সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
এসআইআর এবং এনআরসি আতঙ্কে বাংলায় যেন শুরু হয়েছে মৃত্যু মিছিল। রাজ্যে একটার পর একটা মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসছে। কেউ আতঙ্কে আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছেন, কেউ অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন। এসআইআর ঘোষণার পরে ইতিমধ্যে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। এই সকল মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের সাহায্যের জন্য ইতিমধ্যে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তৃণমূল নেতাদের নিয়ে এই বিশেষ কমিটি তৈরি করা হয়েছে। এসআইআর আতঙ্কে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, অভিষেকের নির্দেশে তৈরি কমিটির নেতারা তাঁদের বাড়ি যাবেন। পরিবারের সঙ্গে কথা বলবেন। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন। পুরোটাই হবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন এই কমিটির সদস্যরা। শনিবার থেকেই এই কমিটি কাজ করতে শুরু করেছে। পানিহাটি, সাঁইথিয়া, কুলপি, ধূপগুড়ি, ব্যারাকপুর, শেওড়াফুলি সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গাতে এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যুর খবর এসেছে। পাশাপাশি খড়দা ও চাঁচলেও ২ জন যুবক আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। তবে পরিবারের জন্য প্রাণরক্ষা সম্ভব হয়েছে। এসআইআর ঘোষণার পর থেকেই মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একের পর এক মৃত্যু হওয়ার খবরে রাজপথে নেমেছেন তাঁরা। মানুষের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন তাঁরা। এবার বিশেষ কমিটি তৈরি করা হয়েছে। সেই কমিটির সদস্যরা মৃতদের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলবেন। সমস্যা সম্পর্কে কথা বলবেন। সবরকমভাবে তাঁদের পাশে থাকা হবে বলে জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ থেকেই বাড়ি বাড়ি
য়াওস শুরু করবেন এই কমিটির সদস্যরা। উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে প্রদীপ করের বাড়িতে যাবেন সাংসদ সামিরুল ইসলাম ও সাংসদ পার্থ ভৌমিক। টিটাগড়ে যাবেন মন্ত্রী শশী পাঁজা ও ছাত্রনেতা তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য। ডানকুনিতে মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও সুদীপ রাহা। হুগলিতে জয়া দত্ত, উলুবেড়িয়ায় অরূপ চক্রবর্তী। হুগলি ও উলুবেড়িয়ায় একজন করে স্থানীয় নেতাও থাকবেন। গত ২৮ অক্টোবর, আগরপাড়ায় নিজের বাড়ি থেকে প্রদীপ কর নামে এক প্রৌঢ়ের দেহ উদ্ধার হয়। সুইসাইড নোটও পাওয়া যায়। ওই নোটেই উল্লেখ ছিল এসআইআর ‘আতঙ্কে’র কথা। তাঁর মৃত্যুর পর ‘জাস্টিস ফর প্রদীপ কর’ স্লোগান উঠেছে আগেই। এদিন তাঁর পরিবারের লোকজনের সঙ্গে দেখা করার কথা সামিরুল ইসলাম এবং পার্থ ভৌমিকের। এই মৃত্যুমিছিল দমাতে তৎপর রাজ্য। তাই মানুষের সমস্যা সমাধানে ব্লকে ব্লকে ক্যাম্পও খোলা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।