প্রিয়াঙ্কা মান্না। কলকাতা সারাদিন।
সন্দেশখালিতে তিন বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনায় এবার CBI তদন্তের নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের। সোমবার সন্দেশখালিতে তিন বিজেপি কর্মী খুনে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত।
২০১৯ সালের ৮ জুন উত্তর ২৪ পরগনার দ্বীপাঞ্চল সন্দেশখালিতে নৃশংসভাবে খুন হন দেবদাস মণ্ডল, সুকান্ত মণ্ডল ও প্রদীপ মণ্ডল। এই খুনের মামলায় অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত শেখ শাহজাহান। এই মামলায় এবার CBI-এর যুগ্ম অধিকর্তাকে সিট গঠন করে তদন্তের নির্দেশ আদালতের।
সন্দেশখালিতে ২০১৯ সালের ৮ জুন নৃশংসভাবে পিটিয়ে-গুলি করে খুন করা হয়েছিল। নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ প্রাথমিকভাবে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। পরে ব্যবস্থা নিলেও সেটাও লোকদেখানো ছিল বলে অভিযোগ তোলে বিজেপি। প্রাথমিকভাবে পুলিশ এমনভাবে মামলা সাজায় যে অভিযুক্তরা মামলা থেকে রেহাই পেয়ে যায় বলে দাবি নিহতদের পরিবারের।
নিম্ন আদালতে এই মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন ছিল। শেষমেশ ২০২৪ সালে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়। ততক্ষণে গ্রেফতার হয়ে গিয়েছিলেন সন্দেশখালিতে খুনে মূল অভিযুক্ত শেখ শাহজাহান। নিহতের পরিবারের আইনজীবীরা আদালতে পুলিশের বিরুদ্ধে গুচ্ছ-গুচ্ছ অভিযোগ তোলেন।
নিহতদের পরিবারের অভিযোগ খতিয়ে দেখে উচ্চ আদালত। আজ কলকাতা হাইকোর্ট এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার যুগ্ম অধিকর্তাকে সিট গঠন করে সন্দেশখালিতে বিজেপি কর্মীদের খুনের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে সন্দেশখালির ভাঙ্গিপাড়া গ্রামে রাজনৈতিক রেষারেষির আগুন ধিকিধিকি জ্বলছিল। ৮ জুন সেই আবহে সন্দেশখালিতে দু’জন বিজেপি কর্মী ও একজন তৃণমূল কর্মী খুনের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজ্য-রাজনীতি। বিজেপি ও তৃণমূলের সংঘর্ষে প্রাণ যায় তিনজনের। দুই বিজেপি কর্মী প্রদীপ মণ্ডল ও সুকান্ত মণ্ডলকে গুলি করে খুন করা হয়। মাথায় গুলি লেগে মৃত্যু হয় কায়ুম আলি মোল্লা নামে এক তৃণমূল কর্মীরও।
বিজেপি কর্মীর পরিবারের সদস্য দেবদাস মণ্ডল নিখোঁজ ছিলেন। মৃতদের পরিবারের তরফে ন্যাজাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয় সে সময়। শাহজাহানের নাম দিয়েই অভিযোগ করা হয়েছিল। পরে মামলা সিআইডি হাতে নেয়। আদালতে যখন চার্জশিট পেশ হয়, তখন দেখা যায় শাহজাহানের নামটিই বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছর ৫ জানুয়ারি তল্লাশিতে গিয়ে সন্দেশখালিতে শেখ শাহজাহানের দলবলের হাতে ইডি অফিসারদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় এখন গ্রেফতার হয়ে জেল হেফাজতে রয়েছেন শাহজাহান। জামিনের শুনানি চলছে হাইকোর্টে। সেই আবহেই এবার তাঁর বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত শুরু করতে চলেছে।