সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
“কারা বলছে বাংলার বাজেট দিশাহীন? বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার জনমুখী, কেন্দ্রের মতো ভাঁওতাবাজি করে না।” এভাবেই রাজ্য বাজেট নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দিতে মুখ খুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের কথায়, “বিজেপির ১১ বছরের আমলে দেশের বেকারত্ব কোন জায়গায় পৌঁছেছে শ্বেতপত্রটা প্রকাশ করুক, তাহলেই তো বোঝা যাবে ওরা কী কাজ করছে। আর গত ১৪-১৫ বছরে বাংলায় যে বেকারত্ব কমেছে, সেটা তো আমরা তথ্য দিয়ে পরিসংখ্যান দিয়ে প্রমাণ করেছি।”
আয়করে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত কেন্দ্রের ছাড়ের ঘোষণাকে কটাক্ষ করে অভিষেক এও বলেন, “জল ছাড়া সবেতেই তো জিএসটি! মুখে বলছে ৮০ হাজার টাকা রিবেট দিচ্ছে, এদিকে জিএসটি বাবদ ৯৮ হাজার টাকা নিয়ে নিচ্ছে। এই হচ্ছে বিজেপি সরকার!” অভিষেক বলেন, ” ১২ লক্ষ বার্ষিক আয়ে করছাড় দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ মাসে এক লক্ষ টাকা আয়। ১২ লাখের আয়ের মানুষকেও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে হয়। জল ছাড়া সবেতেই জিএসটি। জিএসটি বাবদ যদি তাকে ৯৮ হাজার টাকা দিতে হয়, মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে, এর দায় কার? পরিসংখ্যান পেশ করে বলুন না। ফাঁকা কলসির মতো বাজেট, ফাঁকা কলসির আওয়াজ বেশি।”
কেন্দ্রের বাজেটে বাংলাকে বঞ্চনার অভিযোগ অভিষেক ব্যানার্জির। বিহারকে ঢালাও বরাদ্দ করা হলেও বাংলার জন্য কিছুই বরাদ্দ করা হয়নি বলে অভিযোগ অভিষেকের। তিনি বলেন, “বাংলার জন্য কী বরাদ্দ করেছে? বাংলাতেও বিজেপির ১২টা সাংসদ। বিহারেরও ১২টা বিজেপি সাংসদ। অথচ বিহারকে ঢালাও বরাদ্দ। অন্য রাজ্য পাক, তাতে অসুবিধা নেই, কিন্তু বাংলাকে কেন নয়?”
এরপরই এবারের রাজ্য বাজেটের ভূয়সী প্রশংসা করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পঞ্চায়েত, শিক্ষা-সহ প্রতিটি দফতর ধরে ধরে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের জন্য ৫০০ কোটি, গঙ্গাসাগর সেতু, পথশ্রীর জন্য ১৫০০ কোটি, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর থেকে চা বাগান, জঙ্গলমহলের জন্য ৭০০-৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য। এর থেকেই তো স্পষ্ট কারা কাজ করতে চায়, আর কারা ভাঁওতা দেয়। কেন্দ্রের বাজেট তো ভাঁওতা ছাড়া কিছু নয়।
বাজেটে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজনীতি করার অভিযোগ অভিষেকের। বাংলার মানুষ বিজেপিকে ভোট দেয়নি বলেই বাজেটে বঞ্চনা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের। তিনি বলেন, “বাংলার মানুষ মাথা নত করেনি বলে বাজেটে বঞ্চনা। ভোট দিলেই লাড্ডু, আর ভোট না দিলে বঞ্চনা। বাংলা স্বাধীনতা সংগ্রামীদের রাজ্য। কোনওদিন বশ্যতা স্বীকার করা হবে না।”

ছাব্বিশের নির্বাচনে একাই লড়বে তৃণমূল
অন্যদিকে, ছাব্বিশের নির্বাচনে একাই লড়বে তৃণমূল। স্পষ্টতই জানিয়ে দিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাতগাছিয়ায় সেবাশ্রয় শিবির পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। সেখানেই দিল্লির ভোটের ফলাফল প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বাংলায় তৃণমূলের একা লড়ার সিদ্ধান্তের কথা বললেন অভিষেক। দিল্লির ভোটে বিজেপি মানুষকে মিথ্যে বোঝাতে সফল হয়েছে বলে দাবি অভিষেকের। বিজেপি মানুষকে ভুল বোঝাতে সিদ্ধহস্ত বলে দাবি তাঁর। তিনি বলেন, “কেজরিওয়ালকে জেলে রেখে দেওয়া হয়েছে। আপ সরকারের মন্ত্রীদের জেলে রেখে দেওয়া হয়েছে। সবাই জেলে, অথচ বিজেপি লোককে বুঝিয়েছে সরকার কাজ করেনি। হাত যদি বেঁধে দেওয়া হয় কাজ করবে কীকরে?”
দিল্লির ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ অভিষেকের। গত ৮ মাসে ৪ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকায় নথিভুক্ত হয়েছে বলে দাবি তাঁর। তিনি বলেন, “এটা গত ১৪ বছরে হয়নি। কিন্তু বিজেপির বিরুদ্ধে যাদের লড়াই ছিল, সেই আপ বিষয়টি নিয়ে লড়তে পারেনি। আর কমিশনের ভূমিকা নিয়ে যত কম বলা যায় তত ভালো, গলা বিশ্রাম পাবে।”
দিল্লির ভোটে বিজেপির বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হয়ে লড়তে ফলাফলে তেমন বদল হত না বলে দাবি অভিষেকের। ২-৪ আসনে বদল হলেও সার্বিক ফল একই থাকত বলে মন্তব্য অভিষেকের। তিনি বলেন, “দিল্লিবাসী হয়ত বদল চেয়েছিল। গণতন্ত্রে মানুষ কখনও ভুল হতে পারে না। ভোটে হারা মানে মানুষ ভুল, এটা নয়।” বাংলার প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, “এখানেও বিজেপি বোঝানোর চেষ্টা করেছিল ১০০ দিনের মজুরি নিয়ে। কিন্তু বাংলার মানুষ জবাব দিয়েছে। কেন্দ্রীয় বঞ্চনার জবাব দিয়েছে। দিল্লির ভোট থেকে শিক্ষা নিতে হবে।”
যদিও ছাব্বিশের নির্বাচনেও তৃণমূল একাই লড়বে বলে জানিয়ে দেন অভিষেক। তিনি বলেন, “দিদি আগেই বলেছেন। তৃণমূল একাই লড়ে ভালো ফল করে। আমরা বরাবরই একাই লড়েছি। ছাব্বিশের এখনও এক বছর বাকি। আমরা ২০২১, ২০২৪, ২০১৯-এ একাই লড়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “একা লড়েই আমরা দারুণ ফল করেছি। তাই একাই লড়ব। বিজেপি বারবার বলেছে বাংলায় সবচেয়ে ভালো ফল হবে। কিন্তু ১৮ থেকে ১২ তে নেমে গেছে। বলা আর করার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য।”