সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
বাংলার ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় পর্ব অর্থাৎ শুনানের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য গ্রাহ্য করা হবে না মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড রাজ্য করার আবেদন জানানো হলেও তা খারিজ করে জানিয়ে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
এসআইআর নিয়ে প্রথমে মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছিল। পরবর্তীতে সিইও দফতর থেকে বলা হয়, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডে যেহেতু জন্মের তারিখ রয়েছে, সেক্ষেত্রে শুনানিতে সেটি গ্রহণ করার কথা উঠে আসে। এমনকি যাঁরা মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড নিয়েও যাঁরা পরীক্ষা দিতে পারেননি, যাঁরা পড়াশোনা ছেড়ে দেন, তাঁরাও জন্মের তারিখ হিসেবে সেটি জমা দিতে পারেন। সেই মতো জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে আবেদন জানানো হয় রাজ্যের সিইও দফতর থেকে। কিন্তু জাতীয় নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে কোনও ভাবেই নথি হিসেবে, জন্মতারিখের তথ্য হিসেবে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে না। এতে নতুন করে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতদিন অনেকেই নথি হিসেবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড জমা দিয়েছেন। হঠাৎ করে সেই অ্যাডমিট কার্ড নথি হিসেবে গৃহীত হবে না বলায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর জারি করা নির্দেশিকায় ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় যে নথিগুলিকে বৈধ হিসেবে ধরা হয়েছে, তার তালিকায় মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড নেই। সেই কারণেই রাজ্যের তরফে পাঠানো প্রস্তাব গ্রহণ করা সম্ভব নয় বলে মত কমিশনের। কমিশনের চিঠিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে পূর্বনির্ধারিত তালিকার বাইরে গিয়ে নতুন কোনও নথিকে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। ফলে আসন্ন ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড ব্যবহার করা যাবে না বলেই কার্যত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তর কথা জানিয়ে দিল কমিশন।

এই সিদ্ধান্তে বিশেষ করে প্রথমবার ভোটার তালিকায় নাম তোলার প্রক্রিয়ায় যুক্ত বহু পড়ুয়া ও তরুণ-তরুণীর অসুবিধা হতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসনের একাংশ। যদিও কমিশনের অবস্থান, নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে একরকম নিয়ম বজায় রাখাই স্বচ্ছতার জন্য জরুরি।