কলকাতা সারাদিন বিশেষ প্রতিবেদন।
বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘন্ট ঘোষণা হতে পারে যে কোনদিন। তার আগেই একদিকে যখন সিপিএম বিজেপি এবং কংগ্রেস এখনো ছন্নছাড়া অবস্থায় রয়েছে সেই সময় দাঁড়িয়ে বাংলার ২৯৪ বিধানসভা কেন্দ্রেই প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে এবারে বাংলার বিধানসভা নির্বাচন যথেষ্ট শক্ত হবে বলে এখন থেকেই একুশের বিধানসভা নির্বাচনের বিজয়ী বেশ কয়েকজন বিধায়কের নাম বাতিলের খাতায় ফেলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতা এবং অভিষেক। তার মধ্যেই রয়েছেন সোনারপুর দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়িকা অভিনেত্রী লাভলী মৈত্র।
সোনারপুর দক্ষিণের বিধায়ক লাভলী মৈত্র ওরফে অরুন্ধতী মৈত্র একুশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার ঠিক আগে কার্যত ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি নিয়েছিলেন তৃণমূলে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লাভলী কে সোনারপুর দক্ষিণের মতো বরাবর তৃণমূলের বিশ্বাসযোগ্য আসনে নিরাপদ ভাবে বিধানসভায় পৌঁছে যাওয়ার পথ তৈরি করে দিলেও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব রিপোর্ট কার্ড দেখে একেবারেই সন্তুষ্ট নয়। কারণ যে সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র তৃণমূলের সবথেকে খারাপ সময়েও তৃণমূলের সঙ্গ ছেড়ে যায়নি সেখানেই এখন প্রত্যেকটি পাড়ায় পাড়ায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আর প্রোমোটার রাজের রমরমা। যেখানেই কান পাতা যাচ্ছে সেখানে এই শোনা যাচ্ছে, প্রত্যেকটি ঘটনার পিছনে নাকি রয়েছেন সোনারপুর দক্ষিণের বর্তমান বিধায়ক।
সিপিএম আমলেও ২০১১ সালে সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পরপর দুবার জিতে এসেছিলেন অধ্যাপক জীবন মুখোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত গুডবুকে থাকা জীবন মুখোপাধ্যায় মৃত্যুর আগে পর্যন্ত বারে বারে অপমানিত হয়েছেন বর্তমান বিধায়ক লাভলী মৈত্রের কাছে।। আবার এলাকায় উন্নয়নের কাজকর্ম প্রায় কিছুই হয়নি বলে রিপোর্ট জমা পড়েছে কালীঘাটে। এই পরিস্থিতিতে ধর্মতলার ধরনামঞ্চে অন্যান্য বিধায়ক এবং সাংসদদের পাশাপাশি নিজের নম্বর বাড়ানোর জন্য সোনারপুর দক্ষিণের বিধায়ক লাভলী মৈত্র পৌঁছে গেলেও মঞ্চের উপরেই নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সটান লাভলী মৈত্রকে জানিয়ে দেন, এবারের সোনারপুর দক্ষিনে তোমায় প্রার্থী করছি না। মমতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গিয়েছে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এই কথা শোনার পরে রীতিমতো হাতজোড় করে নাকি কাকুতি মিনতি করেন লাভলি, যেভাবেই হোক এবারের বিধানসভা নির্বাচনে অন্তত সোনারপুর থেকে প্রার্থী হতে চান তিনি। কিন্তু তাতে মন গলে নি মমতা অথবা অভিষেকের।
তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক এবং সাংসদের সূত্রে জানা গিয়েছে মমতার এই তিরস্কারের পরেই নাকি ধর্মতলার মঞ্চের পেছনে কার্যত দৌড়ে গিয়ে হাউ হাউ করে কেঁদে ফেলেন লাভলী মৈত্র। যদিও গোটা ঘটনার সত্যতা অথবা কোন তথ্য প্রমাণ কলকাতা সারা দিনের কাছে নেই। তবে ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গিয়েছে সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এবারে তৃণমূল প্রার্থী করতে চায় রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড রয়েছে এবং শিক্ষিত ও মাফিয়ারাজকে প্রশ্রয় দেবেন না এমন কোন ব্যক্তিত্বকে।
এই পরিস্থিতিতে সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে লাভলীর পরিবর্তে মমতা ও অভিষেকের সামনে রয়েছে দুটি নাম। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বর্তমান জেলা সভাপতি তথা আইনজীবী শুভাশিস চক্রবর্তী এবং সোনারপুরের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বলে পরিচিত তথা সোনারপুরের ভূমিপুত্র পার্থসারথি গাঙ্গুলীকে সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভার টিকিট দেওয়ার বিষয়ে ভাবনা চিন্তা করছেন মমতা ও অভিষেক।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে এখনো পর্যন্ত পাল্লা ভারী বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ পার্থসারথি গাঙ্গুলির। একদিকে যেমন সোনারপুরের ভূমিপুত্র তিনি ঠিক তেমনভাবেই দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় তৃণমূলের সংগঠন সাজানোর কাজ করেছেন নিরবে। এছাড়াও এলাকায় শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষার প্রসারে তার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের কাছেও অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য নাম পার্থসারথি গাঙ্গুলী।
তবে অন্যদিকে মমতার ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা শুভাশিস চক্রবর্তী আগে রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন এবং পরবর্তীকালে দক্ষিণ 24 পরগনার তৃণমূল জেলা সভাপতি হিসেবে ও কাজ করে চলেছেন।। তবে শুভাশিসের ক্ষেত্রে একদিকে যেমন মমতার বিশ্বাসভাজন হওয়া অত্যন্ত সদর্থক দিক পাশাপাশি তার ক্ষেত্রে নেগেটিভ দিকটি হল তিনি শক্ত হাতে লাভলি মৈত্র এবং তার সঙ্গে থাকা সোনারপুরের কয়েকজন কাউন্সিলর কে সঠিকভাবে দলীয় নিয়ম-নীতি মেনে চলতে বাধ্য করতে পারেননি। চারিত্রিকভাবে কিছুটা নরম স্বভাবের শুভাশিস শক্ত হাতে সোনারপুরের হাল ধরতে পারবেন কিনা তা নিয়ে একটু সংশয় রয়েছে কালীঘাটের।

অন্যদিকে লাভলি মৈত্র ে যদি একান্তই এবারে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় জায়গা পান তাহলে হয়তো দক্ষিণ ২৪ পরগনার একেবারে প্রত্যন্ত আরেক গোষ্ঠীকোন্দলে দীর্ণ গোসাবা থেকে প্রার্থী হতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।