সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
“মনে রাখবেন, যে আইনের বিরুদ্ধে অনেকে উত্তেজিত, সেই আইনটি কিন্তু আমরা করিনি। আইনটি কেন্দ্রীয় সরকার করেছে। তাই উত্তর যা চাওয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে চাইতে হবে। আমরা এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য সুস্পষ্টভাবে বলেছি – আমরা এই আইনকে সমর্থন করিনা। এই আইন আমাদের রাজ্যে লাগুও হবে না। তাহলে দাঙ্গা কিসের?” গোটা দেশের পাশাপাশি বাংলার বিভিন্ন জায়গায় ওয়াকফ সংশোধনীয় আইনেন্ট বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ আন্দোলনের রূপ নিতে শান্ত হওয়ার জন্য সকলকে এভাবেই আশ্বস্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এক্স হ্যান্ডলে শনিবার মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, “সব ধর্মের সকল মানুষের কাছে আমার একান্ত আবেদন, আপনারা দয়া করে শান্ত থাকুন, সংযত থাকুন। ধর্মের নামে কোনো অ-ধার্মিক আচরণ করবেন না। প্রত্যেক মানুষের প্রাণই মূল্যবান, রাজনীতির স্বার্থে দাঙ্গা লাগাবেন না। দাঙ্গা যারা করছেন তারা সমাজের ক্ষতি করছেন। মনে রাখবেন, যে আইনের বিরুদ্ধে অনেকে উত্তেজিত, সেই আইনটি কিন্তু আমরা করিনি। আইনটি কেন্দ্রীয় সরকার করেছে। তাই উত্তর যা চাওয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে চাইতে হবে। আমরা এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য সুস্পষ্টভাবে বলেছি – আমরা এই আইনকে সমর্থন করিনা।”
এরই পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর এক্স হ্যান্ডলে এদিন আরও লিখেছেন, “এই আইন আমাদের রাজ্যে লাগুও হবে না। তাহলে দাঙ্গা কিসের? আরো মনে রাখবেন, দাঙ্গায় যারা উস্কানি দিচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা আমরা নেবো। কোনো হিংসাত্মক কার্যকলাপকে আমরা প্রশ্রয় দিই না। কিছু রাজনৈতিক দল ধর্মকে অপব্যবহার করে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চাইছেন। তাদের প্ররোচনায় পা দেবেন না। আমি মনে করি, ধর্ম মানে মানবিকতা, সহৃদয়তা, সভ্যতা ও সম্প্রীতি। সকলে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখুন – এই আমার আবেদন।”

প্রসঙ্গত তৃণমূলের লোকসভা এবং রাজ্যসভায় সাংসদদের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও সংসদের উভয় কক্ষে পাশ হওয়া ওই আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। দলের সাংসদ মহুয়া মৈত্র এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন। তাঁর বক্তব্য, নতুন আইনটি পাশে প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ছিল।
তা ছাড়া সংশোধিত আইনটি ভারতের সংবিধানের মৌলিক ধারাগুলিকে লঙ্ঘনের মাধ্যমে প্রণয়ন করা হয়েছে। তাঁর মতদে, এই আইন সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ (আইনের দৃষ্টিতে সমতা), ১৫(১), ১৯(১)(ক) ও (গ) (মতপ্রকাশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা), ২১ (জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার), ২৫ ও ২৬ (ধর্মাচরণের অধিকার), ২৯ ও ৩০ (সংখ্যালঘুদের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত অধিকার), এবং ৩০০এ (সম্পত্তির অধিকার)- এইসব গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলিকে লঙ্ঘন করেছে।