সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
মাত্র ২৪ ঘন্টা আগেই বঙ্গ সফরে এসে দুর্গাপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ভারতবর্ষের যে সমস্ত রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে সেই সমস্ত রাজ্যে সুরক্ষিত বাঙালি অস্মিতা এবং বাঙ্গালীদের জীবন। কিন্তু মোদির সফরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাংলার প্রতিবেশী অসমে বিজেপি শাসন থাকা সত্ত্বেও বাঙ্গালীদের উপরে অত্যাচারের অভিযোগ উঠল। আর সেই অভিযোগের কথা জানার পরেই তীব্র প্রতিবাদে ফুঁসে উঠলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
অসমে বাঙালি হেনস্তার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডেলে লিখলেন দীর্ঘ পোস্ট। মমতার পোস্ট দেখে পালটা জবাব দিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা। অসমে বাঙালি হেনস্থার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার দুপুরে এক্স হ্যান্ডলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, “দেশে দ্বিতীয় কথ্য ভাষা বাংলা।” আসাম সরকারকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন যে, “আসামে বিজেপির এই বিভাজনমূলক কর্মকাণ্ড সকল সীমা অতিক্রম করেছে এবং আসামের মানুষ এর বিরুদ্ধে জোরালোভাবে লড়াই করবে।” আসলে, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বাংলা ভাষা সম্পর্কে বলেছিলেন যে, বাংলাভাষী ব্যক্তিকে বাংলাদেশী বা বিদেশী হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। অসমের মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর, দুই দলই একে অপরকে দোষারোপ করছে।
আজ দুপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে লেখেন, “ভারতবর্ষে দ্বিতীয় সর্বাধিক কথ্য ভাষা বাংলা। অসমেও তাই। যাঁরা সমস্ত ভাষা ও ধর্মকে সম্মান করেন তাঁদের উপর শুধুমাত্র মাতৃভাষার জন্য হেনস্তা করা অসাংবিধানিক এবং বৈষম্যমূলক আচরণ। অসমে বিজেপির বিভেদমূলক অ্যাজেন্ডা সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে। অসমবাসী রুখে দাঁড়ান। যাঁরা মাতৃভাষার জন্য, নিজের পরিচয়রক্ষার লড়াই করছেন আমি তাঁদের মতো প্রত্যেক নির্ভীক মানষের পাশে আছি।”
মমতার এই পোস্ট দেখে চুপ থাকেননি অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি বলেন, “দিদি, আপনাকে মনে করাতে চাই, অসমে আমরা নিজেদের মানুষের সঙ্গে নিজেরা লড়াই করছি না। সীমান্তে মুসলিম অনুপ্রবেশ রুখছি আমরা। এখানে একাধিক এলাকায় হিন্দুরা নিজভূমেই সংখ্যালঘু হয়ে পড়ছে। এটা রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা নয়, এটাই বাস্তব। এমনকী সুপ্রিম কোর্টও এই অনুপ্রবেশকে বহিরাগত শক্তির প্রচেষ্টা বলে উল্লেখ করেছে। আমরা যখন নিজেদের ভূমি, সংস্কৃতি এবং পরিচিতি নিয়ে লড়াই করছি, আপনি তখন রাজনীতি করছেন।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা ভাষা বা ধর্ম দিয়ে মানুষের বিভাজন করি না। অসমীয়া, বাঙালি, বোড়ো, হিন্দিভাষী, সমস্ত ভাষার মানুষকে সম্মান করি আমরা। আমরা অসমের বিভাজন রুখতে সর্বতভাবে সক্রিয়। দিদি আপনি তখন একটি নির্দিষ্ট জাতির মানুষকে তোষণ করে চলেছেন। শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্কের জন্য। সীমান্তপারের অনুপ্রবেশ নিয়ে আপনি কোনও কথা বলতেন না। অসম নিজের হেরিটেজ, সাহস এবং সাংবিধানিক স্বচ্ছতার বিষয়ে খুব স্পষ্ট।”