সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
পশ্চিমবঙ্গের শহরাঞ্চলের পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (KMDA)। ‘পথশ্রী–রাস্তাশ্রী প্রকল্প’-এর চতুর্থ পর্যায়ে পাঁচটি জেলাজুড়ে মোট ৫,৬১৬টি শহুরে রাস্তা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে রাজ্য সরকারের মোট ব্যয় হবে ₹৮,৪৮৭.৮৩ কোটি। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলে নাগরিকদের দৈনন্দিন যাতায়াতকে আরও সহজ ও নিরাপদ করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
এই বৃহৎ প্রকল্পের আওতায় উপকৃত হবেন প্রায় ৩৫,০০০ গ্রামের মানুষ এবং ১২৮টি আর্বান লোকাল বডির বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে যে সব শহর ও পৌর এলাকায় রাস্তার বেহাল অবস্থা নাগরিক দুর্ভোগ বাড়াচ্ছিল, সেখানে এই প্রকল্প নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। শুধুমাত্র রাস্তা নির্মাণ নয়, বরং শহুরে উন্নয়নের সামগ্রিক চেহারা বদলে দেওয়াই এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য।
দক্ষিণ ২৪ পরগনাই এই প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এই জেলায় মোট ২,৪৯২টি রাস্তা নির্মিত হবে পাঁচটি পৌরসভা এলাকায়। এর মধ্যে মহেশতলায় একাই তৈরি হবে ১,৪৫১টি রাস্তা। রাজপুর–সোনারপুরে ৬৬১টি, বজবজে ২৯৮টি, পুজালিতে ৬৬টি এবং বারুইপুরে ১৬টি রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এত বড় সংখ্যায় রাস্তা নির্মাণ দক্ষিণ ২৪ পরগনার শহুরে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনবে বলেই আশা।
উত্তর ২৪ পরগনায় নির্মিত হবে ১,৭৪২টি রাস্তা, যা বিস্তৃত হবে ১৯টি আর্বান লোকাল বডির মধ্যে। বিধাননগর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে ১৩৫টি রাস্তা তৈরি হবে। তবে সংখ্যার দিক থেকে এগিয়ে উত্তর দমদম, যেখানে ১৭০টি রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তার পরেই রয়েছে বারানগর, যেখানে হবে ১৬৬টি রাস্তা। এই জেলায় রাস্তা উন্নয়নের ফলে কলকাতার পার্শ্ববর্তী শহরগুলির সঙ্গে যোগাযোগ আরও মসৃণ হবে।
হাওড়া জেলায় মোট ৩৪১টি রাস্তা তৈরি হবে বালি পৌরসভা, উলুবেড়িয়া পৌরসভা এবং হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এলাকায়। এর মধ্যে হাওড়া কর্পোরেশন এলাকাতেই ১৫৭টি রাস্তা নির্মাণ করা হবে। শিল্প ও বাণিজ্যনির্ভর এই জেলায় উন্নত রাস্তা অর্থনৈতিক গতিশীলতাও বাড়াবে।
হুগলি জেলায় ১১টি আর্বান লোকাল বডি জুড়ে নির্মাণ হবে ৯৭১টি রাস্তা। অন্যদিকে নদিয়া জেলায় মোট ৭০টি রাস্তা তৈরি হবে, যার মধ্যে গয়েশপুর পৌরসভায় ৪৬টি এবং কল্যাণী পৌরসভায় ২৪টি রাস্তা অন্তর্ভুক্ত।
সব মিলিয়ে, KMDA-র এই উদ্যোগ শুধু রাস্তা নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি রাজ্যের শহুরে উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, দ্রুত যাতায়াত এবং নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য—এই তিনের সমন্বয়েই ‘পথশ্রী–রাস্তাশ্রী প্রকল্প’ ভবিষ্যতের শহর গড়ার পথে এক শক্ত ভিত তৈরি।