‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ ঘিরে নতুন জল্পনা, ২০২৯-এ লোকসভার সঙ্গেই কি পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট?
শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
২০৩১ সাল পর্যন্ত নয়, ২০১৯ সালের আগেই ভেঙে যেতে পারে পশ্চিমবঙ্গের শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। 2019 সালে গোটা দেশ জুড়ে লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গেই পশ্চিমবঙ্গেও হতে পারে বিধানসভা নির্বাচন। গত কিছুদিন ধরে চলা জল্পনা উস্কে দিয়ে এমন সম্ভাবনার কথা জানালেন সংসদীয় কমিটির চেয়ারপার্সন।
‘এক দেশ, এক ভোট’ বিলটি বর্তমানে যৌথ সংসদীয় কমিটিতে। ওই কমিটি দেশের প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার, প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবং বিশিষ্টদের মতামত নিচ্ছে। কমিটির মাথায় বিজেপি সাংসদ পি পি চৌধুরী। আগে তিনি জানান, ২০৩৪ সালের আগে এক দেশ-এক ভোট নীতি কার্যকর হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু শনিবার তিনি হঠাৎই অবস্থান খানিকটা বদলে নিয়েছেন। তাঁর ইঙ্গিত, যৌথ সংসদীয় কমিটি চেষ্টা করছে যাতে বাদল অধিবেশনের আগেই রিপোর্ট জমা করা যায়। সেক্ষেত্রে বাদল অধিবেশনে ওই বিল সংসদে পেশ হতে পারে। এবং ২০২৯ সালে কার্যকর করার চেষ্টা করা যেতে পারে।
গোয়ায় দু’দিনের বৈঠক শেষে ওই বিল সংক্রান্ত যৌথ সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান পি পি চৌধুরী বলেন, ‘দেশের ৯৯ শতাংশ মানুষই চাইছে দ্রুত এক দেশে এক ভোট চালু হোক। এখনও ২০২৯ সালের মধ্যে ওই আইন কার্যকর করা সম্ভব।’ ২০১৯ সালে লোকসভার মেয়াদ পাঁচ বছর উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গ অসম তামিলনাড়ু সহ বিভিন্ন রাজ্যের অর্থাৎ যে সমস্ত রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে 2026 সালের সেই সমস্ত রাজ্যের সরকারের মেয়াদ বাকি থাকবে প্রায় দু বছরের বেশি।
সেক্ষেত্রে এই সমস্ত রাজ্যে কিভাবে আবার নতুন করে বিধানসভা নির্বাচন করা সম্ভব এবং তার সাংবিধানিক যৌক্তিকতা রয়েছে কিনা তা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘একবার আইন কার্যকর করার দিন ঠিক হয়ে গেলে বিধানসভা নির্বাচনগুলিকে লোকসভার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হবে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, ২০৩০ থেকে ২০৩৩ পর্যন্ত যে সব রাজ্যের নির্বাচন হওয়ার কথা সেই রাজ্যগুলিকে অল্প মেয়াদি বিধানসভার নির্বাচন করানো হবে। এবং ২০৩৪ সালে লোকসভার সঙ্গে ফের নির্বাচন হবে। রাজ্যগুলির ভোটের আগেই যদি ঠিক করা থাকে, যে বিধানসভার মেয়াদ ১ বছর বা দু’বছর বা তিন বছর তাহলে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার প্রশ্নই নেই।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নাগরিক সমাজের ৯৯ শতাংশ প্রতিনিধিই চাইছেন, ২০২৯ থেকে ‘এক দেশ-এক ভোট’ নীতি কার্যকর করা হোক। ‘এক দেশ-এক ভোট’ নীতি লাগু হলে কমপক্ষে ৭ লক্ষ কোটি টাকা প্রত্যক্ষ সাশ্রয় হতে পারে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের সার্বিক বিকাশের জন্য খরচ করা হলে তা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য কার্যকরী হবে।’