শোভন গায়েন। কলকাতা সারাদিন।
বাংলায় এসআইআর অবশ্যই হবে। আমরা চাই যত দ্রুত সম্ভব এই রাজ্যে নির্বাচন যেন শুরু হয়। মমতা তথা তৃণমূলের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও বাংলায় এসআইআর হবেই বলে হুঁশিয়ারি দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার দিল্লিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিইও-র সঙ্গে এসআইআর নিয়ে বৈঠক সারলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর আগামী ১-২ মাসের মধ্যেই শুরু হতে পারে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনী। কিন্তু চলতি মাসের শেষ থেকেই বাংলায় শুরু হচ্ছে উৎসবের মরসুম। দুর্গাপুজো, লক্ষ্ণীপুজো, কালীপুজো একের পর এক অনুষ্ঠান তালিকায় থাকবে। ফলে এসআইআর শুরুর দিনক্ষণ ভেবেচিন্তে রাখার আবেদন বিজেপি শিবিরের। এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আমাদের শুধু একটাই আর্জি, সামনে দুর্গাপুজো। ফলে এই উৎসব-অনুষ্ঠানের বিষয়টি মাথায় রেখে যেন এসআইআরের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া আমাদের আর কোনও চিন্তার বিষয় নেই।
এদিকে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ-সহ গোটা দেশে এ বার শুরু হবে ভোটার তালিকার নিবিড় ও বিশেষ সংশোধন (এসআইআর)-এর কাজ। আলোচনা, গুঞ্জন আগে থেকেই চলছিল। এ বার তাতে সিলমোহর দিয়ে দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আগামী মাসে, অর্থাৎ অক্টোবরে পুজোর মরসুমের পরেই দেশ জুড়ে শুরু হচ্ছে এসআইআর। আগামী ২ অক্টোবর দুর্গাপুজো শেষ হচ্ছে। এর পরে রয়েছে লক্ষ্মীপুজো, কালীপুজো। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, পুজোর মরসুম মিটে গেলেই দেশ জুড়ে এসআইআর শুরু করছে তারা। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রস্তুতি শেষ করতে হবে সব রাজ্যকে। অক্টোবরে এ ব্যাপারে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হতে পারে। দিল্লিতে কমিশনের পক্ষ থেকে এদিনের বৈঠকে সমস্ত রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি শেষ করতে হবে।
তবে দেশজুড়ে একযোগে এই প্রক্রিয়া চালু হবে নাকি যেসব রাজ্যে আগামিবছর বিধানসভা ভোট রয়েছে, সেখানে আগে শুরু হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পাঁচ রাজ্য—পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, অসম, কেরল ও পন্ডিচেরি—আগামী বছরে ভোট, ফলে এই রাজ্যগুলিতে এসআইআর আগে চালু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে প্রক্রিয়া শুরু হলে তা যে রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে পড়বে, তা আগেভাগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিহারের পরে অন্য রাজ্যগুলিতেও যে এসআইআর শুরু হবে, সে বিষয়ে আগেই আভাস দিয়ে রেখেছিল কমিশন। তবে দিনক্ষণ এ যাবৎ স্পষ্ট ছিল না। এ বার কমিশন তা-ও স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিল।