শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
‘বাংলায় ডিটেনশন ক্যাম্পের কোনো প্রয়োজন হবে না। আমরা বাংলাদেশী মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের তাড়িয়ে দেব।’ নদীয়ার কৃষ্ণনগর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় কোন ডিটেনশন সেন্টার তৈরি করা হবে না বলে যে ঘোষণা করেছিলেন তার পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের বাংলা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার নদীয়ার কৃষ্ণনগরের সভা মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এসআইআর-এর মাধ্যমে, ওরা মহিলাদের অধিকার কেড়ে নিতে চায়। নির্বাচনের সময়, তারা কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করে মহিলাদের ভয় দেখাতে চায়। যদি তোমাদের নাম বাদ দেওয়া হয়, তাহলে লড়াই করার শক্তি কি তোমাদের আছে? মহিলাদের এই লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিতে হবে এবং পুরুষদের পেছন থেকে লড়তে হবে। আমি দেখতে চাই আমাদের মহিলারা বেশি শক্তিশালী নাকি বিজেপি। আমি এখানে ভোট চাইতে আসিনি। আমি এখানে এসেছি আপনাদের ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করার জন্য অনুরোধ করতে। দিল্লি থেকে বিজেপি ডিএম-দের উপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য লোক পাঠাচ্ছে, যাতে ভোটার তালিকা থেকে ১.৫ কোটি নাম বাদ দেওয়া যায়। যদি কোনো নাম ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়, আমি ধর্নায় বসব। আমি আপনাদেরও একই কাজ করার জন্য অনুরোধ করছি।’
এসআইআর নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায়, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা আরও ঘোষণা করেন যে এই রাজ্যে একজনও বাংলাদেশী মুসলিম থাকবে না এবং শুধুমাত্র ভারতীয়রা, তারা হিন্দু বা মুসলিম যাই হোক না কেন, পশ্চিমবঙ্গে বাস করবে। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘বাংলায় ডিটেনশন ক্যাম্পের কোনো প্রয়োজন হবে না। আমরা বাংলাদেশী মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের তাড়িয়ে দেব… প্রত্যেক ভারতীয় এখানে থাকবে, সে হিন্দু হোক বা মুসলিম, কিন্তু একজনও বাংলাদেশী মুসলিম এখানে থাকবে না। এখানে ডিটেনশন ক্যাম্পের কোনো প্রয়োজন নেই।’

অন্যদিকে, গীতাপাঠের দিন ব্রিগেড চিকেন প্যাটিস কাণ্ডে ধৃত ৩ জন (সৌমিক গোলদার, স্বর্ণেন্দু চক্রবর্তী, তরুণ ভট্টাচার্য) জামিন পাওয়ার পর বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁদের বরণ করেন। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘হিন্দু-বিরোধী’ এবং পুলিশকে ‘মুসলিম লিগের পুলিশ’ বলে আক্রমণ করেন। তিনি ওই ৩ জনের বাড়িতে সিসিটিভি এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী নিযুক্ত করারও ঘোষণা করেন।