নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে সংগঠনকে বার্তা, অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে শুরু করে বিরোধীদের নিশানা— এক মঞ্চে একাধিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।
কনিষ্ক সামন্ত। কলকাতা সারাদিন।
মেচেদা (পূর্ব মেদিনীপুর) — স্বাস্থ্য, জনকল্যাণ, সংগঠন এবং রাজনীতির বার্তা— এক সভা থেকেই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পূর্ব মেদিনীপুরের মেচেদা (Mecheda)-য় বিজেপির সাংগঠনিক বৈঠকের পর তিনি ঘোষণা করেন, আগামী ১৬ অগাস্ট সারা রাজ্যে পালিত হবে ‘আয়ুষ্মান দিবস’। একইসঙ্গে জানিয়ে দেন, আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat) প্রকল্পের আওতায় যাঁরা আসতে পারবেন না, তাঁদের জন্য চালু করা হবে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা (Mukhyamantri Swasthya Bima Yojana)।
এই ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সত্তরোর্ধ্ব নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দুর কথায়, আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে রাজ্যের সমস্ত ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে নাগরিককে আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat) প্রকল্পের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। তবে যাঁরা কোনও কারণে সেই সুবিধা পাবেন না, তাঁদের জন্য আলাদা স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প চালু করা হবে, যাতে কোনও যোগ্য ব্যক্তি চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন।
এদিন মেচেদায় প্রথমে বিজেপির সাংগঠনিক নেতৃত্ব ও কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেন তিনি। পরে তমলুক সাংগঠনিক জেলা (Tamluk)-র কোর কমিটির সদস্যদের সঙ্গেও দীর্ঘ আলোচনা করেন। সেই বৈঠকে আসন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর।
সভায় অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana) নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি বহু উপভোক্তার নাম তালিকায় না থাকা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ না করার আবেদন জানান তিনি।
শুভেন্দু বলেন, যোগ্য কাউকেই বঞ্চিত করা হবে না। তাঁর দাবি, অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল সংখ্যক মহিলাকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। এখনও যাঁদের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি বা যাচাই বাকি রয়েছে, তাঁদের জন্য ৩০ অগাস্ট পর্যন্ত ভেরিফিকেশন ও আবেদন প্রক্রিয়া চলবে। প্রকৃত উপভোক্তারা ধাপে ধাপে সুবিধা পাবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মহিলা ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। প্রয়োজনে যাচাইয়ের পর আরও যোগ্য আবেদনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গেও এদিন ছিলেন আক্রমণাত্মক। সামনে নন্দীগ্রাম (Nandigram) বিধানসভার উপনির্বাচনকে ঘিরে বিরোধীদের কটাক্ষ করে শুভেন্দুর দাবি, স্থানীয় স্তরে বিরোধী শিবির প্রার্থী খুঁজতেই সমস্যায় পড়বে। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন আগামী নির্বাচনে দেখা যাবে।
তিনি আরও দাবি করেন, একসময় যাঁরা সিপিএম (CPM) বা তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)-এর সমর্থক ছিলেন, তাঁদের একাংশও এখন বিজেপির প্রতি আস্থা দেখাচ্ছেন। কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং মানুষের কাছে পৌঁছতে হবে।
বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে শুভেন্দুর স্পষ্ট বার্তা, ধৈর্য ধরে মানুষের মধ্যে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুফল মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও বদলাচ্ছে।
মেচেদার এই সভা থেকে করা একাধিক ঘোষণা এখন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার বিষয়। বিশেষ করে আয়ুষ্মান ভারত, নতুন স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প, অন্নপূর্ণা যোজনা এবং নন্দীগ্রামকে ঘিরে শুভেন্দুর বার্তা— সব মিলিয়ে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দেখছেন অনেকেই।

এখন নজর একটাই— ১৬ অগাস্টের ‘আয়ুষ্মান দিবস’ এবং তার আগে ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটাই কি বদলে দেবে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ?