শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
”বিনীত গোয়েলকে বাঁচাতে চান মনোজ ভার্মা। এই দু-জনকে খতম করতে চেয়েছিল, যাতে মামলা ক্লোজ হয়ে যায়। পরিকল্পনা করে এটা করা হয়েছে।” আর জি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক পড়ুয়াকে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় প্রকৃত বিচারের দাবিতে নারকীয় সেই ঘটনার বর্ষ করতে উপলক্ষে আজ শনিবার নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুর আবেদনের সাড়া দিয়ে সেই অভিযানের সামিল হয়েছিলেন অভয়ার মা-বাবা। সেখানেই পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে নির্যাতিতার বাবা-মা আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ। আর তারপরেই এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ পূর্ব পরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন শুভেন্দু অধিকারী।
বেলা ১২টা নাগাদ মিছিল পার্কস্ট্রিট হয়ে নবান্নের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। কিন্তু পার্কস্ট্রিট মোড়েই মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। তার কিছু ক্ষণ পরেই পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। সেই সময়েই নির্যাতিতার মা আঘাত পান বলে দাবি। অভিযোগ, ধস্তাধস্তির সময় মহিলা পুলিশকর্মীদের লাঠির আঘাতে নির্যাতিতার মায়ের কপালে চোট লাগে। কপাল ফুলেও গিয়েছে। ভেঙেছে তাঁর হাতের শাঁখাও। এরপরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নির্যাতিতার মাকে হাসপাতালে দেখতে যান। শুভেন্দু অধিকারী জানান, নির্যাতিতার মাকে ভর্তি নেওয়া হয়েছে, মানে তিনি খুব একটা স্থিতিশীল নন। তবে এরপর সংবাদমাধ্যমে যে দাবি করেন, তা বিস্ফোরক। শুধু নির্যাতিতার মা নয়, তাঁর বাবাকেও মারার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। সেই ইস্যুতে শুভেন্দুর দাবি, এই দুজনকে দমাতে পারছে না পুলিশ-প্রশাসন। তাই তাঁদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। ধর্মতলা থেকে মিছিল শুরু হওয়ার আগে সেখানে পৌঁছেই পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন নির্যাতিতার বাবা। তিনি বলেন, ”আমরা যে গাড়ি করে আসছিলাম, তার নম্বর সব জায়গা দেওয়া হয়েছে। আমাদের গাড়ি বার বার আটকানো হয়েছে। বলতে গেলে পুলিশের সঙ্গে লুকোচুরি করে এখানে পৌঁছেছি। হাই কোর্ট শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অনুমতি দিয়েছে। তার পরেও বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড করেছে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের ভয় পেয়েছেন। আমরা তো অস্ত্র নিয়ে যাচ্ছি না, আমরা বিচারের দাবিতে যাচ্ছি। উনি ভয় পেয়েছেন, আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করে থ্রেট কালচার চালু করেছেন। বিচারের দাবিতে আমাদের লড়াই চলতেই থাকবে। সিবিআই বলছে সঞ্জয় রায় একাই দোষী। আমরা বলেছি, দেশের ১৪০ কোটি মানুষকে যদি বিশ্বাস করাতে পারেন তাহলে আমরা মেনে নেব।”
অভয়ার মা-বাবার ডাকে শনিবার নবান্ন অভিযানকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের রূপ নিল কলকাতা মহানগরী। পার্ক স্ট্রীট, ধর্মতলা,ডরিনা ক্রসিং এইসব এলাকায় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের খন্ড যুদ্ধ বাঁধে। এদিকে পার্ক স্ট্রিটে এদিনে আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণা করতে গিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানান আগামী দিন আন্দোলন আরো তীব্রতর হবে। আগামী দিন তার উদ্দেশ্য একটাই বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে প্রাক্তন করা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেলে পোরা। এরপরই শুভেন্দু কলকাতার পুলিশ কমিশনারের নাম নিয়ে বলেন মনোজ ভার্মাকে যেখানে ঢোকানোর ঢোকাবো। তারপরই হাতে মাইক ধরে প্রকাশ্যে পার্ক স্ট্রিটের রাস্তায় দাঁড়িয়ে অকথ্য ভাষায় পুলিশ কমিশনারের নাম নিয়ে গালমন্দ করেন শুভেন্দু অধিকারী। নবান্ন অভিযান আটকাতে ত্রি-স্তরীয় ব্যারিকেডের ব্যবস্থা করা হয়েছিল কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে। আন্দোলনকারীরা সেই ব্যারিকেড টপকে এগিয়ে যাওয়ার ক্রমাগত চেষ্টা করেন। শুভেন্দু অধিকারীও ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করেন। পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ব্যাপক ধস্তাধস্তি শুরু হয়। সংঘর্ষে আহত হন এক মহিলা। কার্যত পুলিশের সঙ্গে লুকোচুরি শুরু হয়। পার্ক স্ট্রিটের মুখে পুলিশ আন্দোলনকারীদের পথ আটকে দেয়। আন্দোলনকারীরা গার্ডরেল ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করেন। বাধ্য হয়ে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। আটক করা হয় একাধিক আন্দোলনকারীকে। পুলিশকে মারধর করতেও দেখা যায়। নিউমার্কেট এলাকায় এক পুলিশ কর্মীর মাথা ফেটে যায়।

বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার খুনের মামলায় তৃণমূল বিধায়কদের যে পরিণতি হচ্ছে সেটা মনে করান শুভেন্দু। বলেন, ওই মামলার প্রকৃতি দেখেই এখন এই আরজি কর মামলা আরও দাবিয়ে দেওয়া চেষ্টা হচ্ছে। সন্দীপ ঘোষ, অভিজিৎ মণ্ডলের ফোন ঘাঁটলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করেন তিনি। বলেন, গত বছর ১৪ অগস্ট আরজি করে ভাঙচুরের ঘটনার পিছনে যে মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তা প্রমাণ হয়ে যাবে। তাই মনোজ ভার্মার পুলিশ মমতার ইশারায় কাজ করছে। শুভেন্দুর স্পষ্ট কথা, নির্যাতিতার বাবা-মা নাছোড়বান্দা। পথে নেমে আন্দোলন করছেন, আইনি লড়াইও জারি রেখেছেন। তাই মমতার পুলিশ ভয় পাচ্ছে কারণ বিনীত গোয়েল, অভিজিৎ মণ্ডলের বিরুদ্ধে তথ্য বেরিয়ে আসবে। ঠিকঠাক তদন্ত হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও জড়াবে।