শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
ভারতে অনলাইন গেমিং শিল্প দ্রুত বাড়ছে। কোটি কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে প্রতিদিন। তবে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জুয়া, প্রতারণা আর আর্থিক তছরুপের মতো বড় সমস্যা। সেই কারণেই কেন্দ্র সরকার সংসদে নিয়ে এসেছে Online Gaming Bill 2025। লোকসভার পর এবার রাজ্যসভাতেও বিলটি পাস হয়ে গিয়েছে। এখন শুধু বাকি রাষ্ট্রপতির অনুমোদন।
কেন্দ্রীয় তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, এই বিল সমাজে ভারসাম্য তৈরি করবে। যেখানে ই-স্পোর্টস ও সোশ্যাল গেমসকে উৎসাহ দেওয়া হবে, কিন্তু অনলাইন মানি গেমসকে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
Online Gaming Bill 2025 কী বলছে?
এই নতুন বিলে গেমিং শিল্পকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে –
1. ই-স্পোর্টস (E-Sports):
ভারতে ই-স্পোর্টসকে অন্যান্য খেলাধুলার মতোই স্বীকৃতি দেওয়া হবে। গেমিং প্রতিযোগিতা, টুর্নামেন্ট, আন্তর্জাতিক ইভেন্টে ভারতের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।
2. অনলাইন সোশ্যাল গেমস (Online Social Games):
যেসব গেমে জুয়ার কোনও সম্পর্ক নেই, যেমন সাধারণ মজার গেম, পাজল বা ফ্রেন্ডলি মাল্টিপ্লেয়ার গেম, সেগুলিকে উৎসাহ দেওয়া হবে। এগুলোকে তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তি শিক্ষার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
3. অনলাইন মানি গেমস (Online Money Games):
যেখানে টাকার বিনিময়ে খেলা হয়, এবং ব্যবহারকারী আসক্ত হয়ে নিজের সব উপার্জন হারিয়ে ফেলতে পারেন – সেই গেমগুলো এবার থেকে নিষিদ্ধ হবে।
কেন দরকার এই আইন?
কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ফ্যান্টাসি গেমিং ও মানি গেমসের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে ভারতে। এই টাকা অনেক সময় প্রতারণা, আর্থিক তছরুপ এমনকি সন্ত্রাসে মদতের জন্যও ব্যবহার হচ্ছে।
অনেক ছোট-বড় অ্যাপ ডেভেলপার হঠাৎ করে বাজারে ঢুকে পড়েছে। ব্যবহারকারীদের প্রলুব্ধ করতে বিজ্ঞাপনে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ যুবক-যুবতীরা সহজেই ফাঁদে পড়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত ক্ষতির মুখে পড়ে।
নতুন আইনে শাস্তির বিধান
Online Gaming Bill 2025 পাস হলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা কার্যকর হবে।
যারা অবৈধ মানি গেম অ্যাপ পরিচালনা করবে, তাদের সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা জরিমানা এবং ৩ বছরের জেল হতে পারে।
যারা এই অ্যাপগুলির বিজ্ঞাপন করবে, তাদের উপর পড়বে ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা।
সরকার জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেলেই এই আইন কার্যকর হবে এবং বেআইনি গেমিং প্ল্যাটফর্মগুলির বিরুদ্ধে আদালতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গেমিং শিল্পের ভবিষ্যৎ
এই নতুন আইন ভারতে গেমিং ইকোসিস্টেমে এক বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে।
ই-স্পোর্টস ও সোশ্যাল গেমস আরও দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ পরিবেশ পেলে ভারতে গেমিং ইন্ডাস্ট্রিতে আরও বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবেন।
মানি গেমস ও অবৈধ প্ল্যাটফর্মগুলিকে নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা বাড়বে।

অনলাইন গেমারদের জন্য বার্তা
যারা অনলাইন গেম খেলেন, তাদের জন্য এই আইন একটি সুরক্ষার ব্যবস্থা। এখন থেকে আইন মেনে চলা অ্যাপেই খেলা উচিত। যেসব গেমে টাকা লেনদেন হয় এবং ঝুঁকি বেশি, সেগুলি এড়িয়ে চলা উচিত।
অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেছেন – “যা সমাজের জন্য ভালো, তাকে উৎসাহ দেওয়া হবে। যা ক্ষতিকর, তাকে বন্ধ করা হবে।” অর্থাৎ এখন থেকে ভারতীয় গেমিং বাজার হবে আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর।
Online Gaming Bill 2025 পাশ হওয়ায় ভারতীয় গেমিং শিল্পে এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। ই-স্পোর্টস ও সোশ্যাল গেমসকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে অবৈধ মানি গেমস ও প্রতারণামূলক প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর বিলটি আইনে পরিণত হলে, ভারতে অনলাইন গেমিং-এর জন্য একটি সুসংগঠিত ও ন্যায্য পরিবেশ তৈরি হবে।