সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
কলকাতার সাংস্কৃতিক মানচিত্রে আরও একবার উজ্জ্বল হয়ে উঠল স্বাধীন চলচ্চিত্রের উৎসব। শনিবার দুপুর থেকে নন্দন-৩ পেক্ষাগৃহে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল ১২ ও ১৩তম সুতানুটি শর্ট ফিল্ম উৎসব। এই বছর উৎসবে দেশ ও বিদেশ মিলিয়ে মোট ৯৭টি স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে, যা নতুন চিন্তা, সমাজবাস্তবতা ও সৃজনশীলতার এক অনন্য মিলনমেলা তৈরি করেছে।
এই শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে সুন্দরবনের জল-জঙ্গল আর মানুষের জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করে তৈরি ভারতীয় স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র ‘সবুজ দ্বীপের পাঠশালা’। পাল ফিল্ম প্রোডাকশন নিবেদিত এই ছবিটির কাহিনি, চিত্রনাট্য, সংলাপ ও পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন বিশ্বজিৎ পাল। ছবির সংগীত পরিচালনা করেছেন সত্যজিৎ পাল, যা ছবির আবহকে আরও গভীর ও আবেগপূর্ণ করে তুলেছে।
অভিনয়ের দিক থেকেও ছবিটি দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে। অভিনেত্রী ঈশিতা মণ্ডল, পূজা সরদার, রূপা সূতার তাঁদের সাবলীল অভিনয়ে চরিত্রগুলিকে জীবন্ত করে তুলেছেন। বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছেন শিক্ষারত্ন পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রাক্তন শিক্ষক অমল নায়েক, যাঁর অভিনয় ছবির মানবিক দিকটিকে আরও শক্তিশালী করেছে। পাশাপাশি শিশু শিল্পী সর্বজিৎ পাল ও জীবিকা সূতারের অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
এই উৎসবের আয়োজন করেছে এ. ডি. মুভিজ ইন্টারন্যাশনাল। উৎসব পরিচালক অজয় বরন দে জানান, ভারতীয় চলচ্চিত্রের পথিকৃৎ হীরালাল সেন এবং সাহিত্যিক ও সাংবাদিক দেবকুমার ঘোষ—এই দুই মহান ব্যক্তিত্বের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই ১২ ও ১৩তম সুতানুটি শর্ট ফিল্ম উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। কলকাতার ওয়েস্ট বেঙ্গল কালচারাল সেন্টার (নন্দন) প্রাঙ্গণে এই উৎসব চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক আয়োজন হয়ে উঠেছে।

৩ জানুয়ারি থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। উৎসবে শুধুমাত্র শর্ট ফিল্ম নয়, প্রদর্শিত হচ্ছে ফিচার ফিল্ম ও তথ্যচিত্রও। মোট ৯৭টি স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ১৮টি গানের মিউজিক অ্যালবামও এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেছে, যা একে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে।

আগামী ৮ জানুয়ারি বিকাল ৫টায় অনুষ্ঠিত হবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বাংলা চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট পরিচালক সুশান্ত পাল চৌধুরী সহ বহু নামী অভিনেতা-অভিনেত্রী, চিত্রগ্রাহক এবং চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। সব মিলিয়ে, Sutanuti Short Film Festival আবারও প্রমাণ করল—স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবিই হতে পারে বড় গল্প বলার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম।