শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
“এই বিডিও যাঁরা ভুয়ো ওবিসি সার্টিফিকেটে পিএসসি-তে টাকা দিয়ে ফাঁকা খাতা দিয়ে চাকরি পেয়েছে।” বাংলায় এসআইআর শুরুর আগেই বিএলও নিয়োগ নিয়ে বিস্ফোরক বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিরোধী দলনেতার নিশানায় বিডিও-দের একাংশ। স্থায়ী কর্মী থাকা সত্বেও অস্থায়ী কর্মীদের বিএলও পদে নিয়োগ করা হয়েছে। যাঁরা এদের নিয়োগ করেছেন তাঁদের গ্রেফতার করতে হবে। দাবি করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “৭০ থেকে ৮০ জন এমন বিডিও আছেন। ওরা জানেন মমতা গেলে চাকরি যাবে। তাই তারা স্থায়ী কর্মী থাকা সত্বেও অস্থায়ী কর্মীদের বিএলও করেছে। আমি পঞ্চাশের মতো নাম পেয়েছি। আরও বাড়বে এই সংখ্যা। এদের গ্রেফতার করতে হবে।”
এদিকে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তৃণমূল মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ বলেন, “উনি যেটা বলেছেন সেটা প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করুন না। আর বিএলও হল সর্বনিম্ন স্তরের ইলেকশন কমিশনের মেশিনারিতে। আর নির্বাচনের কমিশনের যিনি সর্বোচ্চ স্তরে আছেন তাঁর নিয়োগ পদ্ধতি কেন পরিবর্তন করে দিলেন?” বস্তুত, আরামবাগ থেকে অভিযোগ আসছে অস্থায়ী কর্মীরাই বিএলও হিসাবে কাজ করছেন। নিয়োগ করা হয়েছে পঞ্চায়েতের কর্মী বা অবসরপ্রাপ্তদের। পুরো বিষটি পরিচালনা করছে তৃণমূল।
বিএলও পদে কর্মরত অস্থায়ী কর্মী শ্রীমন্ত রায় বলেন, “সার্ভেলেন্স দল সমীক্ষা করে আনেন। সমস্যা চিহ্নিত করেন। কন্ট্রোল টিম কন্ট্রোল করেন। আমরা এই প্রোজেক্টের অধীনে কাজ করি। অস্থায়ী হিসাবে নিয়োগ হয়েছে।”
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষা আন্দোলনের আহ্বানকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রোহিঙ্গাদের আত্মীয়। রবিবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রামে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন কি বাত অনুষ্ঠান শোনার আয়োজন করা হয়।
এরই ফাঁকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরেকটি ‘ভাষা আন্দোলন’-এর ডাক প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, …এটা কেবল এসআইআর-কে থামানোর নাটক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রোহিঙ্গাদের আত্মীয়। তিনি বাংলাদেশী মুসলমানদের রক্ষক। তার ভোট ব্যাংকের একটি বড় অংশ অনুপ্রবেশকারী, বাংলাদেশী এবং রোহিঙ্গারা।
হিন্দুদের মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে এদিন হাওড়ায় শুভেন্দু মিছিল করেন। সেখান থেকে বিরোধী দলনেতা বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানেন, এই জলটা বেরিয়ে গেলে, দুধটা রয়ে যাবে। এবং তাঁর ভোটটা ২ কোটির নিচে নেমে যাবে। সেই আতঙ্কে এগুলি করছে। এরসঙ্গে ভাষার কোনও সম্পর্ক নেই। আর বাংলাদেশি মুসলমানরাও বাংলাতে কথা বলে। রোহিঙ্গাদের কথার একটু টান আছে। কিন্তু ওরা বার্মা থেকে কক্সবাজারে এসে, সেখানে দুই-তিন বছর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থেকে, তারপর বাংলা শিখে এখানে এসে ছড়িয়ে পড়েছে। এরা কেউ থাকবে না। সব রাজ্য থেকেই পুশ ব্যাক হচ্ছে। এখানেও পুশ ব্যাক হবে। আমরা এসআইআর ও চাই। আর বাংলার জনগণ বাঙালি, ভূমিপুত্র, ভূমিকন্যাদের আবেদন করব, বিজেপিকে আনুন। উত্তরপ্রদেশ-সহ গোটা ভারতবর্ষ, যেভাবে অনুপ্রবেশকারীদের তাড়িয়ে দিয়েছে। আমরাও তাড়াবো।”