শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
বালি পাচার মামলায় সোমবার সকাল থেকে অ্যাকশন মোডে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। বালি পাচার সংক্রান্ত মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এদিন সকালে কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালাল। এদিন ভোর থেকে কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, নদিয়ার বেশকিছু জায়গায় তল্লাশি শুরু হয়েছে। কলকাতা, গোপীবল্লভপুর-সহ রাজ্যের ২২টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চলে। তদন্তকারীদের নজরে একাধিক বালি খাদানের মালিক এবং তাঁদের অফিস। জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরে শেখ জহিরুল শেখ নামে এক ব্যক্তির বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে। ইডি সূত্রে খবর, রবিবার মধ্যরাতেই তদন্তকারীরা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে রাজ্যের নানা প্রান্তে রওনা দেন। তারপর এদিন সোমবার সকালে প্রায় একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়ার বেশ কয়েকটি ঠিকানাতেও নাগাড়ে এই তল্লাশি অভিযান চলছে। কলকাতার বেহালা এবং রিজেন্ট কলোনির দুটি ঠিকানাতেও তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।
শুধু তাই নয়, বেশ কয়েকটি বিমা সংস্থার অফিসেও এদিন সকাল থেকে তল্লাশি চলছে। তদন্তকারীদের দাবি, বালি পাচারের মোটা অঙ্কের টাকা বিমায় বিনিয়োগ করা হত। এই বিষয়ে আরও সূত্রে পৌঁছতে এদিন সকাল থেকে কোমর বেঁধে তল্লাশি অভিযানে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।
এদিন গোপীবল্লভপুর -১ ব্লকের নয়াবসানে শেখ জাহিরুলের বাড়িতে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। স্থানীয় সূত্রের খবর, বালি কারবারের সঙ্গে যুক্ত। এমনকী বেশ কয়েকটি বালি খাদান আছে বলেও অভিযোগ। একেবারে সুবর্ণরেখা নদীর পাশেই শেখ জাহিরুলের বাড়ি। এই সুবর্ণরেখা নদী থেকে তোলা বালির চাহিদা রয়েছে। ফলে তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সাইকেল সারাইয়ের সাধারণ কাজ থেকে কীভাবে জহিরুল কোটিপতি হয়ে উঠলেন, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রবল কৌতূহল। ইডি সূত্রে জানা গেছে, একসময় সাইকেল মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করা এই ব্যক্তি পরবর্তীকালে ভিলেজ পুলিশে যোগ দেন। কিন্তু হঠাৎই তিনি সেই চাকরি ছেড়ে বালি তোলার ব্যবসায় নামেন এবং তার ভাগ্য রাতারাতি বদলে যায়। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে তার সম্পত্তি এতটাই বেড়ে যায় যে স্থানীয়দের অনেকেই অবাক।
গোপীবল্লভপুরের দরিদ্র অধ্যুষিত এলাকায় জহিরুলের বিলাসবহুল তিনতলা বাড়িটি রীতিমতো আলোচনার বিষয়। সিসিটিভি ক্যামেরায় মোড়া এই বিশাল বাড়িটির সামনে এলাকাবাসীর মুখ খুলতে না চাইলেও তাদের চোখে মুখে বিস্ময় স্পষ্ট।
প্রাথমিক তদন্তে ইডি জানতে পেরেছে, জহিরুল সুবর্ণরেখা নদী থেকে অবৈধভাবে বালি তুলে তা সরকারি মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ দামে কলকাতা, রাজ্যের বিভিন্ন অংশ এবং এমনকি ঝাড়খণ্ডেও পাচার করতেন। ইডির এই তল্লাশি অভিযানে বালি পাচার চক্রের আরও বড় মাথাদের নাম সামনে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে তার বাড়ি ও গাড়ি থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, অবৈধ বালি ব্যবসা নিয়ে সরাসরি তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ভয়ঙ্করভাবে বালি তোলা হচ্ছে। কাঁসাই, সুবর্ণরেখা— কোনও নদীর অস্তিত্ব আর নেই। সমস্ত টাকা যাচ্ছে তৃণমূলের পকেটে। শুধু দল নয়, পুলিশ প্রশাসনের একাংশও জড়িত এই বেআইনি কারবারে। এসপি, আইসিরা সব কাজ ছেড়ে শুধু টাকা তোলার কাজে ব্যস্ত।
সম্প্রতি লালগড়ে পুলিশের অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আইসি সৌরভ রায়ের নেতৃত্বে একেবারে একটা গ্রামকে জেল খাটিয়েছে পুলিশ। বিনা দোষে ৬৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুভেন্দুর অভিযোগ, আসল অপরাধীরা রেহাই পাচ্ছেন, অথচ গ্রামের নিরপরাধ মানুষকে জেলে পাঠানো হচ্ছে। বিরোধী দলনেতা এ দিন জানান, বিজেপির তরফে খুব শিগগিরই জঙ্গলমহলের নির্যাতিত গ্রামগুলি পরিদর্শন করবেন দলের এমএলএরা। তাঁর দাবি, আমরা যা করার করছি। আজকে নয়, এক বছর ধরে লেগে রয়েছি।