এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে একদিকে যেমন ডেঙ্গির দাপট ক্রমেই বাড়ছে, অন্যদিকে ভাইরাল জ্বর এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপে নাজেহাল রাজ্যবাসী। কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদ, হাওড়া থেকে হুগলি—প্রায় প্রতিটি জেলায় জ্বর, সর্দি, কাশি, মাথা যন্ত্রণা ও শারীরিক দুর্বলতায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভাইরাল সংক্রমণের জন্য মূলত দায়ী ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস, বিশেষ করে H3N2 স্ট্রেইন। এই ভাইরাস খুব দ্রুত ছড়ায় এবং শিশু থেকে বৃদ্ধ—কাউকেই ছাড়ছে না।
ভাইরাল জ্বরের উপসর্গ কী কী?
✅ দীর্ঘস্থায়ী কাশি
✅ গলা ব্যথা ও গলার খুসখুস
✅ চোখ লাল হওয়া
✅ শরীর ম্যাজম্যাজে ভাব
✅ হালকা থেকে মাঝারি জ্বর
✅ খাবারে অনীহা
✅ কিছু ক্ষেত্রে ডায়ারিয়া
এইচথ্রিএনটু ভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রের নিচের অংশকে সংক্রমিত করে। হাঁচি-কাশির মাধ্যমে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে বিশেষ সতর্কতা জরুরি।
শিশুদের ক্ষেত্রে কীভাবে প্রভাব ফেলছে?
শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ শিশুই ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হচ্ছে। নবজাতক থেকে শুরু করে কিশোর পর্যন্ত অনেকেই ভুগছে কাশির যন্ত্রণায়। যাদের শরীর দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে জ্বর বেশি দিন থাকছে এবং হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন পড়ছে।
ডেঙ্গি ও ইনফ্লুয়েঞ্জা: কীভাবে আলাদা করবেন?
ডেঙ্গির ক্ষেত্রে সাধারণত দেখা যায়—
🔺 জ্বর অনেক বেশি (১০০-১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইটের উপরে)
🔺 চোখের পিছনে ব্যথা
🔺 শরীর ও গাঁটে গাঁটে ব্যথা
🔺 প্লেটলেট কমে যাওয়ার ঝুঁকি
অন্যদিকে ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ভাইরাল জ্বরে সাধারণত থাকে—
🔸 হালকা থেকে মাঝারি জ্বর
🔸 শুকনো কাশি ও সর্দি
🔸 মাথা ও গা হাত পা ব্যথা
🔸 শ্বাস নিতে কষ্ট
তিন-চার দিনের বেশি জ্বর থাকলে অবশ্যই রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত, এমনটাই বলছেন চিকিৎসকেরা।
এই পরিস্থিতিতে কী করবেন? (How to Stay Safe)
🛑 নিজে অসুস্থ থাকলে বাড়িতে থাকুন
😷 বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন
🫖 প্রতিদিন গরম পানির ভাপ নিন
🍲 হালকা, পুষ্টিকর খাবার খান
🧼 নিয়মিত হাত ধুয়ে নিন
🏥 উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
বিশেষত শিশু ও বয়স্কদের যত্ন নেওয়া খুব জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বা ওষুধ খাওয়া একেবারেই উচিত নয়।
হোমিওপ্যাথিতেও স্বস্তি মিলছে
অনেকেই হোমিও চিকিৎসার ওপর নির্ভর করছেন। চিকিৎসকরা বলছেন—বেলেডোনা, রাসটক্স, নাক্স ভমিকা, ডালাকামারা জাতীয় ওষুধ উপসর্গ অনুযায়ী কার্যকর হচ্ছে। তবে এখানেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়া অনুচিত।
Viral fever in West Bengal এখন একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনা অতিমারির পর মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়লেও ভাইরাল ফ্লুর মতো সংক্রমণে এখনো গাফিলতি করা হচ্ছে। তাই এই পরিস্থিতিতে সচেতন থাকাই একমাত্র উপায়। নিজে সাবধান থাকুন, পরিবারকেও সতর্ক করুন।
আপনি বা আপনার পরিবার আক্রান্ত হলে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সুস্থ থাকুন, সুরক্ষিত থাকুন।