ব্রেকিং
Latest Posts
Supreme Court on Bengal DA : অবিলম্বে ২৫% ডিএ মেটানোর নির্দেশ, বাংলার সরকারি কর্মীদের পক্ষেই ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টেরMamata in Supreme Court : আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে মামলা লড়ে নয়া ইতিহাস মমতার, মমতার সওয়ালে লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি নিয়ে কমিশনকে নোটিশ সুপ্রিম কোর্টেরSuvendu against Mamata : ‘মুখ্যমন্ত্রী নিজে এদিন সওয়াল করেন নি, তিনি পিটিশনার হিসাবে কোর্টে হাজির ছিলেন’ মমতাকে তীব্র আক্রমণ শুভেন্দুরMamata Banerjee Supreme Court : সুপ্রিম কোর্টে নয়া ইতিহাস মমতার, বাংলার ভোটার বাদ দেওয়া নিয়ে স্থগিতাদেশ চেয়ে শুরু মুখ্যমন্ত্রীর সওয়ালMamata Banerjee in Supreme Court : ভারতের ইতিহাসে প্রথমবার, মুখ্যমন্ত্রী মমতা সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীর ভূমিকায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলায়
  • Home /
  • Featured News /
  • Mamata in Supreme Court : আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে মামলা লড়ে নয়া ইতিহাস মমতার, মমতার সওয়ালে লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি নিয়ে কমিশনকে নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের

Mamata in Supreme Court : আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে মামলা লড়ে নয়া ইতিহাস মমতার, মমতার সওয়ালে লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি নিয়ে কমিশনকে নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের

সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন। ভারতের রাজনীতি ও বিচারব্যবস্থায় নয়া ইতিহাস গড়লেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে এক নজিরবিহীন দৃশ্যের সাক্ষী থাকল দেশ। প্রধান বিচারপতির এজলাসে প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে নিজেই সওয়াল করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বাধীনোত্তর....

Mamata in Supreme Court : আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে মামলা লড়ে নয়া ইতিহাস মমতার, মমতার সওয়ালে লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি নিয়ে কমিশনকে নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের

  • Home /
  • Featured News /
  • Mamata in Supreme Court : আইনজীবী হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে মামলা লড়ে নয়া ইতিহাস মমতার, মমতার সওয়ালে লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি নিয়ে কমিশনকে নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের

সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন। ভারতের রাজনীতি ও বিচারব্যবস্থায় নয়া ইতিহাস গড়লেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।

ভারতের রাজনীতি ও বিচারব্যবস্থায় নয়া ইতিহাস গড়লেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে এক নজিরবিহীন দৃশ্যের সাক্ষী থাকল দেশ। প্রধান বিচারপতির এজলাসে প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে নিজেই সওয়াল করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বাধীনোত্তর ভারতে এই প্রথম কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এভাবে সুপ্রিম কোর্টে সরাসরি যুক্তি তর্কের জাল বুনলেন তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষে। শুনানির শুরুতেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর অনুমতি চেয়ে আবেগঘন কণ্ঠে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,’আমি কি একটু ব্যাখ্যা করতে পারি?’

আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এই রাজ্যের মানুষ। আপনারা সদয় বলেই আজ এখানে দাঁড়াতে পেরেছি। বেঞ্চের প্রতি আমার শ্রদ্ধা, বিরোধী পক্ষের আইনজীবীদের প্রতিও আমার প্রণাম।’ কিন্তু এটুকু সৌজন্য দেখানোর পরই ক্রমশ প্রকাশ পায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদি অকৃত্রিম প্রতিবাদী চেহারাটি। তিনি সপাটে বলেন,’সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন সবকিছু শেষ হয়ে যায়, অথচ ন্যায় মেলে না। যখন ন্যায় দরজার আড়ালে কাঁদে—তখনই মনে হয় কোথাও আমরা বিচার তো পাচ্ছি না।’

 

এদিন সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেন আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান। আদালতে তিনি জানান, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের বাকি আর মাত্র ১১ দিন। ৪ দিন বাকি আছে শুনানি শেষ হওয়ার। ‘অ্যানম্যাপড’ হিসাবে ৩২ লক্ষ ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান বলেন, ‘এখনও ৬৩ লক্ষ মানুষের শুনানি বাকি আছে। এই অবস্থায় নির্ধারিত সময়ে শুনানি করতে হলে প্রতি দিন ১৫.৫ লক্ষ শুনানি করতে হবে।’ যা অসম্ভব বলে দাবি করেন আইনজীবী। শুধু তাইও নয়, মাইক্রো অবজার্ভারদের নিয়োগ করা নিয়েও আদালতে অভিযোগ জানান তিনি। এই অবস্থায় রাজ্যের অবস্থা কী তা ব্যাখ্যা দিতে প্রধান বিচারপতির কাছে সময় চেয়ে নেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কোথাও বিচার পাচ্ছি না। দয়া করে আমাকে বলতে দিন। মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে এসেছি, গোটা পরিস্থিতি বলতে পারি।’ শুধু তাই নয়, বাংলায় চলা এসআইআর প্রক্রিয়া শুধু নাম কাটার জন্য বলেও আদালতে অভিযোগ জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী পদবি থেকে শুরু করে, বাড়ি বদলালেও কীভাবে নাম কাটা হচ্ছে তা তুলে ধরেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যা করতে দু’বছর লাগে, সেটা দু’মাসে করতে গিয়ে মানুষ হয়রান হচ্ছে।’ এই অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের কাছে মানুষের অধিকার রক্ষার আবেদন জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যা করতে দু’বছর লাগে, সেটা দু’মাসে করতে গিয়ে মানুষ হয়রান হচ্ছে।’ এই অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের কাছে মানুষের অধিকার রক্ষার আবেদন জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত নির্বাচন কমিশনকে নোটিস জারি করে। বাংলায় চলা এসআইআরে কী কী পদক্ষেপ করছে নির্বাচন কমিশন, তা জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এসআইআর প্রক্রিয়ায় কত অফিসার দিতে পারবে রাজ্য, তাও নবান্নকে জানাতে এদিন নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

মমতা এদিন তাঁর সওয়ালে বলেন, এই লড়াই কোনও দলের হয়ে নয়। ‘আমি বন্ডেড লেবার নই। তবে আমি খুবই নগণ্য একজন মানুষ। আমি এখানে কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে লড়ছি না। নাগরিক অধিকারের প্রশ্নেই আমি কথা বলতে এসেছি।’ এর জবাবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নিজ অধিকারেই মামলা দায়ের করেছে এবং এই মামলায় দেশের অন্যতম সেরা আইনজীবীরা রাজ্যের হয়ে সওয়াল করছেন। বেঞ্চ বিশেষভাবে উল্লেখ করে কপিল সিব্বালের ভূমিকার কথা। প্রধান বিচারপতির কথায়, সিব্বাল আগেই রাজ্যের প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা এবং প্রকৃত নাগরিকদের নাম বাদ পড়ার ‘যথার্থ আশঙ্কা’ তুলে ধরেছেন, এই মামলার সেটাই কেন্দ্রবিন্দু।

‘এটা হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন, কাজ শুধু নাম বাদ দেওয়া’এই সূত্র ধরেই এসআইআর প্রসঙ্গে সবচেয়ে কড়া আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, ‘এই প্রক্রিয়ার একটাই উদ্দেশ্য—নাম বাদ দেওয়া। এটা আসলে ডিলিশনের জন্য তৈরি করা হয়েছে। গোটা পরিকল্পনাতেই গরমিল।’ এক ধাপ এগিয়ে তিনি বলেন,’ওটা হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন। যাচাই নয়, শুধু নাম কাটাই ওদের কাজ।’ বাস্তব উদাহরণ টেনে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ধরা যাক, কোনও মেয়ে বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে গেল এবং স্বামীর পদবি নিল। সেটাকেই কি ‘মিসম্যাচ’ বলা হবে?’ বেঞ্চ জানায়, এমনটা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা দাবি, ‘ঠিক এটাই করা হয়েছে। বহু বিবাহিত মহিলা, বহু পরিযায়ী শ্রমিকের নাম কাটা হয়েছে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’ দেখিয়ে।’

 

বাংলাকেই কেন টার্গেট?

 

মুখ্যমন্ত্রী জানান, আধারকে বৈধ নথি হিসেবে মান্যতা দেওয়ায় আদালতের নির্দেশে বাংলার মানুষ স্বস্তি পেয়েছেন। কিন্তু তাঁর প্রশ্ন, ‘অন্য রাজ্যে ডোমিসাইল, কাস্ট সার্টিফিকেট চলে। শুধু বাংলাকেই কেন ভোটের ঠিক আগে টার্গেট করা হচ্ছে?’ চারটি প্রশ্ন ছুড়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী— চারটি রাজ্যে ভোট হবে। সেই ভোটের আগে ২৪ বছর পর হঠাৎ তিন মাসে কাজ শেষ করার এত তাড়া কেন? ফসল কাটার মরসুমে, মানুষ বাইরে কাজে গেলে কেন এই প্রক্রিয়া?’ তিনি বলেন, এই চাপের ফলেই ১০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, বহু বিএলও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মমতা প্রশ্ন তোলেন, ‘অসমে এসআইআর হচ্ছে না কেন? শুধু বাংলাই কেন?’

 

মাইক্রো অবজারভার প্রসঙ্গে

 

মমতা এদিন তাঁর সওয়ালে অভিযোগ করেন, ‘ইআরও-র কোনও ক্ষমতাই রাখা হয়নি। বিজেপি-শাসিত রাজ্য থেকে প্রায় ৮,৩০০ মাইক্রো অবজারভার আনা হয়েছে, যাঁরা অফিসে বসেই নাম কাটতে পারেন। ফর্ম-৬ জমা দিতেও দেওয়া হয়নি। লক্ষ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে, এমনকি জীবিত মানুষকেও মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।’

 

নির্বাচন কমিশনের পাল্টা দাবি

 

এদিকে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, রাজ্য পর্যাপ্ত গ্রুপ-বি অফিসার দেয়নি বলেই মাইক্রো অবজারভার নিয়োগ করতে হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিয়ে বলেন, ‘এর কোনও বিধিবদ্ধ নিয়ম নেই।’ তবে বেঞ্চ জানায়, উভয় পক্ষের বক্তব্যই গুরুত্ব দিয়ে শোনা হচ্ছে।

বাস্তবসম্মত সমাধানের ইঙ্গিত

শুনানির শেষে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা বাস্তবসম্মত সমাধান চাই। সোমবারের মধ্যে রাজ্য যত গ্রুপ-বি অফিসার দিতে পারবে, তার তালিকা দিন।’ আদালত আরও জানায়, পর্যাপ্ত অফিসার মিললে মাইক্রো অবজারভারের প্রয়োজনই পড়বে না। কমিশনকে আরও সংবেদনশীল হতে ও অপ্রয়োজনীয় নোটিস এড়াতে পরামর্শ দেয় বেঞ্চ। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী সোমবার।

 

আজকের খবর