সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
বাংলা রাজনীতিতে ফের নতুন বিতর্ক। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের একটি কর্মসূচির ছবি ঘিরে এবার সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সরকারি এক্স হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সুকান্ত মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করছেন। তাঁর একেবারে সামনের মেঝেতে রাখা রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছবি। তৃণমূলের অভিযোগ— বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে বাঙালি মনীষীদের অসম্মান করছে।
পোস্টে লেখা হয়েছে, “আমরা সবসময় রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্কিমচন্দ্রকে মাথার উপরে রাখি, আর বিজেপি রাখে পায়ের নীচে।” তৃণমূলের দাবি, বিজেপির এই আচরণই প্রমাণ করে যে তারা বাংলা-বিরোধী।
এই ইস্যুতে দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ, টিএমসিপি নেতা সুদীপ রাহাও-সহ একাধিক তৃণমূল নেতা সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছেন। তাদের বক্তব্য, বিশ্বকবি ও বঙ্কিমচন্দ্রের মতো মনীষীদের অসম্মান বাঙালির সংস্কৃতির উপর আঘাত।
তবে বিজেপির পক্ষ থেকে সুকান্ত মজুমদার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, “তৃণমূল ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। ওই ছবিতে দেখা যাচ্ছে আমি মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছি আর ছবি রাখা ছিল একেবারে সামনের অংশে। ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল এমন ভাবে নেওয়া হয়েছে যাতে মনে হচ্ছে ছবিগুলো আমার পায়ের কাছে। কিন্তু বাস্তবে দূরত্ব অনেকটা ছিল। ব্যারাকপুরের মানুষ ও উপস্থিত সাংবাদিকরা সবকিছু দেখেছেন।”
তিনি আরও কটাক্ষ করে বলেন, “এই ছবিকে সঠিকভাবে বুঝতে হলে থ্রি-ডি ভিউ দরকার। কুণাল ঘোষ সেটা বোঝেন না। চাইলে তাঁর ছেলে যিনি আইআইটিতে পড়াশোনা করেছেন, তাঁর কাছে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২১ সালের বিধানসভা ও ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের মতোই ২০২৬ সালের নির্বাচনে তৃণমূল আবারও বাঙালি অস্মিতাকে হাতিয়ার করতে চাইছে। সম্প্রতি মালদহের টিএমসিপি নেতা এবি সোহেলের ঘটনায় তৃণমূল অস্বস্তিতে পড়েছিল। অমিত শাহের ছবিতে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে ভুল করে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিও পুড়িয়ে ফেলেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রতিবাদে মিছিল করেন।
পরিস্থিতি সামলাতে দ্রুত টিএমসিপি ওই ছাত্রনেতাকে বহিষ্কার করে এবং পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। কিন্তু মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাল্টা আক্রমণ শুরু করল তৃণমূল। বিজেপিকে আক্রমণ করে দলটি এবার রবীন্দ্রনাথ-বঙ্কিমের ছবির প্রসঙ্গ সামনে আনল।
অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, “যারা রবীন্দ্রনাথের ছবি পুড়িয়েছে, তারাই এখন আবার আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। এটা আসলে নিজেদের পাপ ঢাকার চেষ্টা।”

সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলি ইঙ্গিত করছে, বাংলা রাজনীতিতে আগামী দিনে সংস্কৃতি ও পরিচয়ের রাজনীতি আরও তীব্র আকার নিতে চলেছে। একদিকে বিজেপি নিজেদের জাতীয়তাবাদী ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চাইছে, অন্যদিকে তৃণমূল বাঙালি গৌরব ও মনীষীদের সম্মান রক্ষার বিষয়কে সামনে আনছে।
ফলে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে ‘TMC vs BJP Rabindranath Bankim controversy’ নিঃসন্দেহে বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে উঠতে চলেছে।