ব্রেকিং
  • Home /
  • বাংলার রাজনীতি /
  • Abhishek on Bidyasagar : ৬ বছর আগে অমিত শাহর নেতৃত্বেই বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা হয়েছিল, বিদ্যাসাগরের মূর্তির সামনে ক্ষমা চাওয়া উচিত – অমিত শাহকে তীব্র আক্রমণ অভিষেকের

Abhishek on Bidyasagar : ৬ বছর আগে অমিত শাহর নেতৃত্বেই বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা হয়েছিল, বিদ্যাসাগরের মূর্তির সামনে ক্ষমা চাওয়া উচিত – অমিত শাহকে তীব্র আক্রমণ অভিষেকের

সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন। ৬ বছর আগে অমিত শাহর নেতৃত্বেই বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা হয়েছিল। বহিরাগতরা মূর্তি ভেঙেছিল। কলকাতা শহরকে সেদিন জল্লাদদের উল্লাসমঞ্চে পরিণত করা হয়েছিল। বাইরে থেকে যারা এসেছিল, উত্তর ভারতের সংস্কৃতি চাপাতে চেয়েছিল। মূর্তি ভাঙার ফল বাংলার মানুষ তাদের....

Abhishek on Bidyasagar : ৬ বছর আগে অমিত শাহর নেতৃত্বেই বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা হয়েছিল, বিদ্যাসাগরের মূর্তির সামনে ক্ষমা চাওয়া উচিত – অমিত শাহকে তীব্র আক্রমণ অভিষেকের

  • Home /
  • বাংলার রাজনীতি /
  • Abhishek on Bidyasagar : ৬ বছর আগে অমিত শাহর নেতৃত্বেই বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা হয়েছিল, বিদ্যাসাগরের মূর্তির সামনে ক্ষমা চাওয়া উচিত – অমিত শাহকে তীব্র আক্রমণ অভিষেকের

সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন। ৬ বছর আগে অমিত শাহর নেতৃত্বেই বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা হয়েছিল। বহিরাগতরা মূর্তি....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।

৬ বছর আগে অমিত শাহর নেতৃত্বেই বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা হয়েছিল। বহিরাগতরা মূর্তি ভেঙেছিল। কলকাতা শহরকে সেদিন জল্লাদদের উল্লাসমঞ্চে পরিণত করা হয়েছিল। বাইরে থেকে যারা এসেছিল, উত্তর ভারতের সংস্কৃতি চাপাতে চেয়েছিল। মূর্তি ভাঙার ফল বাংলার মানুষ তাদের দিয়েছে। এভাবেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কলকাতা সফরের দিনে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের পুজো উদ্বোধনে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঈশ্বরচন্দ্রের ভূয়সী প্রশংসা করে গিয়েছেন। তার পর পরই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শাহকে ৬ বছরের পুরনো ‘পাপে’র কথা মনে করিয়ে দিলেন। অভিষেক বলে দিলেন, বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা হয়েছিল শাহের নেতৃত্বেই। বিদ্যাসাগরের মূর্তির সামনে দাঁড়িয়েই ক্ষমা চাওয়া উচিত তাঁর।
বিদ্যাসাগর কলেজ প্রাঙ্গণে তৃণমূলের সর্বভারতীয় তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমি এই অনুষ্ঠানকে রাজনৈতিক করতে চাই না। আজ এখানে আসার কারণ রাজনীতি নয়। কিন্তু যেহেতু আপনারা জিজ্ঞেস করেছেন, আমরা ২০১৯ সালে এখানে যে ঘটনা ঘটেছিল এবং কার নির্দেশে ঘটেছিল, তা অস্বীকার করতে পারি না। ভাঙা মূর্তিটি এখনও ভেতরে রাখা আছে, ভেতরে গেলে শ্রদ্ধা জানাবেন। ছোটবেলা থেকে আমরা সকলে পড়েছি এবং বড়দের মুখে শুনেছি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কথা। আপোসহীন লড়াই, বাংলার নবজাগরণের পথিকৃত, ‘বর্ণপরিচয়’-এর স্রষ্টা, বাল্যবিবাহ প্রথা বন্ধের পুরোধা— বাংলার সংস্কৃতিকে একের পর এক ধাপে তিনি এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। আমরা সবাই তা শিখেছি। কিন্তু যারা বাইরে থেকে এসে আমাদের উপর উত্তর ভারতের সংস্কৃতি চাপিয়ে দিয়েছিল, বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছিল, বাংলার মানুষ তাদের জবাব দিয়েছে।
আমার অত্যন্ত খারাপ লেগেছে, কারণ কেউ [অমিত শাহ] যিনি মাত্র ১০ মিনিট দূরে একটি পুজো প্যান্ডেল উদ্বোধন করতে এসেছিলেন, এতটুকু বিবেকবোধ নেই যে, আজ বিদ্যাসাগরের ২০৫তম জন্মজয়ন্তী। তাঁর মনেও হয়নি বিদ্যাসাগরের বাড়ি বা বিদ্যাসাগর কলেজে এসে শ্রদ্ধা জানানোর। একারণেই আমরা বলি ওরা বাংলা-বিরোধী। মানুষ আগেও দেখেছে, আগামীতে আবারও দেখবে।

এরপরেই অভিষেক বলেন, আমাদের রাজনৈতিক লড়াই চলতে থাকবে, কিন্তু বাংলার মনীষীদের যেভাবে অপমান করা হয়েছিল, তা ভোলা যাবে না। ওরা জানে না রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোথায় জন্মেছিলেন। ওরা পঞ্চানন বর্মার নামও ভুল উচ্চারণ করে। ওরা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজা রামমোহন রায় বা ক্ষুদিরাম বসুর অবদান সম্পর্কেও অজ্ঞ। আমাদের সংস্কৃতি নিয়ে ওদের থেকে শেখার দরকার নেই। আজ যিনি দুর্গাপূজার প্যান্ডেল উদ্বোধন করছেন, তিনিই পাঁচ বছর আগে বলেছিলেন বাংলায় কোনও দুর্গাপুজো হয় না। আজ সেই দুর্গাপূজা ইউনেস্কোর ইনট্যাঞ্জিবল কালচারাল হেরিটেজ স্বীকৃতি পেয়েছে। বিজেপি-শাসিত কোনও রাজ্যের উৎসব বা উদযাপন এধরনের স্বীকৃতি পায়নি। আমাদের কন্যাশ্রীও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। ওদের আমাদের বাংলার থেকে শেখা উচিত। প্রথমে ওদের বিদ্যাসাগরের মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চাইতে হবে। আর যেভাবে তারা দুর্গা ও কালী মন্দিরে যাচ্ছে, মা তাদের আশীর্বাদ করুন। কিন্তু বিদ্যাসাগরের অবদানকে যেভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে, এবং তাঁর [অমিত শাহ] নির্দেশে মূর্তি ভাঙা হয়েছিল— সেই লোকজন আজও বিজেপিতেই আছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ওদের আগে প্রশ্ন করুন: বাংলার প্রাপ্য ২ লক্ষ কোটি টাকা কবে ছাড়বে? কেন এই টাকা আটকে রাখা হয়েছে? যদি বলে আমরা মিথ্যা বলছি, তবে তারা চ্যানেল ও সময় বেছে নিক। আমি নথি-প্রমাণ নিয়ে হাজির হব, এমনকি তাদের নিজেদের চ্যানেল হলেও। বাংলার টাকা আটকে রাখা হয়েছে কোন অধিকারে? উনি [অমিত শাহ] বলেন “সোনার বাংলা” তৈরি করবেন। তবে ওদের জিজ্ঞেস করুন: দু’দিন আগে পাটনায় প্রধান সড়ক বসে গিয়ে গাড়ি ধসে পড়ল। ওরা কি সোনার বিহার গড়তে পেরেছে? গুজরাত ও মধ্যপ্রদেশে রোজ সেতু ভেঙে পড়ে। সোনার মধ্যপ্রদেশ, সোনার উত্তরপ্রদেশ, সোনার ত্রিপুরা বা সোনার ঝাড়খণ্ড কেন হল না? উত্তরপ্রদেশে তো বাংলার সেতুর উদাহরণ দেওয়া হয়, তবে গত সাত বছরে সোনার ব্রিজ কেন তৈরি হয়নি সেখানে? বাংলার থেকে টাকা নিয়ে নিজেদের রাজ্যে খরচ করছে। সোনার উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাত কি গড়তে পেরেছে?
ওরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বাংলায় ক্ষমতায় এলে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ চালু করবে। তাহলে কেন ত্রিপুরা, অসম বা রাজস্থানে তা করছে না? কেন মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ১,০০০ টাকা জমা দিচ্ছে না, যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করেছেন? আমরা তো সেসব রাজ্যে ক্ষমতায় নেই, তাহলে কেন নিজেদের রাজ্যে করে না? আমার প্রশ্ন, কেন উনি সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার থেকে এখানে আসলেন না? গাড়িতে ১০ মিনিটের রাস্তা। কারণ উনি বাংলা-বিরোধী। বাংলার প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে অস্বীকার করে। বাংলার বিপ্লবীরা ব্রিটিশদের হারিয়েছিল, বিজেপি কোন ছাড়? বাংলার মানুষের দৃঢ়তার সামনে ওরা কিছুই নয়। এই প্রশ্নের উত্তর আমায় নয়, প্রধানমন্ত্রী মোদি বা বিজেপিকে দিতে হবে।

তবে আমি এটুকু বলব— এগুলো রাজনৈতিক গিমিক, কোনও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প নয়। বাংলার মডেলের সঙ্গে তুলনা করুন: আমরা নির্বাচনের পরপরই প্রতিটি পরিবারের মহিলাদের জন্য লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চালু করেছি। চাইলে আমরা তিন বছর অপেক্ষা করে ২০২৪ নির্বাচনের আগে এটাকে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার করতে পারতাম। কিন্তু তা করিনি। কারণ আমাদের কাছে সুষ্ঠু শাসন ও জনকল্যাণই মুখ্য। এটাই আমাদের আর ওদের মধ্যে পার্থক্য। আমরা মানুষের পাশে আছি বছরের ৩৬৫ দিন, দিনের ২৪ ঘণ্টাই- শুধু ভোটের আগে নয়।

আজকের খবর