রবিবার সকালে দক্ষিণ কলকাতার রিজেন্ট পার্কে এক প্রবীণ নাগরিকের রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আনন্দপল্লি পশ্চিমে নিজের বাড়ি থেকে দিলীপকুমার সাহা নামে এক প্রবীণের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকুরিয়ার একটি স্কুলে অশিক্ষক কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর আত্মহত্যার পেছনে এনআরসি-র আতঙ্কই কারণ বলে দাবি পরিবারের।
সুইসাইড নোটে কী ইঙ্গিত?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে, যা এখন পরীক্ষাধীন। তবে তাতে এনআরসি সংক্রান্ত উদ্বেগ ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা নিয়ে কিছু লেখা আছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান।
দিলীপ সাহার স্ত্রী আরতি সাহা জানিয়েছেন, “আমাদের সব নথি আছে— ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, রেশন কার্ড। তবুও উনি বারবার বলতেন, এনআরসি হলে আমায় বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে। এই ভয়েই হয়তো মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।”
এক সপ্তাহ ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন দিলীপ
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরেই দিলীপবাবু মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। মাঝে মাঝেই একা একা কথা বলতেন, খাওয়া-দাওয়া কমিয়ে দিয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু তার আগেই এই অঘটন ঘটে যায়।
বাংলায় শুরু হচ্ছে SIR, আতঙ্ক বাড়াচ্ছে বিজেপি বিরোধীরা বলছে
তৃণমূল কংগ্রেস বারবার অভিযোগ করে এসেছে যে, বাংলায় ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে Special Intensive Revision (SIR) আসলে এনআরসি-রই একটি সূক্ষ্ম রূপ। এই আতঙ্ক সাধারণ মানুষের মধ্যে দানা বাঁধছে।
এই আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে সেই আশঙ্কাই সামনে আসছে।
মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের তীব্র প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার মানুষের মধ্যে ভয় ঢুকিয়ে দিচ্ছে। বাংলার মানুষকে তারা আতঙ্কে রাখছে। এরা চায়, বাঙালিকে ভাতে মারবে, পানিতে মারবে, আইনের ভয় দেখিয়ে মানসিকভাবে শেষ করে দেবে।”
তিনি আরও বলেন, এই মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, সমগ্র বাংলার উপর চাপিয়ে দেওয়া এক রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ফল।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
পুলিশ ইতিমধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং সুইসাইড নোট পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত চলছে।
রিজেন্ট পার্কের এই ঘটনা বাংলার সাধারণ মানুষের মনে আরও একবার প্রশ্ন তুলে দিল— নাগরিক হিসেবে নিজের পরিচয় নিয়ে কি আজও নিশ্চিন্ত থাকা যায়? বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও যদি এক প্রবীণ এইভাবে জীবন শেষ করেন, তবে এনআরসি আতঙ্ক কতটা গভীরে পৌঁছেছে তা স্পষ্ট।
আরও বাস্তব, মানবিক ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদন পেতে নজর রাখুন কলকাতা সারাদিন নিউজ পোর্টাল-এ।