সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
‘মধ্যরাতে মেসেজ পেলাম, কাউকে কাজে লাগিয়ে ছুপারুস্তমের মতো গুপ্ততাণ্ডব করছে। বাঙালি মহিলা চিফ সেক্রেটারি, ওঁকে বদলে দিয়েছেন। ওঁরা অ্যান্টি উইম্যান’ এভাবেই সোমবার কলকাতার রাজপথে কলেজস্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে পদযাত্রার পরে ধর্মতলার সভা মঞ্চ থেকে মধ্যরাতে রাজ্যের মুখ্য সচিবকে অপসারণের জন্য নির্বাচন কমিশন যে নির্দেশ দিয়েছে তার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
যেদিন রাজ্যে ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণা হল, তার পরের দিনই পথে মমতা। আজ, সোমবার গ্যাসের মুল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কলেজ স্কোয়ার থেকে ডোরিনায় ক্রসিং পর্যন্ত মিছিলেন হাঁটলেন তিনি। মিছিলের একেবারে প্রথমসারিতে ছিলেন বিরহা হাঁসদা, সায়নী ঘোষ, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, নয়না দাস প্রমুখ। মিছিল শেষে ডোরিনা ক্রসিংয়ে মমতা বলেন, ‘এই মিছিল ইলেকশনের আগেই ঠিক করা ছিল। কারণ,গ্যাসের দাম যে ভাবে বেড়েছে সে জন্য এই কর্মসূচি নিয়েছি। ভোটের আগে গ্য়াসে সার্ভার বন্ধ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে কেন্দ্র। আমি গ্যাস কোম্পানিগুলির সঙ্গে মিটিং করে জেনেছি, সঙ্কট নেই। আমরা বলছি সার্ভার ওপেন করুন। কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করা হয়েছে। ক্যাশ দিয়ে লাভ নেই। গ্যাস দিন মানুষকে। এত পাবলিসিটি না করে গ্যাসের দামটা ঠিক করতে পারতেন। উনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেন, এখানে কাজ নেই। তাই বাইরে যাচ্ছে বাঙালি। আমি বলি, উত্তরপ্রদেশ, বিহারের কত মানুষ কাজ করেন? তোমাদের রাজ্যে মেধা নেই বলে বাঙালিদের নিয়ে যাও।’
মমতা বলেন, ‘এ যেন মগের মুলুক। এক জন মহিলাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বার করে দিলেন। এক বার রাজ্যকে জিজ্ঞাসাও করলেন না! ডিজি কে ছিলেন? পীযূষ পাণ্ডে। তাঁকেও এক কথায় বাদ। আপনারা শুধু বাঙালি নয়, অবাঙালিদেরও বাদ দিচ্ছেন। আসলে আপনারা বেছে বেছে দেখছেন কারা বিজেপির হয়ে কাজ করবে। যাঁকেই পাঠান, তাঁরা আমাদের হয়ে কাজ করবেন। মানুষের হয়ে কাজ করবেন। আমি আরএসএসকে আগে শ্রদ্ধা করতাম। গান্ধীজির মৃত্যুর পরে করি না। সুপ্রিম কোর্টের উপর আমাদের আস্থা আছে। যাঁদের নাম কাটা যাবে ট্রাইবুনালে যাবেন। আপনারা যাবেন। বিনা পয়সায় আইনজীবীরা সাহায্য করবেন’। মোদীকে কটাক্ষ, ‘আগে বাংলাটা ভাল করে শিখে আসুন। না-হলে বলার প্রয়োজন নেই। রানি রাসমণিকে বলছেন রসোমণি! মাতঙ্গিনীকে কী যেন বলেছিলেন, আমি উচ্চারণ করতে পারছি না।’
বিজেপি ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করে মমতা বলেন, ‘আপনারা রাত সাড়ে ১২টার পরে নন্দিনী চক্রবর্তীকে তাণ্ডব করে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিলেন। বিজেপির দালালি করতে গিয়ে রাজ্যকে জিজ্ঞাসা করার দরকার মনে করলেন না। ধিক আপনাদের। হোম সেক্রেটারিও বাদ। তিনি তো নন বেঙ্গলি কেন বাদ হলেন? ডিজি পীযূষ পাণ্ডে, বিনীত গোয়েল তো নন বেঙ্গলি ছিলেন। তার মানে নন বেঙ্গলি এফিশিয়েন্টদেরও বাদ দিয়েছেন। আসলে বিজেপির কথায় কারা কাজ করবেন। দেখে দেখে চয়েস করছেন। এটা বিনাশকালে বুদ্ধিনাশ। জেনে রাখুন যে অফিসারই পাঠান, তাঁরা সবাই আমাদের হয়েই কাজ করবেন, মানুষের হয়ে, বাংলার হয়ে কাজ করবেন।’
রবিবারে মোদির ব্রিগেডের আগে রাজ্যের মন্ত্রীর বাড়িতে বিজেপির হামলার প্রসঙ্গ তুলে মমতা বলেন, ‘ব্রিগেডে মিটিং করার আগে আপনারা কী করলেন? শশী পাঁজার বাড়িতে হামলা করলেন? লজ্জা থাকা দরকার। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ি আক্রান্ত হয়েছে। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি আক্রান্ত হবে। কালীঘাট আক্রান্ত হবে। চারদিকে গুন্ডা লেলিয়ে দেবে। আমরা বলি, বুকের পাটা থাকলে দেখি। লড়ে নেবো। সবকটাকে লড়ে নেব। আমরা ঘাসকে জন্ম দিই। ঘাসে মুখ দিয়ে চলি না। আমরা হামলার বদলে হামলা করব না। তবে আমরা আর সহ্য করব না। আগে বলেছি, বদলা নয় বদল চাই। এবার বলছি, বিজেপি হটাও। আজ মিছিলে প্রমাণ হয়ে গিয়েছে, যতই করো হামলা। জিতবে কিন্তু বাংলা।

বাংলার মানুষ শান্তিতে থাকুক। বাংলার ভোটটা শান্তিপূর্ণ ভাবে করে দিন। কেউ কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না। এর পরে দিল্লিটা আমরা বুঝে নেব। বিশ্বাস রাখুন ভরসা, ভরসা রাখুন, মানুষের স্কিম আরও বাড়বে।’