সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
একশ দিনের কাজের প্রকল্প থেকে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর নাম বাদ দিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার সরব হয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশের সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দলের সাংসদদের তীব্র আপত্তি উপেক্ষা করে কাল যেভাবে সংসদে ধনী ভোটে বিল পাস করিয়ে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার তার প্রতিবাদ জানাতে এবার অভিনব উপায় বেছে নিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদরা। মমতার প্রতিবাদের পরেই দলনেত্রীর নির্দেশ মেনে সংসদের সিঁড়িতে দিল্লির শীতে শুধুমাত্র কম্বল পেতে রাত কাটালেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সাগরিকা ঘোষ, মৌসম বেনজির নূর এবং দোলা সেন-রা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মহাত্মা গান্ধীর ছবির সামনে ধর্নায় বসেন সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সাগরিকা ঘোষ, মমতাবালা ঠাকুর, দোলা সেন, প্রকাশ চিক বরাইক, নাদিমূল হক, সুস্মিতা দেব, সাকেত গোখলেরা।
লোকসভায় পাসের পর, ভিবি রামজি বিল এখন রাজ্যসভায় পাস হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, বিলটির লক্ষ্য গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান এবং জীবিকার সুযোগ বৃদ্ধি করা। তবে, আলোচনার সময় বিরোধীরা এর তীব্র বিরোধিতা করে। এর মধ্যেই ‘জি রাম জি’ বিলের বিরোধিতায় পুরোনো সংসদ ভবনের সিঁড়িতে রাতভর ধর্নায় তৃণমূল সাংসদরা। শুক্রবার সকালেও চলে প্রতিবাদ। মহাত্মা গান্ধী এবং বাঙালিকে অপমানের প্রতিবাদে ধর্না দেন সাংসদরা। তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ধর্নায় ছিল কংগ্রেস এবং ডিএমকে-সহ অন্যান্য সাংসদরাও।
বিরোধীদের আপত্তি দু’টি জায়গায়। মনরেগা প্রকল্পের পুরো টাকা কেন্দ্রীয় সরকার দিত। কিন্তু ‘জি রাম জি’ বিলে ৬০:৪০ অনুপাতে প্রকল্পের টাকা দেবে কেন্দ্র। ফলে রাজ্য সরকারগুলির ঘাড়ে বাড়তি বোঝা চাপবে। এর সঙ্গে রয়েছে মহাত্মা গান্ধীর নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ। এই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ৯০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬০ শতাংশ করা হচ্ছে। ফলে রাজ্যগুলির উপর চাপ বাড়ছে। তাছাড়া আগে রাজ্যের চাহিদা অনুযায়ী, এই প্রকল্পে বরাদ্দ করা হত। এবার থেকে কেন্দ্র ঠিক করবে কোন রাজ্যে কত বরাদ্দ করা হবে। ফলে সাধারণ শ্রমিকরা ১০০ দিনের কাজ পাবেনই, তেমন কোনও নিশ্চয়তা থাকছে না। আগে এই বিলে কাজের নিশ্চয়তা ছিল।

দোলা সেন বলেন, ‘ওরা আমাদের কোনও কথা শোনেনি। সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিকভাবে বিল পাশ করেছে। আমরা বলেছিলাম যে এই বিল স্ট্যান্ডিং কমিটিতে নিয়ে যাওয়া হোক। একটু সময় নিক, এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পাঁচ ঘণ্টায় মিটিয়ে ফেল না। ভোরবেলা গরিব মানুষ ঘুম থেকে উঠে দেখবে, তাদের অধিকার চলে গিয়েছে, তাদের কাজ নেই। তিন সপ্তাহ অপেক্ষা করে শেষদিনে এভাবে স্বৈরতন্ত্র, আমরা ধিক্কার জানাই।’ শুক্রবার ভোর বেলা ধর্নাস্থল থেকে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ। বলেন, ‘সংসদের সিঁড়িতে আমাদের ধর্না কর্মসূচি চলছে। মহাত্মা গান্ধী এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অপমান আমরা মেনে নেব না।’ ভিডিয়োর শেষে জোর দিয়ে সাগরিকা বলেন, ‘মহাত্মা গান্ধী অমর রহে।’ মোদি সরকার আইন পাস করাতে বুলডোজার কৌশল ব্যাবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন সাগরিকা। তাঁর কথায়, ‘বিরোধীদের সঙ্গে কোনও পরামর্শ করা হচ্ছে না। বৈঠকে ডাকা হচ্ছে না। একের পর এক বিল বুলডোজার কায়দার ঠেলে পাস করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’ তাঁর সাফ কথা, ‘মোদি সরকার দ্বিতীয়বার মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করল।’