রফিকুল আলম। কলকাতা সারাদিন।
‘বাধা যতই আসুক, সেই বাধাকে আমরা অতিক্রম করবো। আল্লাহ আমার পাশে আছেন। বাবরি মসজিদ হবেই। বাংলা বা ভারতের কোনো শক্তির ক্ষমতা নেই যে এই নির্মাণ রুখে দেয়।’ এভাবেই বুধবার মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গায় বাবরি মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু করে তার সমালোচকদের উদ্দেশ্যে হুংকার দিলেন তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের একবার স্বমহিমায় ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। বুধবার মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের নির্মাণের সূচনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। একইসঙ্গে নিজের পরিবারকে ‘টার্গেট’ করার অভিযোগে সরব হলেন জেলা পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে।
তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে মোকাবিলা করতে না পেরে তাঁর পরিবার ও আত্মীয়দের ওপর প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে প্রশাসন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ২২ তারিখ তিনি নতুন দল ঘোষণা করার পরেই চক্রান্ত শুরু হয়েছে। বিধায়কের কথায়, ‘লালগোলার ওসি, সিআই এবং ভগবানগোলার এসডিপিও বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে গিয়ে আমার মেয়ে, জামাই, নাতনি এবং বেয়াই-বেয়ানকে ফ্রিজ নোটিশ ধরিয়েছে। তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা চলছে।’ এই গোটা প্রক্রিয়ার পিছনে মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার এবং সানি রাজের নির্দেশ রয়েছে বলে সরাসরি তোপ দাগেন তিনি।
সম্প্রতি, মুর্শিদাবাদে তাঁর মেয়ের শ্বশুরবাড়ির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। ১০ কোটি ৭৩ লক্ষ ৭৫ হাজারের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।একাধিক মাদক মামলা রয়েছে ওই পরিবারের বিরুদ্ধে। তবে হুমায়ুনের দাবি, মেয়ে ও তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে ফাঁসাচ্ছে পুলিশ। বিধায়কের সোজাসাপ্টা হুঁশিয়ারি, ‘এসপি মুর্শিদাবাদ ও ওসি লালগোলার হাত মুচড়ে দেব…।’ হুমায়ুন বলেন, ‘বহরমপুরে ১৪ তারিখ বেলা এগারোটা থেকে ১টা পর্যন্ত এসপিকে রাস্তায় ঘিরে রাখব। দিল্লি আর কলকাতায় মুভ করব। এরা যোগসাজশ করেছে সেটা প্রমাণ। আমার বেয়ান, জামাই, মেয়েকে ফাঁসিয়েছে। লালগোলার ওসি অতনু দাস, এসডিপিও, হেনস্থা করেছে। এসপি মুর্শিদাবাদ ও ওসি লালগোলার হাত মুচড়ে দেব…। ১৪ তারিখ ওর বাবার ক্ষমতা থাকলে আমার মোকাবিলা করুক।’

২০২৫ সালের মার্চ মাসের একটি মাদক মামলায় অভিযোগ ওঠে হুমায়ুন কবীরের মেয়ের শ্বশুর ও তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে। মাদক মামলায় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ পেয়েই সক্রিয় হয় পুলিশ। গত সোমবার ওই বাড়ির সামনে দেখা যায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছিলেন, যাঁরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ও মাদক ব্যবসার টাকা অন্যত্র জমা রেখেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।