ব্রেকিং
  • Home /
  • History Revisited /
  • Nepal royal palace massacre : নেপালের রাজপ্রাসাদ হত্যাকাণ্ড: এক রাতেই ধ্বংস হল রাজপরিবার, প্রেম নাকি ষড়যন্ত্রের ফল?

Nepal royal palace massacre : নেপালের রাজপ্রাসাদ হত্যাকাণ্ড: এক রাতেই ধ্বংস হল রাজপরিবার, প্রেম নাকি ষড়যন্ত্রের ফল?

শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন। ২০০১ সালের ১ জুন। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর নারায়ণহিতি রাজপ্রাসাদে রাতের ভোজ চলছিল। রাজা বীরেন্দ্র বীর বিক্রম শাহ দেব, রানি ঐশ্বরিয়া রাজ্য লক্ষ্মী দেবী এবং রাজপরিবারের প্রায় সব সদস্য মিলেমিশে আনন্দঘন আড্ডায় ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু কয়েক মুহূর্তের....

Nepal royal palace massacre : নেপালের রাজপ্রাসাদ হত্যাকাণ্ড: এক রাতেই ধ্বংস হল রাজপরিবার, প্রেম নাকি ষড়যন্ত্রের ফল?

  • Home /
  • History Revisited /
  • Nepal royal palace massacre : নেপালের রাজপ্রাসাদ হত্যাকাণ্ড: এক রাতেই ধ্বংস হল রাজপরিবার, প্রেম নাকি ষড়যন্ত্রের ফল?

শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন। ২০০১ সালের ১ জুন। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর নারায়ণহিতি রাজপ্রাসাদে রাতের ভোজ চলছিল।....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।

২০০১ সালের ১ জুন। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর নারায়ণহিতি রাজপ্রাসাদে রাতের ভোজ চলছিল। রাজা বীরেন্দ্র বীর বিক্রম শাহ দেব, রানি ঐশ্বরিয়া রাজ্য লক্ষ্মী দেবী এবং রাজপরিবারের প্রায় সব সদস্য মিলেমিশে আনন্দঘন আড্ডায় ব্যস্ত ছিলেন। কিন্তু কয়েক মুহূর্তের মধ্যে রাতটি পরিণত হয় ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হত্যাযজ্ঞে। মুহুর্মুহু গুলিতে নিহত হন রাজা-রানি সহ রাজপরিবারের ৯ সদস্য। নেপালের ইতিহাসে এটি আজও একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত।

এ ঘটনাই পরে পরিচিত হয় Nepal royal palace massacre 2001 নামে।

কী ঘটেছিল সেই রাতে?

রাজপ্রাসাদের ডাইনিং হলে ভোজ শুরু হয়েছিল। হঠাৎ করেই গুলির শব্দে থমকে যায় রাজপ্রাসাদ। আতঙ্কিত হয়ে ওঠে উপস্থিত সবাই।

নিহতদের মধ্যে ছিলেন রাজা বীরেন্দ্র, রানি ঐশ্বরিয়া, যুবরাজ নিরজন, প্রিন্সেস শ্রুতি, রাজার ভাই ধীরেন্দ্র, রাজার বোন শান্তি ও শারদা, শারদার স্বামী কুমার খাদগা এবং কাকাতো বোন জয়ন্তী।

আহত হন রাজার বোন শোভা, যুবরানি শ্রুতির স্বামী কুমার গোরখ, রাজার ভাই জ্ঞানেন্দ্রর স্ত্রী কমল ও ছেলে পরশ।

গুলিবিদ্ধ হন যুবরাজ দীপেন্দ্রও, যাকে পরদিন রাজা ঘোষণা করা হয়। কিন্তু কোমায় থাকা অবস্থায় তিনিও চারদিন পর মারা যান। ফলে সিংহাসনে বসেন রাজার ভাই জ্ঞানেন্দ্র বীর বিক্রম শাহ দেব।

সরকারি তদন্ত ও ফলাফল

হত্যাযজ্ঞের পরপরই সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। মাত্র এক সপ্তাহের তদন্ত শেষে রিপোর্ট প্রকাশ হয়।

তাদের দাবি —
👉 এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী যুবরাজ দীপেন্দ্র নিজেই।
👉 মাতাল অবস্থায় প্রেমঘটিত ক্ষোভ থেকে তিনি গুলি চালিয়েছিলেন।
👉 পরে নিজেকেও গুলি করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

কিন্তু তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে নেপালি জনগণ ও রাজনৈতিক মহলে দেখা দেয় গভীর সন্দেহ।

প্রেমঘটিত কারণ: দীপেন্দ্র ও দেবযানী

সবচেয়ে আলোচিত ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হল যুবরাজ দীপেন্দ্রর প্রেম।

ইটন কলেজে পড়ার সময় তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে দেবযানী রানার, যিনি নেপালের শক্তিশালী জঙ্গ বাহাদুর রানা পরিবারের কন্যা।

দেবযানীর বাবা পশুপতি শমশের রানা নেপালের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ছিলেন, আর তাঁর মা ঊষা রাজে ছিলেন ভারতের গ্বালিয়রের সিন্ধিয়া রাজপরিবারের মেয়ে।

কিন্তু এই সম্পর্ক মানতে রাজি ছিলেন না রাজা বীরেন্দ্র ও রানি ঐশ্বরিয়া।

রাজপরিবারের আপত্তিতেই ক্ষুব্ধ হয়ে যুবরাজ দীপেন্দ্র নাকি মাতাল অবস্থায় সেদিন রাতের ভোজসভায় গুলি চালান — সরকারি রিপোর্টে এমনটাই বলা হয়।

 

ষড়যন্ত্র তত্ত্ব: আসল খুনি কে?

যদিও সরকারি তদন্তে দীপেন্দ্রকে দায়ী করা হয়েছিল, তবুও আজও অনেকের মনে প্রশ্ন —

1. অস্ত্র উদ্ধার হয়নি: ঘটনাস্থল থেকে দীপেন্দ্রর কাছে ব্যবহৃত স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রটি কেন উদ্ধার হয়নি?

2. জ্ঞানেন্দ্রর ভূমিকা: ওই রাতে রাজপ্রাসাদে উপস্থিত ছিলেন না রাজার ভাই জ্ঞানেন্দ্র, অথচ তিনিই পরে রাজা হন।

3. অতিরিক্ত বেঁচে যাওয়া: তাঁর স্ত্রী কমল সামান্য আহত হন, ছেলে পরশ অক্ষত থাকেন। এটাই অনেককে অবাক করে।

4. রাজনৈতিক লাভ: রাজা বীরেন্দ্র গণতন্ত্রপন্থী ছিলেন। কিন্তু নতুন রাজা জ্ঞানেন্দ্র ছিলেন বেশি স্বৈরতান্ত্রিক, যিনি পরবর্তীতে সংসদ ভেঙে সেনা-শাসন জারি করেন।

 

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

ঘটনার পর নেপাল তো বটেই, পুরো বিশ্ব স্তম্ভিত হয়েছিল।

ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশ শোকবার্তা জানায়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, “এটি দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে এক ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ড, যা কেবল একটি পরিবার নয়, পুরো একটি জাতির ভবিষ্যৎ বদলে দিল।”

নেপালের সাধারণ মানুষ গভীর শোকে ডুবে যায়। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে প্রার্থনা ও প্রতিবাদ করে।

জনগণের প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে

ঘটনার ২৪ বছর পেরিয়ে গেলেও অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি—

দীপেন্দ্র সত্যিই খুনি ছিলেন, নাকি তাঁকে ফাঁসানো হয়েছিল?

অস্ত্র কোথায় গেল?

কেন তদন্ত তড়িঘড়ি শেষ করা হলো?

কাকে রক্ষা করতে তথ্য গোপন করা হলো?

অনেক গবেষক মনে করেন, যদি সত্যিই দীপেন্দ্র অপরাধী হতেন, তবে আন্তর্জাতিক মানের তদন্তে আরও প্রমাণ আসত। কিন্তু তা হয়নি।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও নেপালের ভবিষ্যৎ

Nepal royal palace massacre 2001 নেপালের রাজনীতিতে বিশাল মোড় এনে দেয়।

রাজা বীরেন্দ্রকে মানুষ অত্যন্ত জনপ্রিয় ও গণতন্ত্রপন্থী হিসেবে জানতেন।

তাঁর মৃত্যুতে গণতন্ত্রপন্থী শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।

নতুন রাজা জ্ঞানেন্দ্র ক্ষমতায় এসে সংসদ ভেঙে সেনাশাসন চালু করেন।

এর ফলে রাজতন্ত্রের প্রতি জনগণের আস্থা চূড়ান্তভাবে নষ্ট হয়।

অবশেষে ২০০৮ সালে নেপালে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হয়, দেশ ঘোষণা হয় প্রজাতন্ত্র।

অর্থাৎ এক রাতের হত্যাযজ্ঞ শুধু একটি পরিবারই ধ্বংস করেনি, বরং নেপালের রাজতন্ত্রকেও চিরতরে সমাধিস্থ করেছে।

২০০১ সালের সেই গ্রীষ্মরাত আজও নেপালের মানুষের মনে এক গভীর ক্ষত। সরকারি রিপোর্টে যুবরাজ দীপেন্দ্রকে দায়ী করা হলেও, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ও সন্দেহ আজও ঘিরে রয়েছে ঘটনাটিকে। অনেকেই মনে করেন, সত্যিটা চাপা পড়ে গেছে ক্ষমতার রাজনীতির আড়ালে।

হয়তো একদিন ইতিহাসের পাতা উল্টে প্রকৃত সত্য প্রকাশ পাবে। কিন্তু আপাতত Nepal royal palace massacre 2001 রয়ে গেছে রহস্যে মোড়া, বিশ্বের অন্যতম মর্মান্তিক রাজনৈতিক হত্যাযজ্ঞ হিসেবে।

আজকের খবর