কনিষ্ক সামন্ত। কলকাতা সারাদিন।
”শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। রেড রোডের অনুষ্ঠান হোক কিংবা বিধানসভা, শাসক দলের নেতাদের কেউ তাঁর মূর্তিতে মাল্যদান করতে আসেননি। তাঁকে অবহেলা করেই ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস ঘোষণা না করে, ১ বৈশাখ করা হয়েছে।” রবিবার প্রয়াত ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিবস উপলক্ষে বিধানসভায় তাঁর মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন শুভেন্দু অধিকারী। ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তিতে মাল্যদান করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সহ বিজেপি বিধায়করা।
বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডেপুটি স্পিকারকেও আক্রমণ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বিধানসভায় যাঁরা আসেন তাঁদের দলের প্রতিনিধি হয়ে আসেন। কিন্তু স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারকেও দেখা যায়নি শ্যামাপ্রসাদ মুখ্যোপাধ্যায়কে সম্মান জানাতে। স্পিকারের শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে বা ব্যক্তিগত কারণ থাকতে পারে। কিন্তু তার বদলে ডেপুটি স্পিকারও কেন আসবেন না?
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, ”১৯৪৭ সালের ২০ জুন শ্যামাপ্রসাদ পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টি না করলে বাঙালি-হিন্দুরা তাঁদের মাতৃভূমি পেত না। তিনি যে আদর্শ নিয়ে চলেছেন, তা এখন পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ এসেছে। ২০২৬ সালে বাংলার মানুষকে সেই কাজ করে দেখাতে হবে, তাহলেই রাজ্যের উন্নতি হবে এবং দুর্নীতি ও অত্যাচার থেকে সাধারণ মানুষ মুক্তি পাবে।”
অন্যদিকে, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ফের সরব রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিয়ে। সরব রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের অবাধ বিচরণ নিয়ে। সেই সঙ্গে তুলে দিলেন গুরুতর অভিযোগ। শুভেন্দুর দাবি, গত লোকসভা নির্বাচনে প্রত্যেকটা ফেজে ৪ থেকে ৫ হাজার ক্যামেরা দু’বার করে বন্ধ করা হয়েছিল। সেই তথ্যও তিনি দ্রুত সামনে আনবেন বলে জানান। শুভেন্দুর এই দাবি ঘিরেই নতুন করে শুরু হয়ে গিয়েছে চর্চা।
বিধানসভার বিরোধী দলনেতার দাবি, নিজেদের স্বার্থে আঘাত লাগতে পারে বুঝেই এখন তৃণমূল ভোটার লিস্ট পরিমার্জনে আপত্তি তুলছে। শুভেন্দু বলছেন, “ভোটার লিস্টে প্রচুর রোহিঙ্গা মুসলমানের নাম রয়েছে। যাঁরা শরণার্থী নয়, অনুপ্রবেশকারী। তাঁদের নাম বাদ চলে যাবে। বাদ গেলে ওদের অসুবিধা হবে।”

সুর চড়িয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। এদিন সাংসাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কটাক্ষের সুরে শুভেন্দু বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোট ব্যাঙ্কে ১২ থেকে ১৪ বছরের বাচ্চারও নাম রয়েছে। সেই সময় নাম চলে যাবে, ভুয়ো ভোটারদের নাম বাদ হয়ে যাবে তাই ভয়ে এসব করছে। ২০ শতাংশ ভোট তো এদিক ওদিক করে। বিকেল ৪টে থেকে ৬টা পর্যন্ত ক্যামেরা বন্ধ করে যে ভোট হয় তা হবে না, তাই অসুবিধা হচ্ছে।”