সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
২১ এপ্রিল নবান্ন অভিযান করবেন না সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি হারানো শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অশিক্ষক কর্মচারীরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরে আস্থা রেখে নিজেদের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি স্থগিত করার কথা লিখিতভাবে জানিয়ে দিল আন্দোলনকারীরা।
‘চাকরিপ্রার্থী, চাকরিজীবী ও চাকরিহারা ঐক্য মঞ্চে’র তরফে অন্যতম আহ্বায়ক দেবাশিস বিশ্বাস নিশ্চিত করেছেন, আগামী ২১ এপ্রিল তাঁদের যে নবান্ন অভিযান হওয়ার কথা ছিল, তা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসার পরই এনিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দেবাশিস।
ইতিমধ্যে পুলিশকেও চিঠি দিয়ে অভিযান স্থগিতের কথা জানিয়েছে তাঁরা।
কেন আচমকা নবান্ন অভিযান থেকে পিছু হটলেন চাকরিহারারা? সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, বিগত কয়েক দিনে বারবার তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করতে চেয়েছিলেন পুলিশ আধিকারিকরা। সেই প্রেক্ষিতে শুক্রবার ভবানী ভবন, লালবাজার এবং হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হয়েছে। মঞ্চের তরফে জানানো হয়েছে, পুলিশের শীর্ষকর্তারা আশ্বাস দেন যে, দ্রুত সম্ভব যাতে তাঁদের সমস্যার সমাধান হয়, তাঁরা সেই চেষ্টা করবেন। সব দাবিদাওয়া নিয়ে কথা বলা হবে মুখ্যসচিবের সঙ্গেও। এই আশ্বাসবার্তা পাওয়ার পরই তাঁরা নবান্ন অভিযান আপাতত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁদের কাছে সময় চাওয়া হয়েছে পুলিশের তরফ থেকে। বলা হয়েছে, যে দাবিদাওয়া রয়েছে তা পূরণ করতে একটু সময় লাগবে। পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর ভিডিও কলে মঞ্চের নেতারা নিজেরা বৈঠক করেছিলেন। তারপরই সর্বসম্মতিক্রমে ২১-র নবান্ন অভিযান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। তবে আগামী দিনে যে এই কর্মসূচি তাঁরা করবেন, এমনটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে চাকরিহারাদের ঐক্য মঞ্চ।
আরজি করের ঘটনার পর ঠিক যে ছাত্র সমাজ নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছিল, তারাও সোমবার নবান্ন অভিযান করবে বলে জানিয়েছিল। তাঁদের সঙ্গে বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থী চাকরিজীবী ও চাকরিহারা ঐক্য মঞ্চ-ও এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে আপাতত তাঁরা এই কর্মসূচি স্থগিত করায় ছাত্র সমাজের কর্মসূচিও আর হবে না। মনে করা হচ্ছে, ২১-র এপ্রিলের বদলে অন্য যে দিন মঞ্চের তরফে এই অভিযান করা হবে, সেদিনই হয়তো তাঁরা যোগ দেবে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ফলে ২৬ হাজার শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হওয়ার পর তাঁদের একাংশের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় নেতাজি ইন্ডোরে বৈঠক করেছিলেন। কিন্তু এই বৈঠক নিয়ে চাকরিহারাদের অন্যান্যদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল। ‘বঞ্চিত’দের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে বৈঠক করতে হবে এই দাবি তোলা হয়েছিল তাঁদের পক্ষ থেকে। হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল যে, ১৫ এপ্রিলের মধ্যে বৈঠক না করা হলে তাঁরা নবান্ন অভিযান করবেন। শেষমেশ বৈঠক না হওয়ায় সেই অভিযানের কথা ঘোষণা করা হয়। তবে মাত্র দু’দিন আগেই তা স্থগিত হয়ে গেল।
যদিও নবান্ন অভিযানের দিনক্ষণ ঘোষণার পরে একদিকে যেমন সুপ্রিমকোর্ট রাজ্য সরকার এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে আপাতত যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চলতি বছরের 31 ডিসেম্বর পর্যন্ত চাকরি করার ছাড়পত্র দিয়েছে এবং বাংলার শিক্ষামন্ত্রী ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন খুব তাড়াতাড়ি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যোগ্য এবং অযোগ্যের তালিকা প্রকাশ করা হবে এই দুই পদক্ষেপে মুখ্যমন্ত্রীর উপরে আস্থা বেড়েছে চাকরিহারাদের।

অন্যদিকে, এসএসসির তরফেও জানানো হয়, যোগ্য-অযোগ্যর তালিকা আলাদা করে প্রকাশ করা হবে ২১ এপ্রিল। মুখ্যমন্ত্রী ও এসএসসির প্রতিশ্রুতি এবং শীর্ষ আদালতের রায় – তিন আশ্বাসের পর আস্থা বাড়ে চাকরিহারাদের। তাঁরা ২১ এপ্রিল নবান্ন অভিযান স্থগিত ঘোষণা করেন। ‘চাকরিপ্রার্থী, চাকরিজীবী ও চাকরিহারা ঐক্য মঞ্চে’র অন্যতম আহ্বায়ক দেবাশিস বিশ্বাস জানিয়েছেন, ”আমরা সাময়িকভাবে নবান্ন অভিযান স্থগিত রাখলাম। হাওড়া সিটি পুলিশ ও কলকাতা পুলিশকে চিঠি লিখে আমরা তা জানিয়েছি। মুখ্যসচিব ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করলে তাঁরা আমাদের কথা শুনবেন বলে আশা। সেটাই আপাতত আবেদন জানাব। আলোচনার পর আবার পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”