সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের আগে বঙ্গ বিজেপির ব্যাটন কে ধরবেন সেই জল্পনা যখন তুঙ্গে, তখন আবারও ফুল ফর্মে দিলীপ ঘোষ। তবে পুরোনো ফর্ম নয়, বিজেপি নেতা বললেন, “যেদিন থেকে রাজনীতিতে এসেছি, একই ফর্মে রয়েছি।” বৃহস্পতিবার সকালে ইকো পার্কে মর্নিং ওয়াকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আবারও স্বমহিমায় দিলীপ ঘোষ।
বছর ঘুরলেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে বঙ্গ বিজেপি পূর্ণ সময়ের জন্য নতুন সভাপতি পাবেন? এই বিষয়টি নিয়ে দিলীপ ঘোষ এদিন বলেন, “সামনেই ‘২৬-এর ভোট। বিজেপিতে প্রতি ৩ বছর অন্তর সাংগঠনিক নির্বাচন হয়। সর্বভারতীয় নেতারা যাঁদের উপযুক্ত মনে করবেন তাঁদেরই দায়িত্ব দেবেন। আমাকেও কর্মীরা বলছেন দাদা কবে হবে? আমি অপেক্ষা করতে বলেছি। নমিনেশন পর্ব এখনও শুরু হয়নি।” পাশাপাশি বৃহস্পতিবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টও করেন দিলীপ ঘোষ। সেখানে লেখেন, “আমি পার্টির সঙ্গেই আছি। আমার সাথে কারও ঝগড়া নেই। আমি কারো সাথে ঝগড়া করি না। আমার সবার সাথে বন্ধুত্ব রয়েছে এবং বন্ধুত্ব করার চেষ্টা করি।” তাহলে কি পরবর্তী রাজ্য বিজেপি সভাপতি হচ্ছেন দিলীপ ঘোষই? মেদিনীপুরের প্রাক্তন সাংসদের অবশ্য দাবি, “সর্বভারতীয় নেতারা যখন উপযুক্ত মনে করবেন, দায়িত্ব দেবেন। কর্মীদেরও অপেক্ষা করতে বলেছি। মনোনয়ন পর্বই শুরু হয়নি এখনও।”
প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে একাধিক ইস্যুতে প্রতিক্রিয়া দেন দিলীপ। বুধবার সন্ধেয় মতুয়া গড় ঠাকুনগরে বারুণী মেলার আগে দেখা গিয়েছে সৌজন্যের ছবি। বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার ঠাকুরবাড়ির ভিতরে ঢুকে মমতাবালা ঠাকুরের পায়ে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম সারেন। যদিও তাতে রাজনৈতিক কিছু দেখছেন না দিলীপ। তাঁর মতে, “এটা ধার্মিক ও পারিবারিক ব্যাপার। যাঁরা মতুয়া গুরুদের শ্রদ্ধা করেন তাঁরা আমাদের কাছে পূজনীয়। ভক্তদের বলব আপনারা এসবের মধ্যে থাকবেন না।”
হাইকোর্টের অনুমতিতে বৃহস্পতিবার বারুইপুরে কর্মসূচি শুভেন্দু অধিকারীর। এপ্রসঙ্গে পুলিশকে ‘নপুংশক’ বলে আক্রমণ দিলীপ ঘোষের। বিজেপি নেতা বলেন, “মমতা বিদেশে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর কাছে প্রার্থনা করছেন দেশের সংবিধান যাতে বজায় থাকে। ওনার নিজের রাজ্যে কোনও সংবিধান রয়েছে? অযোগ্য লোকগুলো কেন পুলিশে রয়েছে? এদের পদত্যাগ করা উচিত। ছাব্বিশে মানুষ এদের বিসর্জন দেবে।”
রামনবমীতে ফের অস্ত্র-সহ আখাড়ায় মিছিলে থাকবেন দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার জানিয়ে দিলেন সে কথা। এদিকে মদন মিত্র বলেছেন, রাজ্যের ৪৩ জায়গায় রামনবমীর দিন হামলার আশঙ্কা রয়েছে। এপ্রসঙ্গে দিলীপ বলেন, “৪৩ জায়গায় হামলার কথা মদন মিত্র জানলেন কীকরে? আর রাজ্যকে তাহলে সতর্ক করছেন না কেন? হিন্দু সমাজ কী করবে তা পুলিশের অধিকার নেই ঠিক করে দেওয়ার। আমি খড়গপুরে থাকব। অস্ত্র নিয়ে বেরোব। এটা আমাদের ট্র্যাডিশন। ব্রিটিশ-পাঠানরা আটকাতে পারেনি। এরা চেষ্টা করলে ছুঁড়ে ফেলা হবে।”
বিতর্ক আর দিলীপ ঘোষ যেন সমার্থক। যদিও বিজেপি নেতার দাবি, “আমি সাধারণ মানুষ। বাড়িতে নারকেল কাটার জন্য একটা দা কিনতে যাই, অনেক ভদ্রলোক সেটা দেখে ভয় পেয়ে যান। কেউ বলে ওটা নাকি রাম দা, তারা এখনও রাম দা দেখেনি।” এর আগে নদিয়ার গাংনাপুরে রাস্তা উদ্বোধন করতে গিয়ে বাধা দেওয়া হয় তাঁকে। সেপ্রসঙ্গেও বিতর্ক উঠেছিল দিলীপ ঘোষকে নিয়ে।
গাংনাপুরের ঘটনা নিয়ে দিলীপ এদিন বলেন, “পয়সা দিয়ে রাস্তা তৈরি করেছি। সেটা উদ্বোধন করতে গিয়েছি। ওঁরা চেঁচামেচি করেছে। তাহলে বিতর্কটা করল কে? কেউ কেউ আমাকে বিতর্কে ফেলে নিজের নাম ভাঙাতে চান। আমার উপর দিয়ে যা ইচ্ছে চালালে আমি তো উত্তর দেবই।” তাহলে কি আবার পুরোনো ফর্মে দেখা যাবে দিলীপ ঘোষকে। বিজেপি নেতার স্পষ্ট মন্তব্য, ” যারা রেগুলার আমার সম্পর্কে খোঁজ রাখেন তাঁরা জানেন এটাই আমার ফর্ম। অনেকে খবর দেখেন আমার ফর্ম দেখতেই। তাঁদের জন্য খুব মায়া হয়।”

বুধবার রাতেই ভাটপাড়ায় বিজেপি নেতা অর্জুন সিংয়ের বাড়ির বাইরে বোমাবাজি, গুলি চলে বলে অভিযোগ। এক যুবক গুলিবিদ্ধও হয়েছেন। সেই ঘটনায় অর্জুন সিংকেই তলব করেছে পুলিশ। ভাটপাড়ার শুটআউট নিয়ে বলতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “এটা কোনও খবর নয়। ওখানে গুলি না চললে খবর। একজন বলেছিল আমি রোজ মদ খাই না। সপ্তাহে দু’দিন খাই। বৃষ্টি পড়লে খাই। আর না পড়লে খাই। ব্যারাকপুরের এখন সেই অবস্থা। ওখানকার গরিব মানুষের কি শান্তিতে বাঁচার অধিকার নেই?”