“পুলিশ যদি নিরপেক্ষ তদন্ত না করে আমরা নিরপেক্ষ এজেন্সির হাতে তদন্তভার দেওয়ার দাবি জানাব। দরকারে আইনি লড়াই করব।” কল্যাণী বিস্ফোরণে নিহতদের পরিবারকে রাজ্য সরকারের থেকে বেশি ক্ষতিপূরণ দিয়ে রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর বিস্ফোরণে মৃত চার পরিবারের হাতে ২ লক্ষ ১ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ তুলে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিস্ফোরণে আহত এক পরিবারের হাতে তুলে দেন ৫০ হাজার টাকা। এদিন বিরোধী দলনেতার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কল্যাণী বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায়, হরিণঘাটার বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার, চাকদহ বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক বঙ্কিম ঘোষ সহ দলের কর্মী-সমর্থকরা।
সেই সঙ্গে কল্যাণীতে বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় এনআইএ তদন্তের দাবি জানালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদের পরিবারের হাতে ২ লক্ষ ১ হাজার টাকার চেক তুলে দেন তিনি। সেখান থেকেই রাজ্য সরকার ও শাসকদল তৃণমূলের সমালোচনা করে শুভেন্দু বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর উচিত ছিল পুলিশকে শাস্তি দেওয়া। চারিদিকে পাকা বাড়ি। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাব। তবু চারটে প্রাণ গেছে। একজন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। কল্যাণী পুরসভা, পুলিশ ও রাজ্য সরকার এজন্য দায়ী। পুলিশ যদি নিরপেক্ষ তদন্ত না করে আমরা নিরপেক্ষ এজেন্সির হাতে তদন্তভার দেওয়ার দাবি জানাব। দরকারে আইনি লড়াই করব।”
শুধু তাই নয়, রাজ্য সরকারের তুলনায় বেশি ক্ষতিপূরণ বিজেপির পক্ষ থেকে তুলে দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আজ বিজেপি মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ ১ হাজার টাকা দিয়ে বুঝিয়ে দেবে জীবনের দাম টাকায় হয় না। একটা লোক ভেজাল মদ খেয়ে মরলে ২ লক্ষ টাকা, আবার আপনার পুলিশ, আপনার দল, ও আপনার দল পরিচালিত পুরসভার অবহেলা ও কার্যত অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞাহীনতার পরিচয়ের জন্য এই মৃত্যু হয়েছে এখানে আপনার অন্তত ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে এখানে পৌরসভার চেয়ারম্যান ও পুলিশকে দাঁড় করিয়ে শাস্তি দেওয়া উচিত ছিল। সেটা না করে আপনি ২ লক্ষ টাকার চেক দিয়েছেন।”
তবে মমতার সরকারের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “পাড়ায় পাড়ায় কী হচ্ছে খবর নিতে ১৪ বছর ধরে ভিলেজ পুলিশ, সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ করার গল্প তৈরি করেছিল রাজ্য সরকার। তার ফল কী?”