবে আমাকে প্রয়োজন আমি আছি, লড়ব।’ এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে নাম না করে তা নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকেই বিঁধে তিনি বললেন, ‘দলের কর্মীরা আমাকে কোনওদিন কালো পতাকা দেখায়নি। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অনেকে দলে এসেছে। এগুলো ওদের কালচার। কখন কাকে দেখাতে হবে ওরা ভুলে যায়। টিএমসি থেকে কিছু লোক এসেছে। ওরা এগুলো করেছে। ওরা ঠিক করেছে না ভুল, সেটা আমি বলব না। ওরা থাকবে না চলে যাবে সেটাও জানি না।’

দিলীপ ঘোষ বলেন, তাঁর বরাবরই পছন্দের আসন খড়গপুর। কিন্তু তাঁকে পছন্দের বাইরে লড়তে বলা হয়েছিল। রেজাল্ট কি হয়েছে সেটা সবাই দেখেছে। দলে কোনঠাসা করা হয়েছিল কিনা সেই প্রশ্নে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য কোনঠাসা করাই তো রাজনীতি। প্রত্যেক নেতার জীবনে আসে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ভরসা করেছেন, তাই ডেকেছেন। দল যেখানে যেভাবে কাজে লাগাবেন সেইভাবে কাজ করবেন। দিলীপ ঘোষ আরও বলেছেন বিজেপিই একমাত্র রাস্তা আর কোনও বিকল্প নেই। সেটা মানুষই ঠিক করে দিয়েছে, রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল করে। সরকার গঠন করতে না পারলেও ভাল ফল করেছে। বিহার, ওড়িশায় ক্ষমতায় এসেছে, পশ্চিমবঙ্গ তো ব্যতিক্রম হতে পারে না।