শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বে দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু এই হাইভোল্টেজ ম্যাচ একপেশে লড়াইয়ে পরিণত হয়। ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে পাকিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়ে দেয় টিম ইন্ডিয়া। এই জয়ের মাধ্যমে সেমিফাইনালের টিকিটও নিশ্চিত করে নিল সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই পাকিস্তানকে চাপে ফেলে দেয় ভারতীয় বোলাররা। টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাকিস্তান, কিন্তু সেটাই তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। প্রথম ওভারের প্রথম বলেই হার্দিক পান্ডিয়া পাকিস্তানকে ধাক্কা দেন। এরপর দ্বিতীয় ওভারে জসপ্রীত বুমরাহর দুরন্ত বল পাকিস্তানকে দ্বিতীয় উইকেট হারাতে বাধ্য করে। দ্রুত দুটি উইকেট পড়ে যাওয়ায় শুরু থেকেই ব্যাকফুটে চলে যায় বাবর আজমবিহীন পাকিস্তান দল।
শাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামান কিছুটা চেষ্টা করেন পরিস্থিতি সামাল দিতে। তাদের জুটিতে ৩৯ রান উঠলেও ভারতীয় স্পিনারদের সামনে ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। অক্ষর প্যাটেল, কুলদীপ যাদব ও বরুণ চক্রবর্তী মিলে কার্যত পাকিস্তানের ব্যাটিংকে ছিন্নভিন্ন করে দেন। কুলদীপ ৩ উইকেট, অক্ষর ২ উইকেট এবং বরুণ একটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে মাত্র ১২৮ রান তুলতে সক্ষম হয়।
পাকিস্তানের হয়ে শাহিবজাদা ফারহান ৪০ রানের ইনিংস খেলেন। শেষদিকে শাহিন আফ্রিদি মাত্র ১৬ বলে ৩৩ রান করে দলের সংগ্রহকে কিছুটা সম্মানজনক জায়গায় নিয়ে যান। কিন্তু এই রান ভারতীয় দলের জন্য কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারেনি।
টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিধ্বংসী মেজাজে খেলেন তরুণ অভিষেক শর্মা। তিনি মাত্র ১৩ বলে ৩১ রান করে ভারতের ইনিংসকে ত্বরান্বিত করেন। যদিও শুভমান গিল এদিন বড় রান পাননি, কিন্তু ভারতীয় মিডল অর্ডার দায়িত্ব নিয়ে ম্যাচ বের করে আনে।
অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও তিলক বর্মার ব্যাটে ভর করে ভারত ম্যাচে একতরফা নিয়ন্ত্রণ নেয়। দু’জন মিলে অর্ধশতরানের পার্টনারশিপ গড়ে পাকিস্তানের জয়ের আশা কার্যত শেষ করে দেন। তিলক বর্মা ৩১ রান করে আউট হলেও সূর্যকুমার যাদব ৪৭ রান এবং শিবম দুবে ১০ রান করে অপরাজিত থেকে দলকে সহজ জয় এনে দেন।

মাত্র ২৫ বল বাকি থাকতে ভারত ৭ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয়। এই জয়ের ফলে ভারত শুধু পাকিস্তানকে হারাল না, বরং নিজেদের শক্তি প্রমাণ করল আগামী ম্যাচগুলোর জন্য। ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই ভারতীয় দলের আধিপত্য স্পষ্ট।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এশিয়া কাপে ভারতের এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দেবে। পাকিস্তানের ব্যাটিং দুর্বলতা আবারও সামনে এল। অন্যদিকে ভারতীয় দলের ব্যাটিং গভীরতা ও বোলিং আক্রমণ প্রমাণ করল কেন তারা এশিয়া কাপের অন্যতম ফেভারিট।