নিট আন্দোলন থেকে স্কুলের মৌলিক পরিকাঠামোর দাবি—নবপ্রজন্ম কেন পথে? উত্তর খুঁজতেই মুম্বইয়ে ছাত্র-যুব প্রতিনিধিদের সঙ্গে মুখোমুখি হচ্ছেন আরএসএস প্রধান
সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
দেশজুড়ে একের পর এক ছাত্র আন্দোলন। কোথাও নিট পরীক্ষা নিয়ে ক্ষোভ, কোথাও স্কুলে পানীয় জল, আলো-ফ্যান বা ন্যূনতম পরিকাঠামোর দাবিতে বিক্ষোভ। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে রাস্তায়—নবপ্রজন্মের প্রতিবাদ এখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। আর এই বদলে যাওয়া বাস্তবতার মাঝেই বড় বার্তা দিল মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) নেতৃত্বাধীন আরএসএস (RSS)।
সূত্রের খবর, আগামী ৬ আগস্ট মুম্বই (Mumbai)-এ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় দুই হাজার ছাত্র-যুব প্রতিনিধির সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসবেন আরএসএস প্রধান। উদ্দেশ্য একটাই—নবপ্রজন্ম কী ভাবছে, কেন তাদের একাংশ ক্রমশ আন্দোলনের পথে নামছে এবং সরকারের প্রতি কোথায় ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে, তা সরাসরি তাদের মুখ থেকেই শোনা।
গত এক বছরে ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতা দেশের রাজনৈতিক মহলেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। পরীক্ষা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে স্থানীয় সমস্যাও এখন তরুণ প্রজন্ম সোশ্যাল মিডিয়া এবং গণআন্দোলনের মাধ্যমে তুলে ধরছে। অনেক ক্ষেত্রেই সেই প্রতিবাদ জাতীয় স্তরে প্রভাব ফেলেছে।
আরএসএসের মতে, এই প্রজন্মের বড় অংশ হয়তো নিজেদের সমস্যার কথা জানানোর উপযুক্ত মঞ্চ খুঁজে পাচ্ছে না। তাই কোনও রাজনৈতিক ভাষণ নয়, বরং সরাসরি কথোপকথনের মাধ্যমেই তাদের অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা এবং অসন্তোষ জানতে আগ্রহী সংগঠন।
এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে ইন্ডিয়াজ ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট টু ইউনাইটেড নেশনস (India’s International Movement to Unite Nations – I.I.M.U.N.)-এর ১৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে। মুম্বইয়ের জিও ওয়ার্ল্ড কনভেনশন সেন্টার (Jio World Convention Centre, Mumbai)-এ দেশের ১০০-রও বেশি শহর থেকে আসা প্রায় দুই হাজার পড়ুয়া উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।

এই অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে দুই প্রজন্ম—জেন-জি (Gen Z) এবং জেনারেশন আলফা (Generation Alpha)। বিশেষ করে জেনারেশন আলফার প্রতিনিধিদের মতামত জানতে আগ্রহ বেশি বলেই সূত্রের দাবি। কারণ, এদের বড় অংশ এখনও ভোটাধিকার পায়নি। তবুও বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষাগত ইস্যুতে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নজর কেড়েছে।
আরএসএসের একাংশের মতে, ভোট দেওয়ার আগেই যদি তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়, তাহলে সেই কারণগুলি বোঝা জরুরি। সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনা শুরু হলে ভবিষ্যতে আরও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হতে পারে বলেই সংগঠনের ধারণা।
আলোচনায় ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সি ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণ বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে। শিক্ষা, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান, সামাজিক পরিবর্তন, মানসিক স্বাস্থ্য, নাগরিক দায়িত্ব এবং দেশের ভবিষ্যৎ—এমন একাধিক বিষয়ে তাঁদের মতামত শোনার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানের আয়োজক সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ঋষভ শাহ (Rishabh Shah) বলেন, নেতৃত্বের প্রকৃত অর্থ শুধু পরবর্তী প্রজন্মকে দিশা দেখানো নয়, তাদের কথা মন দিয়ে শোনাও। তাঁর কথায়, “ভারতের বর্তমান সময়ে এই ধরনের সংলাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কৃতজ্ঞ যে মোহন ভাগবত এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।”
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই উদ্যোগ শুধু একটি ছাত্র সম্মেলন নয়, বরং দেশের নবপ্রজন্মের মনোভাব বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের প্রতিবাদ, ডিজিটাল সক্রিয়তা এবং জনমত তৈরির ক্ষমতা যেভাবে বেড়েছে, তাতে এই বৈঠকের রাজনৈতিক তাৎপর্যও কম নয়।
তবে এই আলোচনা থেকে কী বার্তা উঠে আসে, ছাত্র-যুব প্রতিনিধিরা ঠিক কী প্রশ্ন তোলেন এবং সেই প্রশ্নের জবাবে আরএসএস নেতৃত্ব কী অবস্থান নেয়—সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে শিক্ষা জগত, সকলের।
নবপ্রজন্মের কণ্ঠস্বর কি নীতিনির্ধারণে নতুন প্রভাব ফেলবে, নাকি এটি শুধুই প্রতীকী সংলাপ হয়ে থাকবে? ৬ আগস্টের বৈঠকের পরই মিলতে পারে সেই প্রশ্নের প্রথম ইঙ্গিত।