সুমন তরফদার। কলকাতা সারাদিন।
এই জিএসটি কাঠামোর পরিবর্তনের জন্য রাজ্যের ২০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। সেই ক্ষতিপূরণ কি কেন্দ্র দেবে? এভাবেই আজ মহালয়ার পরের দিন অর্থাৎ প্রথমাতে দক্ষিণ কলকাতার একাধিক পুজো উদ্বোধন করতে বেরিয়ে আরো একবার কেন্দ্রের মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার থেকেই জিএসটি পরিকাঠামোর পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। ফলে এদিন থেকে নয়া দামে জিনিসপত্র বিক্রি হওয়া শুরু হয়েছে দেশ জুড়ে। কিন্তু তা সত্ত্বেও দেখা গিয়েছে, বহু দোকানদার এখনও পুরনো দামেই জিনিস বিক্রি করছে, এই নিয়ে নানা অভিযোগও আসছে। সেই প্রসঙ্গে খিদিরপুর ২৫ পল্লীর পুজো উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বড় বড় ভাষণ দিয়ে যাচ্ছে! রাজ্যের ১০০ দিনের কাজের টাকা বাকি, আবাসের টাকা দেয় না, সর্বশিক্ষা মিশনের টাকা দেয় না। এবার ২০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হল এই জিএসটি সংস্কারের জন্য। তা সত্ত্বেও আমরা বিষয়টিকে স্বাগত জানাচ্ছি কারণ এতে সাধারণ মানুষের সুরাহা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে প্রথমে খিদিরপুর ২৫ পল্লী পুজো মণ্ডপের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। পুজো উদ্বোধনের মাঝেই জিএসটি রেট নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, তিনিই প্রথম স্বাস্থ্য বিমার উপর থেকে জিএসটি তুলে নেওয়ার আর্জি জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন কেন্দ্রকে। ফলে বাংলার দীর্ঘদিনের দাবিকেই অবশেষে বাস্তবায়িত করেছে জিএসটি কাউন্সিল। এতে কেন্দ্রের কোনও কৃতিত্ব নেই, বরং সমস্ত ক্রেডিটই রাজ্যের।
এদিন দুপুরে খিদিরপুর ২৫ পল্লীর দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করেন তিনি। সেই মঞ্চ থেকেই ফের একবার জিএসটি নিয়ে কেন্দ্র যেভাবে কৃতিত্ব নিচ্ছে তা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, চিঠি লিখে প্রথম আমি দাবি করেছিলাম বিমা থেকে জিএসটি তুলে নেওয়া উচিৎ। এজন্য কেন্দ্রীয় সরকারের এক পয়সাও খরচ হয়নি। সব টাকা গিয়েছে রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে। মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষ করে বলেন, এই জিএসটি হ্রাসে সেন্ট্রাল গর্ভমেন্টের কোনও ক্রেডিট নেই। আমিই প্রথম ইনসিওরেন্স থেকে জিএসটি তোলার দাবি তুলেছিলাম। রান্নার জিরেতে জিএসটি, হিরেতে নয় এটাই তো এদের ন্যায়বিচার! জীবনদায়ী ওষুধেও কর বসানো হয়েছে। আমাদের প্রতিবাদেই জিএসটির নিয়মে বদল আনতে বাধ্য হয়েছে।
জিএসটি কমিয়ে ক্রেডিট নিতে চাইছেন একজন। খিদিরপুর ৭৪ পল্লির পুজো উদ্বোধনে গিয়ে জিএসটি নিয়ে কার্যত নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সরাসরি বলেন এর পিছনে কেন্দ্রের কোনও ক্রেডিট নেই, তিনিই প্রথম দাবি তুলেছিলেন। একজন ক্রেডিট নিচ্ছেন, আত্মনির্ভরতার কথা বলছেন, অথচ রাজ্যের টাকা ফেরত দিচ্ছেন না। ১০০ দিনের কাজ থেকে আবাস সবই বন্ধ। ২০ হাজার কোটি টাকা রাজ্যের ক্ষতি হয়েছে। প্রশ্ন তুলেছেন সংসার চলবে কি করে।

মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা জিএসটি কমানোয় কেন্দ্রের কোনও ক্রেডিট নেই। তিনি প্রথম ইনসিওরেন্স থেকে জিএসটি তোলার দাবি তুলেছিলেন। প্রশ্ন তুলেছিলেন রান্নার জিরেতে জিএসটি আর হিরেতে নয়, এটা কি করে ন্যায়বিচার হতে পারে? জীবনদায়ী ওষুধেও কর বসানো হয়েছে। শেষে তিনি বলেছেন বিভিন্ন পণ্যে জিএসটি কমায় মানুষের সুবিধে হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তার কৃতিত্ব নেওয়ার কোনও অধিকার নেই কেন্দ্রের।