সুহানা বিশ্বাস। কলকাতা সারাদিন।
এসএসসির নতুন বিজ্ঞপ্তিতে হস্তক্ষেপ করল না কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার মামলাকারীদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি স্মিতা দাস দের ডিভিশন বেঞ্চ। তবে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মামলাকারীরা। তবে, সিঙ্গল ও ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ মোতাবেক পরীক্ষায় বসতে পারবে না ‘চিহ্নিত অযোগ্য’রা। সুতরাং বহাল থাকছে স্কুল সার্ভিস কমিশনের গত ৩০ মে-র বিজ্ঞপ্তি।
গত ১৪ জুলাই স্কুল সার্ভিস কমিশনের নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে শেষবার শুনানি হয়। সেদিন শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রেখেছিলেন বিচারপতিরা। বুধবার মামলাকারীদের আর্জি খারিজ করে দিল কোর্ট। তবে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মামলকারীরা।
এই মামলার শুনানিতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (AG) কিশোর দত্তের ব্যাখ্যা ছিল, সুপ্রিম কোর্ট পুরনো নিয়োগ বাতিল করলেও, ২০১৬ সালের নিয়মেই ফের নিয়োগ করতে হবে এমন নির্দেশ দেয়নি। শুধু বলেছে শূন্যপদ পূরণ করতে হবে। সেই নির্দেশ মেনেই এসএসসি নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে মামলাকারীদের পক্ষে আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের সাফ বক্তব্য ছিল, আগের নিয়োগ দুর্নীতির জন্য বাতিল হয়েছে। সেই শূন্যপদে নিয়োগ করতেই হবে। নতুন নিয়ম করে এসএসসি যোগ্যতার মান বদল করেছে, যা বেআইনি। এসএসসি-র আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা বলেছিলেন, এসএসসি-র নিয়োগে কোন নিয়ম কার্যকর হবে, সেটা কমিশনের এক্তিয়ার। কেউ ২০১৯ সালের নিয়োগ বিধিকে চ্যালেঞ্জ করেননি। তবু সেটা মেনেই নিয়োগ বাতিল হয়েছে। যোগ্যতা থাকলে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বসতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। বুধবার দেখা গেল, কলকাতা হাইকোর্ট এসএসসি-কেই স্বস্তি দিল। নতুন বিজ্ঞপ্তি নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করা তো দূর, বিষয়টিতে হস্তক্ষেপই করল না।
বুধবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌমেন সেন এবং বিচারপতি স্মিতা দাসের ডিভিশন বেঞ্চ রায় ঘোষণা করে। চাকরিপ্রার্থীদের আবেদন খারিজ করে হাই কোর্টের তরফে জানানো হয়, ২০২৫ সালের নতুন নিয়োগবিধি মেনেই হবে পরীক্ষা। চাকরির অভিজ্ঞতার জন্য বাড়তি ১০ নম্বর এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে বা অন্যান্য ক্ষেত্রে নম্বর বিভাজনে যে পরিবর্তন আনা হল, তা চ্যালেঞ্জ করেও মামলা দায়ের হয়। সেই আপত্তি গ্রাহ্য করল না কলকাতা হাই কোর্ট।

ফলে বহাল থাকছে স্কুল সার্ভিস কমিশনের ৩০ মে-র বিজ্ঞপ্তি। নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে এসএসসির আর কোনও অসুবিধা থাকল না। যদিও আগের নির্দেশ অনুযায়ী, ‘চিহ্নিত অযোগ্য’রা এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না।