সুষমা পাল মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
‘বিজেপি মানুষের সঙ্গে মেশে না। অমর্ত্য সেনের মতো মানুষকেও নোটিস পাঠিয়েছে। এদের থেকে আর কী বা আশা করা যায়? এরা মায়ের চোখের জলের মূল্য বোঝে না।’ এভাবেই বীরভূমের মাটিতে দাঁড়িয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিষেক বলেন, ‘এসআইএআর-এ আমি আসতে আসতে শুনছিলাম, অর্মত্য সেনকে হিয়ারিংয়ের নোটিস পাঠিয়েছে। অর্মত্য সেন, ভারতবর্ষের জন্য নোবেল জিতে এনেছেন। দেশের নাম যে বিশ্বসভায় বিশ্ববন্দিত করেছে। যাকে দেখে, যার মাধ্যমে, দেশকে লোক চেনে, জানে, যার হাত ধরে দেশ সমৃদ্ধ হয়েছে, সেই অর্মত্য সেনকে এসআইআর-এর নোটিস পাঠিয়েছে। কালকে দেখছি, বাংলা সিনেমার, উজ্জ্বলতম নক্ষত্র অভিনেতা দেব, তাঁকে হিয়ারিং নোটিস পাঠিয়েছে। মহম্মদ শামি, যে ওয়াল্ডকাপে খেলে, দেশের জন্য বিশ্বকাপ জিতেছে। তাঁকে এসআইআর-এর নোটিস পাঠিয়েছে। নোটিস পাঠিয়ে আনম্যাপ করে দেওয়ার চক্রান্ত। যারা বাংলার মানুষকে আনম্যাপ করতে চায়, সেই বিজেপির ছাইপাশগুলিকে বাংলা থেকে আনম্যাপ করে, চিরতরে ঝেঁটিয়ে বিদায় দিতে হবে, এই লড়াই , সেই লড়াই।’
বীরভূমের রামপুরহাটে এক নির্বাচনী সভা থেকে আসন্ন নির্বাচনের জন্য স্পষ্ট লক্ষ্য বেঁধে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সভা শুরু হতে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কিছুটা দেরি হলেও, মঞ্চে পৌঁছে দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আক্রমণাত্মক বার্তা দেন তিনি। বীরভূমে দলের সংগঠন আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিরোধীদের সম্পূর্ণভাবে পরাস্ত করার ডাক দেন অভিষেক। সভা মঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এবার বীরভূমের ১১টি আসনের ১১টিতেই জয় চাই। গত কয়েকটি লোকসভা নির্বাচনে আপনারা প্রমাণ করেছেন, এই মাটিতে বিরোধীদের কোনও জায়গা নেই।’ তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে, বীরভূমে তৃণমূল ক্লিন সুইপের লক্ষ্য নিয়েই এগোতে চাইছে। এরপর অনুব্রত মণ্ডলের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, ‘গতকাল শুনলাম তারাপীঠে গিয়ে কেষ্টদা বলেছেন ২৩০টি আসন চাই। আমি বলছি, ২৩০টি নয়,আরও কুড়িটি বাড়িয়ে এবার ২৫০টি আসন চাই আমাদের।’ তাঁর এই মন্তব্যে দলের কর্মীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। সভাস্থলে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা হাততালি ও স্লোগানের মাধ্যমে অভিষেকের বক্তব্যকে সমর্থন জানান।
দলের সংগঠনকে বুথ স্তরে আরও মজবুত করার বার্তাও দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘যে বুথে গতবার তৃণমূলের ৫০টি ভোট ছিল, সেটা এবার ৫১ করতে হবে। যেখানে ১০০ ভোট ছিল, সেখানে ১১০ করতে হবে। এমনকি যেখানে ৩০০ ভোট ছিল, সেখানে এবার লক্ষ্য রাখতে হবে ৪০০ ভোট পাওয়ার। ওদের বুঝিয়ে দিতে হবে, ওদের পাপের ঘোড়া এবার পূর্ণ। বিজেপিকে শূন্য করে দিতে হবে।’
অভিষেকের হেলিকপ্টার বিভ্রাট
এদিন হেলিকপ্টার বিভ্রাটের কারণে বীরভূমের রামপুরহাটে পৌঁছতে কিছুটা দেরি হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। প্রাথমিকভাবে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ)-এর অনুমোদন না মেলায় নির্ধারিত সময়ে তাঁর হেলিকপ্টার ওড়েনি। পরে অনুমোদন পাওয়ার পর হেলিকপ্টারে করেই বীরভূমের উদ্দেশে রওনা দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।

সোনালির ছেলের নামকরণ
সোমবার, দেশের মাটিতেই পুত্রসন্তানের জন্ম দেন সোনালি খাতুন। সোনালি ও তাঁর সদ্যোজাত পুত্রসন্তানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কথা দেন তিনি সোনালি ও তাঁর নবজাতককে শুভেচ্ছা জানাতে ব্যক্তিগত ভাবে হাসপাতালে যাবেন। সেই কথা তিনি রাখলেন। মঙ্গলবার, মা এবং সদ্যোজাতকে দেখতে হাসপাতালে আসেন তিনি। দানিশ মামলায় বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘রাতের পর রাত বনে-জঙ্গলে কাটাতে হয়েছে ওই শিশুটিকে। বাচ্চার ওপর কী পরিমাণ অত্যাচার হয়েছে, তা ভাবুন। এই চোখের জলের মূল্য বিজেপিকে দিতেই হবে।’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, দানিশের বাবা-মায়ের নাম ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে থাকা সত্ত্বেও তাঁদের হেনস্থা করা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকার আদালতে থাপ্পড় খেয়েছে।’ তিনি আরও জানান, সংক্রমণের আশঙ্কায় তিনি এদিন শিশুটির কাছে যাননি। তিনি বলেন, ‘মিটিং থেকে এসেছিলাম, তাই বাচ্চার কাছে যাইনি। তবে, শিশুটির নাম রাখার অনুরোধ করেছিলেন সোনালি ও তাঁর মা। আমি ওর নাম রেখেছি ‘আপন’। কারণ যেভাবে পর করে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছিল, কিন্তু এঁরা সকলেই আমাদের আপন। তাই বাচ্চাটার নাম রাখা হয়েছে ‘আপন’ বলেন অভিষেক। দানিশের মামলাটি এদিন সুপ্রিম কোর্টে ছিল বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি আশ্বাস দেন, আবার তিনি শিশুটির বাড়িতে যাবেন।