সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
ভারতে আবারও বাড়তে শুরু করেছে কোভিড-১৯ সংক্রমণ, যা দেশবাসীর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে দেশে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১৯ মে থেকে ২৬ মে-র মধ্যে নতুন করে ৭৫২ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, এবং এই সময়ের মধ্যে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এর মধ্যেই নতুন দুটি ভ্যারিয়েন্ট – NB.1.8.1 এবং LF.7 – এর উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে ইন্ডিয়ান SARS-COV-2 জিনোমিক্স কসোর্টিয়াম (INSACOG)।
সংক্রমণের চিত্র ও সতর্কবার্তা
যদিও বিগত কয়েক বছরের ভয়াবহ স্মৃতি (লকডাউন, অক্সিজেনের অভাব, বেডের জন্য হাহাকার, প্রিয়জনের মৃত্যু) এখনও দেশবাসীকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন মিউটেট হওয়া এই নতুন ভ্যারিয়েন্টগুলির প্রাণঘাতী ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলতে বলা হচ্ছে। তবে, কোমর্বিডিটি রয়েছে এমন রোগী, প্রবীণ ব্যক্তি, অন্তঃসত্ত্বা এবং শিশুদের জন্য বিশেষ সাবধানতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে।
রাজ্যভিত্তিক পরিস্থিতি:
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে দেশে সক্রিয় কোভিড কেসের সংখ্যা ১ হাজার ৯ জন। সংক্রমণের হার সবথেকে বেশি কেরলে, যেখানে ৪৩০ জন করোনা পজিটিভ। এছাড়াও, মহারাষ্ট্রে ২০৯ জন, দিল্লিতে ১০৪ জন, গুজরাটে ৮৩ জন এবং তামিলনাড়ুতে ৬৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গেও সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা ১২ জন।
নতুন ভ্যারিয়েন্ট ও তাদের প্রভাব:
ভারতে ইতিমধ্যেই করোনার দুটি নতুন ভ্যারিয়েন্ট – NB.1.8.1 এবং LF.7 – এর সন্ধান পাওয়া গেছে। INSACOG-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এপ্রিলে তামিলনাড়ুতে NB.1.8.1 ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত ১ জনের সন্ধান মিলেছিল, এবং মে মাসে গুজরাটে ৪ জনের শরীরে LF.7 ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। এই দুটি ভ্যারিয়েন্টই ওমিক্রন পরিবারের উপ-শাখা।
তবে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই দুটি ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে এখনই উদ্বেগের কোনো কারণ দেখছে না এবং সেগুলিকে ‘ভ্যারিয়েন্ট আন্ডার মনিটরিং’ (VUMs) হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে, ‘ভ্যারিয়েন্ট অফ কনসার্ন’ (VOCs) বা ‘ভ্যারিয়েন্ট অফ ইন্টারেস্ট’ (VOIs) হিসেবে নয়। তাদের মতে, বর্তমানে প্রচলিত ভ্যাকসিনগুলো এই ভ্যারিয়েন্টগুলির বিরুদ্ধেও কার্যকর থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতে নতুন করে আক্রান্তদের বেশিরভাগের শরীরেই JN.1 ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি দেখা গেছে। INSACOG-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পরীক্ষিত কোভিড রোগীদের মধ্যে ৫৩ শতাংশের নমুনায় JN.1 ভ্যারিয়েন্টের হদিশ মিলেছে। পাশাপাশি, ২৬ শতাংশের নমুনায় BA.2 ভ্যারিয়েন্ট এবং ২০ শতাংশের নমুনায় অন্যান্য ওমিক্রন সাব-ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে।
লক্ষণ এবং প্রতিরোধ:
নতুন ভ্যারিয়েন্টগুলির সাধারণ লক্ষণগুলো আগের ওমিক্রন স্ট্রেনগুলোর মতোই, যার মধ্যে জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা, নাক বন্ধ বা সর্দি, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা এবং কিছু ক্ষেত্রে ডায়রিয়া ও বমিভাব থাকতে পারে। যদিও স্বাদ বা গন্ধ হারানোর মতো লক্ষণ এখন বিরল।
বিশেষজ্ঞরা ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, ভিড় এড়িয়ে চলা, প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করা (বিশেষ করে হাসপাতালে বা জনবহুল স্থানে) এবং শ্বাসতন্ত্রের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উপর জোর দিচ্ছেন। যেকোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে এবং পরীক্ষা করিয়ে নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।