সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
‘যতই হোক এসআইআর, এফআইআর, মানুষ আপনাদের প্রত্যাখ্যান করবে, বিজেপির আসন সংখ্যা ৫০-এ নেমে আসবে।’ এভাবেই রবিবার তৃণমূলের দলীয় সদর দপ্তর থেকে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রের শাসক দলে বিজেপিকে একযোগে আক্রমণ শানিয়ে হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
রবিবার অভিষেক প্রশ্ন করেন বাংলায় ৬০ লক্ষ মানুষ যদি ‘বিবেচনাধীন’ ক্যাটাগরিতে থাকে তাহলে প্রধানমন্ত্রী আপনার পদও বিবেচনাধীন। অন্য রাজ্যের মানুষ আপনার পাতা ফাঁদে পা দিলেও বাংলা দেবে না। একই সঙ্গে তিনি এদিন বলেন, তৃণমূলের দাবিকে মান্যতা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিজেপি চায় না নির্বাচন হোক। এরা জানে নির্বাচনে ভোকাট্টা হয়ে যাব, মন্তব্য তৃণমূল সেনাপতির। কমিশনকে নিশানা করে অভিষেক এদিন বলেন, জ্ঞানেশ বাবু ওয়ার্ন করে দিয়ে গেলাম, পালানোর পথ পাবেন না। আপনি যে ভাষা বোঝেন, সেই ভাষায় জবাব দিতে জানে তৃণমূল। ১৬২ জন মারা গেছে এটা বিজেপি-কমিশনের কাছে ছোট ব্যাপার।
রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিজেপি নির্বাচনে জিততে না পেরে ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে ফলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। এসআইআর প্রক্রিয়ার পর চূড়ান্ত তালিকায় ৫ লাখ ৪৬ হাজার ভোটারের নাম থেকে বাদ পড়েছে। এর আগে খসড়া তালিকায় প্রায় ৫৮ লাখ নাম বাদ পড়েছিল। সব মিলিয়ে প্রায় ৬৩ লাখ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। পাশাপাশি আরও প্রায় ৬০ লাখ ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাংলায় যদি এতজন মানুষ বিচারাধীন অবস্থায় থাকেন, তাহলে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নরেন্দ্র মোদীও বিবেচনাধীন।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের অভিযোগ,ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছে বিজেপি। সাংবাদিক সম্মেলনে এমনই অভিযোগ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি একটি ভিডিয়ো দেখান। সেই ভিডিয়োয় অমিত শাহ, শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার, শান্তনু ঠাকুরদের বলতে শোনা যাচ্ছে, কত নাম বাদ পড়বে। ১ কোটি ২০ লক্ষের একটি হিসাব শোনা গিয়েছে তাঁদের মুখে। অভিষেকের দাবি, খসড়া তালিকা, চূড়ান্ত তালিকা আর বিচারাধীন তালিকা মেলালে প্রায় ওই সংখ্যক ভোটারদেরই নাম বাদ দিতে চলেছে কমিশন।
সাংবাদিক বৈঠকে অভিষেক বলেন, ‘যতই হোক এসআইআর, এফআইআর মানুষ আপনাদের প্রত্যাখ্যান করবে। বিজেপির আসন সংখ্যা ৫০-এ নেমে আসবে।’ তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের উপর সুপ্রিম কোর্টের আস্থা নেই বলেই বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিয়োগ করা হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, বিজেপি ভোট চুরি করে বাংলায় ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অভিষেক দাবি করেন, খসড়া, চূড়ান্ত ও বিচারাধীন তালিকা মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে কমিশন। বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের সদস্য রিচা ঘোষের নাম ভোটার তালিকায় ‘বিচারাধীন’ থাকার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন অভিষেক। কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘তাহলে ভারতের বিশ্বকাপটাই তো বিচারাধীন।’
তিনি সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও ফর্ম-৭ ব্যবহার করে ভোটারদের নাম কিভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, তারও প্রশ্ন তোলেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, চূড়ান্ত তালিকা সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হবে।