প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন।
কলকাতার গলফগ্রিন থানা এলাকায় ধৃত এক বাংলাদেশি মডেল। লালবাজারের গুন্ডাদমন শাখার পুলিশ মঙ্গলবার বিকেলে ওই মহিলাকে গ্রেফতার করেছে দক্ষিণ কলকাতার বিক্রমগড় অঞ্চলের একটি ভাড়া বাড়ি থেকে। অভিযুক্তের নাম শান্তা পাল, বয়স ২৮ বছর।
ধৃত মহিলার ঘর থেকে উদ্ধার গুরুত্বপূর্ণ নথি
পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই মহিলার নামে এফআইআর দায়ের ছিল। অবশেষে সন্ধান পেয়ে, বিকেল ৪টা ৭ মিনিট নাগাদ গলফগ্রিনের ৬/এ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ ওই ঘর থেকে উদ্ধার করেছে একাধিক ভুয়ো ও সন্দেহজনক নথিপত্র।
এইসব নথির মধ্যে ছিল:
বাংলাদেশের একাধিক পাসপোর্ট (শান্তা পালের নামেই)
রিজেন্ট এয়ারওয়েজের কর্মী পরিচয়পত্র
ঢাকা মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অ্যাডমিট কার্ড
ভারতের বিভিন্ন ঠিকানায় তৈরি করা আধার কার্ড, ভোটার আইডি ও রেশন কার্ড
ভুয়ো নথির জালিয়াতিতে বড় চক্র জড়িত?
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এত সংখ্যক নথিপত্র জাল করার পেছনে শুধু একজন মহিলা নন, এর সঙ্গে বৃহত্তর একটি জালিয়াত চক্র জড়িত থাকতে পারে। একাধিক দেশের নথি ব্যবহারের মাধ্যমে সে দীর্ঘদিন ধরে ভারতে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন এবং তা ব্যবহার করে নানা বেআইনি কাজেও যুক্ত থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা।
তদন্তে কেন্দ্রীয় সংস্থাও যুক্ত হতে পারে
পুলিশ ইতিমধ্যেই নথিগুলির বৈধতা যাচাইয়ের জন্য ফরেনসিক বিভাগে পাঠিয়েছে। কীভাবে ভারতীয় আধার ও ভোটার কার্ড তৈরি করা হল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এমনকি এই চক্রের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা, মোবাইল সিম কার্ড নেওয়া অথবা বেআইনি আর্থিক লেনদেনের মতো গুরুতর অপরাধও যুক্ত থাকতে পারে।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও এই বিষয়ে তদন্তে যুক্ত হতে পারে বলে সূত্রের খবর। কারণ এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Bangladeshi model arrested in Kolkata ঘটনায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য—ভুয়ো নথি ব্যবহার করে বহিরাগতদের ভারতে বসবাস, কাজ ও ব্যবসা করার প্রবণতা বাড়ছে। এমন ঘটনা শুধু সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ব্যবস্থার জন্যও চ্যালেঞ্জ। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সংস্থার সমন্বিত তদন্তের মাধ্যমেই এই জালিয়াতির মূল শিকড়ে পৌঁছনো সম্ভব।