সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
আগামী সপ্তাহে বসতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন। এই অধিবেশন ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে প্রবল উত্তেজনা। শাসকদল তৃণমূল ঘোষণা করেছে, তারা এই অধিবেশনে দু’টি আলাদা প্রস্তাব আনবে। প্রথম প্রস্তাব বাংলাভাষী মানুষ ও বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে হওয়া হামলার বিরুদ্ধে, আর দ্বিতীয় প্রস্তাব নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া অর্থাৎ নিবিড় সমীক্ষার বিরুদ্ধে। এই দুই ইস্যুকেই সামনে রেখে বিজেপিকে কোণঠাসা করার কৌশল নিয়েছে তৃণমূল।
তৃণমূলের দাবি, রাজস্থান, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র এবং ওড়িশার মতো একাধিক রাজ্যে বাংলাভাষী মানুষ ও শ্রমিকদের উপর সম্প্রতি বারবার আক্রমণ হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের পুলিশ-প্রশাসনের দ্বারা হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। এমনকি কিছু শ্রমিককে নাকি বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এবার সেই ঘটনাকে সরকারিভাবে বিধানসভায় প্রস্তাব আকারে উপস্থাপন করবে তৃণমূল। গত বৃহস্পতিবারও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চ থেকে এই নিয়ে মুখ খোলেন মমতা। তৃণমূলনেত্রী বলেন, আমাদের পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার করে, তখন মুখের বোল ফোটে না। পরশুদিনও হাবড়ায় একজন মারা গেছেন। তাঁকে মহারাষ্ট্রে মারা হয়েছিল। ২২ লক্ষ বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক যারা কাজ ভাল করে। তাঁদের ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের স্কিল আছে, তাঁদের গুণ আছে।
অন্যদিকে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা চালাতে চাইছে। এই প্রক্রিয়ার ফলে বাংলার বহু প্রকৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি শাসকদলের। তাই তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধেও বিধানসভায় প্রস্তাব এনে আলোচনার আয়োজন করা হবে।
বিধানসভার সচিবালয় সূত্রে খবর, সোমবার প্রথম দিনে শোকপ্রস্তাব গ্রহণের পর অধিবেশনের কাজ মুলতবি রাখা হবে। মঙ্গলবার আনবে বাংলাভাষী মানুষ ও পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রস্তাব। বুধবার করম পুজোর ছুটির কারণে অধিবেশন বসবে না। বৃহস্পতিবার শেষ দিনে আনা হবে নিবিড় সমীক্ষা প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রস্তাব।
তৃণমূলের এক পরিষদীয় সদস্য জানিয়েছেন, আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাঙালি অস্মিতার অস্ত্রে শান দিতে চান মুখ্যমন্ত্রী। তাই রাজপথে বাংলা ও বাঙালির উপর আক্রমণের বিরুদ্ধে তিনি যেমন লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য দলকে নির্দেশ দিয়েছেন, তেমনই প্রশাসনিক ভাবে বিষয়টি লিপিবদ্ধ করতে বিধানসভার অধিবেশন ডেকে তা কার্যকর করতে চান।
অন্যদিকে, বিজেপি শিবির কার্যবিবরণী কমিটির বৈঠক শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান গোপন রেখেছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দলের বিধায়কদের নির্দেশ দিয়েছেন এখনই এই বিষয়ে মুখ না খুলতে। তবে তৃণমূলের আনা প্রস্তাবের পাল্টা দিতে তারা প্রস্তুত।
সব মিলিয়ে এই বিশেষ অধিবেশনকে ঘিরে রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন উত্তাপ দেখা দিয়েছে।