শৌনক মন্ডল। কলকাতা সারাদিন।
‘বাংলা ও বিহার ভাগ করে নাকি কেন্দ্রশাসিত করবে, করতে দেব না।’ পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের কয়েকটি জেলা নিয়ে নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরি করার পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বলে অভিযোগ করে শনিবার ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে কেন্দ্রের মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সম্প্রতি, কয়েকটি রাজ্যে রাজ্যপাল ও লেফটেন্যান্ট গভর্নর বদল করেছে কেন্দ্র। রাতারাতি বাংলার রাজ্যপাল পদে ইস্তফা দিয়ে নিজের রাজ্যে ফিরে গিয়েছেন সিভি আনন্দ বোস। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হয়েছেন আরএন রবি। এছাড়াও, বিহারে আরিফ মহম্মদের জায়গায় এসেছেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেনান্ট জেনারেল সৈয়দ আটা হাসনাইন। এই দুই নিয়োগ নিয়েই যাবতীয় জল্পনার সূত্রপাত হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন এই দুই নিয়োগের পিছনে কেন্দ্রের কোনও পরিকল্পনা রয়েছে।
তার রেশ ধরেই কেন্দ্রের মোদি সরকার বঙ্গভঙ্গ করতে চাইছে বলে অভিযোগ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ বলেন, ‘বাংলা ও বিহারকে ভাগ করে নাকি ইউনিয়ন টেরিটোরি করবে। আরে বাংলায় হাত দিয়ে দেখো। ওদের ধান্দা হচ্ছে বাংলাকে ভাগ করা। আবার একটা বঙ্গভঙ্গ করা। বিহারকে একবার ভাগ করেছে। বিহার থেকে ঝাড়খণ্ড হয়েছে। আবার বিহারকেও ভাগ করার চেষ্টা করছে। ডাবল ইঞ্জিন সরকার যেখানেই থাকবে সেখানেই লুটেপুটে খাবে। এটাই ওদের কাজ। করছে লুট, বলছে ঝুট।’
ধরনা মঞ্চে ভবানীপুরের ‘ভূত’

শুক্রবারই বলেছিলেন ভবানীপুরে বাদ যাওয়া বৈধ ভোটারদের সামনে আনবেন। আজ, শনিবার ধর্মতলার ধরনা মঞ্চে ভবানীপুরের ভূত হাঁটালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার বক্তব্য, ‘বিজেপি ও কমিশন সাধারণের ভোটাধিকার কাড়ছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়কে অমান্য করছে।’ মমতার তোপ, নটি বিজেপি, ন্যাস্টি বিজেপি পক্ষপাতদুষ্ট কমিশনকে কাজে এই কাজ করছে। কেউ লড়াই না করলে, বাংলা লড়াই করবে।’
‘বাড়াবাড়ি করলে দিল্লির সরকার ফেলে দেব’
ধরনা মঞ্চ থেকে ফের এসআইআর নিয়ে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি আদালতের কাছে তাঁর অনুরোধ ‘মানুষকে বিচার দিন’। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিচারকদের কাছে অনুরোধ সাধারণ মানুষকে বিচার দিন। জুডিশিয়ারিকে আমার বিনীত অনুরোধ। আপনারা বিচার দিন মানুষের। মহিলা কৃষক মতুয়া রাজবংশী সংখ্যালঘু সবার নাম কাটছেন। বিজেপি জিতবে না। মহিলা ভোটার, কৃষক, মতুয়া, রাজবংশী সবার নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলা কিন্তু তৈরি আছে। নোংরা খেলা খেললে বাংলা রেগে আছে, মানুষের স্বার্থে, মনে রাখুন দিল্লী বেশি দূরে নয়। মানুষকে বিচার দিন। এটাই আমার একান্ত অনুরোধ। সবাইকে বিচার দিন, বিচারকদের কাছে অনুরোধ।’ এরপরেই বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দেন মমতা। তিনি বলেন, ‘বিজেপি সাবধান। ভোট কেটে বাংলাকে করা যাবে না বিভাজন। বাংলা লড়াই করছে, করবে, করতে জানে। বেশি কিছু করলে তোমার দিল্লি সরকার ফেলে দেব, যাও।’

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে হাতাখুন্তি মিছিল
ধর্মতলার ধরনা মঞ্চে দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ শনিবার সকাল থেকেই মধ্যরাতে গ্যাসের দাম বিপুল পরিমাণে বাড়ানোর প্রতিবাদে দফায় দফায় সরব হন মমতা। রীতিমতো হুঙ্কারের সুরে বললেন, ‘গতকাল ৬০ টাকা গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। তার আগে তিনদিন আগে ৪৯ টাকা গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। বড় সিলিন্ডাররে দাম ২১০০ টাকা হয়ে গিয়েছে। আর ছোট সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার টাকা হয়ে গিয়েছে। বলছে ২১ দিন আগে থেকে বুক করতে হবে। যার বাড়িতে গ্যাস শেষ হয়ে যাবে সে কী ২১ দিন রান্না না করে থাকবে? এগুলো আপনাদের আগে মাথায় থাকে না? খাবে কী মানুষের?’ দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ফের একবার রাস্তাতেও নামতে চলেছেন মমতা। ধরনা মঞ্চ থেকে সেই ঘোষণাও করেন। মিছিল হবে একেবারে হাতা-খুন্তি নিয়ে। সমাজের সবস্তরের মহিলাদের মিছিলে আহ্বান জানিয়ে ধরনা মঞ্চ থেকেই মমতা বলেন, ‘কালকে মিছিল হবে। গ্যাস নাই, রান্না নাই। গ্যাস নাই, খাবার নেই।সেই জন্য হাঁড়ি, কড়াই, বাটি, ঘটি, হাতা, খুন্তি দিয়ে প্রতিবাদ মিছিল হবে আন্তর্জাতিক মহিলা দিবসে। মানবতাকে পালন করার জন্য কাল মা বোনেরা রাস্তায় নামুন, প্রতিবাদ করুন। প্রয়োজনে কালো শাড়ি পরুন। আর হাতে এইসব রাখবেন। গ্যাসের ওভেনও পারলে কেউ নিয়ে আসবেন। পারলে কাঁচা আনাজও ঝুড়িতে আনবেন।’ প্রসঙ্গত, এদিন নতুন করে দাম বাড়ার পর থেকে কলকাতায় ১৪.২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে দিতে হবে ৯৩৯ টাকা। অন্যদিকে হোটেল, রেস্তরাঁর রান্নায় ব্যবহৃত ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাসের সিলিন্ডার পিছু দাম হবে ১৯৯০ টাকা।