সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
বহু কাঠখড় পুড়িয়ে মাত্র ২৪ ঘন্টা আগেই কলকাতা হাইকোর্ট থেকে মিলেছে শর্ত সাপেক্ষে ২১ জুলাই শহীদ দিবস পালনের অনুমতি। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই মমতার হাত ছেড়ে ঋতব্রতর শিবিরে যোগ দিয়েছেন ভবানীপুরের মিত্র পরিবারের সদস্য মদন মিত্র।
এবার রথযাত্রার দিনে মমতার হাত ছাড়লেন ভবানীপুরের মল্লিক বংশের সন্তান তথা রঞ্জিত মল্লিকের কন্যা কোয়েল মল্লিক। ইস্তফা দিলেন রাজ্যসভার সাংসদ পদে। ফলে দলের পাশাপাশি ভবানীপুরেও আরও একা হয়ে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে বিস্ফোরণের এখানেই শেষ নয়, ইস্তফা দেওয়ার ঠিক পরপরই কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন কোয়েল। যার জেরে ২১ জুলাইয়ের ঠিক মুখে চরম অস্বস্তিতে পড়ে গেল ঘাসফুল শিবির। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইস্তফা দিয়েই বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের দরবারে কোয়েলের হাজিরা দেওয়াটা মোটেও কাকতালীয় নয়। জোর জল্পনা, খুব দ্রুতই আনুষ্ঠানিকভাবে গেরুয়া কাপড়ে নিজেকে মুড়ে নিতে পারেন রঞ্জিত-কন্যা।
‘যাঁর যাঁর যাওয়ার আছে, ২১ জুলাইয়ের আগে লোটাকম্বল গুছিয়ে দল ছেড়ে চলে যান’ ডেডলাইন মমতার
রথের দিনেই আচমকা ইস্তফা দিলেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ রুক্মিণী মল্লিক ওরফে কোয়েল মল্লিক। বুধবার বিকেল পর্যন্তও রাজ্যসভার সরকারি ওয়েবসাইটে তৃণমূলের সাংসদ তালিকায় তাঁর নাম দেখা গেলেও বৃহস্পতিবার সকাল হতেই সম্পূর্ণ বদলে গেল গোটা দৃশ্যপট। কোয়েল মল্লিকের ইস্তফার ফলে এবার রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা এবার ১৩ থেকে এসে ঠেকল ৯ তে।
বস্তুত আগেই ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন সদ্য তৃণমূল রাজ্যসভার সাংসদ হওয়া কোয়েল মল্লিক। তবে তাঁকে জানানো হয় সশরীরে এসে ইস্তফাপত্র দিতে হবে উপরাষ্ট্রপতির হাতে। সেই মতো সূত্রের খবর রথযাত্রার পুণ্য তিথিতে আজ, বৃহস্পতিবারই নিজের ইস্তফাপত্র উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণণের হাতে তুলে দেন অভিনেত্রী। গত মাসেই শোনা যাচ্ছিল যে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন কয়েকজন সাংসদ। সেই সময়ই এক এক করে ইস্তফা দেন সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইক।

সেইসময়ই ই-মেলে ইস্তফা দেন কোয়েল মল্লিক। যদিও তা গ্রাহ্য হয়নি। কারণ সংসদীয় নিয়ম অনুসারে সশরীরে এসেই ইস্তফা দিতে হয় সাংসদদের। সেই মতো উপরাষ্ট্রপতি ভবন থেকে জানানো হয় কোয়েলকে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে পদত্যাগ পত্র দেওয়ার জন্য।